Sunday, April 26, 2026

মোদির ‘ফিতে-কাটা’ পুজোয় গরহাজির থেকে দলে প্রশংসায় ভাসলেন দিলীপ ঘোষ

Date:

Share post:

দুরন্ত সাহস দেখালেন দিলীপ ঘোষ৷

যে পুজোর উদ্বোধন করেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, সেই পুজোর ছায়াও মাড়ালেন না রাজ্য বিজেপির সভাপতি৷ শুধু দিলীপবাবুই নয়, পুজোর আসরে দেখা যায়নি বঙ্গ-বিজেপির অভ্যন্তরে ‘দিলীপ-পন্থী’ হিসেবে পরিচিত নেতাদেরও৷ আবার শুধুই দিলীপ- অনুগামীরাই যে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা নয়, রাজ্য সভাপতির সঙ্গে তথাকথিত সখ্য না থাকা প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহাও গরহাজির ছিলেন বিজেপি’‌র পুজো উদ্বোধনে। যথেষ্ট সাহস, দৃঢ়প্রত্যয় এবং Guts না থাকলে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না৷ কারন, পুজোর উদ্বোধক নরেন্দ্র মোদি৷

বিজেপি’র দুর্গাপুজোয় অনেক হেভিওয়েট নেতাই গরহাজির ছিলেন৷সম্ভবত, মুকুল রায়, বিজয়বর্গীয়রা এই পুজোর উদ্যোক্তা হওয়ায় অনেক চেনা মুখকেই দেখা যায়নি৷ দিলীপবাবুদের এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে সাহসী৷ রাজনীতিতে বিরল বিশেষ এক কারনে৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে পুজোর উদ্বোধন করেছেন, সেই পুজো বয়কট করেছে রাজ্য তৃণমূল অথবা সোনিয়া গান্ধীর উদ্বোধন করা পুজোর ত্রিসীমানায় ঢুকলেন না অধীর চৌধুরি, এমন ঘটনা ভাবা’ও বোকামি, এমন ঘটনাও অসম্ভব৷ অথচ, অবলীলায় সে কাজ করে দেখালেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ৷

দল হিসাবে বিজেপি কোনও পুজোর আয়োজক হতে পারেনা৷ শুরু থেকে এমনই বলেছিলেন দিলীপ ঘোষ৷ বলেছিলেন, দলের সভাপতি হিসেবে দলের এমন কোনও কর্মসূচির কথা তিনি জানতেন না৷ সেকারনেই ইজেডসিসি-তে তিনি পা রাখেননি৷ প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং ওই পুজোর উদ্বোধন করছেন জেনেও তিনি অনড় ছিলেন নিজের সিদ্ধান্তে৷ প্রধানমন্ত্রীর ভারচুয়াল উপস্থিতি সত্ত্বেও দিলীপ ঘোষ এবং টিম-দিলীপ গরহাজির-ই ছিলেন৷

দিল্লির বার্তা, বিভাজনের স্থান নেই, ভোটের মুখে, সবাইকে একসঙ্গে চলতে হবে৷ কিন্তু তেমন হলো না৷ প্রকট হলো গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব৷ যে পুজো উদ্বোধন করেছিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী, সেই পুজোরই এই ছবি৷ পুজো ঘোষণার মুহুর্ত থেকেই দিলীপ ঘোষ এই আয়োজনে আপত্তি জানিয়েছিলেন৷ কিন্তু সেই আপত্তিতে কাজ হয়নি৷ উল্টে এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়লেন নরেন্দ্র মোদি৷ তা সত্ত্বেও দিলীপবাবুরা ঘোষিত অবস্থান থেকে সরেননি৷ এই দৃঢ়তা প্রদর্শন সহজ কথা নয়৷ মোদিজি এই পুজোর ‘ফিতে কাটবেন’ জেনেও রাজ্য সভাপতিকে টলানো যায়নি৷

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দিলীপবাবুদের এই ভূমিকায় স্পষ্ট হয়েছে বঙ্গ-বিজেপির সর্বাঙ্গেই এখন কোন্দলের পদ্মকাঁটা ফুটে আছে৷ তবুও রাজ্য রাজনীতিতে সত্যিই নতুন এক নজির তৈরি করেছেন দিলীপ ঘোষ৷

Related articles

সোনা পাপ্পু মামলায় রবিবার সকালে শহরে ফের ইডি হানা

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দফা শুরুর আগে কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতি সক্রিয়তা। একদিকে যখন মহানগরীতে জোরকদমে চলছে প্রচার, ঠিক...

চারমিনার এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, প্রশ্নের মুখে যাত্রী নিরাপত্তা

ফের একবার প্রশ্নের মুখে যাত্রী সুরক্ষা! চারমিনার এক্সপ্রেসের (Charminar Express) এস-৫ কোচে হঠাৎ আগুন লেগে যাওয়ায় ঘটনায় তীব্র...

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে রবি- সোমে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ মহানগরীতে

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোট প্রচারের প্রায় শেষ পর্বে রবিবার ফের রাজ্যে আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। নরেন্দ্র মোদির...

হোয়াইট হাউসে বন্দুকবাজের হানা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ট্রাম্প!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের Donald Trump) সামনেই চলল গুলি, শনিবার রাতে হোয়াইট হাউসের (White House) নৈশভোজে বন্দুকবাজের হানা।...