বাজেট পাশ করাতে এটা কী করলেন তৃণমূল প্রধান!

দল পাশে নেই। তাই বাজেট পাশ করাতে পদ্ম শিবিরের সমর্থন নিলেন পঞ্চায়েত প্রধান কেতাবুদ্দিন শেখ। আর সাগরদিঘির বালিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের এই ঘটনায় অন্য রাজনৈতিক সমীকরণের গন্ধ পাচ্ছেন অনেকেই।

দীর্ঘ দিন ধরে সাগরদিঘিতে তৃণমূল বিধায়ক সুব্রত সাহার গোষ্ঠীর সঙ্গে পঞ্চায়েত প্রধান কেতাবুদ্দিন শেখের গোষ্ঠীর বিবাদ চলছে। বিষয়টা এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, সুব্রত সাহার বিরুদ্ধে খোদ তৃণমূল নেত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে বিরোধী শিবির।

বালিয়ায় ১৭ সদস্যের ওই গ্রাম পঞ্চায়েতে বর্তমানে তৃণমূলের সদস্য সংখ্যা ১১। বিজেপির ৬। পঞ্চায়েত সমিতির ২ জন তৃণমূলের ও ১ জন বিজেপির।বুধবার, সাধারণ সভায় ২০ জন সদস্যের মধ্যে প্রধান ছাড়া তৃণমূলের ১০ সদস্যই অনুপস্থিত ছিলেন। তাই বাজেট পাশ করাতে পঞ্চায়েত সমিতির ৩ সদস্য এবং বিজেপির ৬ গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যের সমর্থন নেন তৃণমূল প্রধান। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন, তবে কি জোড়াফুল ছেড়ে পদ্মে যাচ্ছেন পঞ্চায়েত প্রধান?

তবে, কেতাবুদ্দিন শেখের দাবি, “বিজেপিতে যাওয়ার প্রশ্নই নেই”। প্রধানের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নমূলক কাজকে পন্ড করে দিতে চাইছেন তৃণমূলের সাগরদিঘির বিধায়ক সুব্রত সাহা ও তাঁর অনুগতরা। সেই জন্যই পঞ্চায়েতের বাজেট সভাকেও ভেস্তে দিতে চেয়েছেন।

তবে যে বিধায়কের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাঁর মন্তব্য, এ সব তিনি নন, প্রতিক্রিয়া দেবেন পঞ্চায়েত সদস্যরাই। তৃণমূল সদস্য বিমল দাসের অভিযোগ, দলের কারও কথা শোনেন না পঞ্চায়েত প্রধান। বাজেট পিছোতে বলা হয়েছিল, শোনেননি। তাই তাঁরা যাননি।

আবার প্রধান জানান, প্রশাসনের নির্দেশ ছিল পুজোর ছুটির আগে সাধারণ সভা ডেকে বাজেট পাশ করাতে। না হলে পঞ্চায়েতের সব উন্নয়ন আটকে যাবে। বিরোধী হলেও বিজেপির সদস্যরা এটা বুঝেই বাজেট পাশ করাতে সাহায্য করেছেন। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই।

এবিষয়ে ওই পঞ্চায়েতের বিজেপির দলনেতা উত্তম দাস বলেন, উন্নয়ন বন্ধ হয়ে যাবে বলেই তাঁরা বাজেট পাশে তৃণমূলকে সমর্থন করেছেন।

ব্লক অফিস সূত্রে খবর, সাধারণ সভার মোট সদস্যের অর্ধেক উপস্থিত থাকলেই সভা বৈধ। আর পঞ্চায়েতে একবার বাজেট পাশ হয়ে গেলে দ্বিতীয়বার আর বাজেট সভা করা যায় না। কিন্তু বাজেট পাশ হলেও, তা কার্যকর করতে যদি দলীয় কর্মীদের সমর্থন না পান, তাহলে কতটা এগোতে পারবেন কেতাবুদ্দিন? তা নিয়ে সন্দিহান এলাকার মানুষ।

আরও পড়ুন- দলের উল্লেখ না রেখে শুভেন্দুর কর্মসূচি