বিশ্বভারতীর শতবর্ষে বন্ধ পৌষ মেলা, প্রথা মেনে অবশ্য শুরু হলো পৌষ উৎসব

স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এই প্রথমবার করোনা পরিস্থিতির(coronavirus situation) কারণে বিশ্বভারতীতে(visva Bharati) বন্ধ হলো পৌষ মেলা(Poush Mela)। যদিও রীতি মেনে বুধবার সকাল ৭ থেকে ৭:৩০ পর্যন্ত বিশ্বভারতীর ছাতিম তলায় বৈদিক মন্ত্র পাঠ ও রবীন্দ্র সংগীত গানের মধ্যে দিয়ে শুরু হল পৌষ উৎসব। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে করোনা ভাইরাসের কারণে এই বছর মেলা করতে পারবে না তারা। ফলস্বরূপ কার্যত শ্মশানের রূপ নিয়েছে পূর্ব পল্লী মেলার মাঠ। মন খারাপ শান্তিনিকেতনের(Shantiniketan) ছাত্র-ছাত্রীদের।

বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, পৌষ মেলা করোনা পরিস্থিতির কারণে বন্ধ হলেও করোনা বিধি মেনে পৌষ উৎসব পালন করা হবে। ৬ পৌষ সন্ধ্যায় বৈতালিকের মাধ্যমেই এই উৎসব শুরু হয়ে গিয়েছে। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের তরফে পৌষ উৎসবের যে অনুষ্ঠান সূচি ঘোষণা করা হয়েছে তা হলো ৭ পৌষ শান্তিনিকেতন ছাতিমতলায় হবে উপাসনা, ৮ পৌষ বিশ্বভারতীর প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠান এবং ৯ পৌষ সন্ধ্যায় বিশ্বভারতীর উপাসনা মন্দিরে খ্রীষ্ট উৎসব ও আলোকসজ্জার মাধ্যমে এ বছরের মতন শেষ হবে পৌষ উৎসব। পাশাপাশি আরও জানা গিয়েছে আগামীকাল ৮ পৌষ বিশ্বভারতীর অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগ দেবেন দেশের প্রধানমন্ত্রী তথা বিশ্বভারতীর আচার্য নরেন্দ্র মোদি। উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ও।

আরও পড়ুন:দশম ও দ্বাদশের অফলাইন ফাইনাল পরীক্ষা হবে ফেব্রুয়ারির পরে

প্রসঙ্গত, স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে পৌষ মেলা বন্ধের ঘটনা প্রথম বার হলেও এর আগে দু’বার বন্ধ হয়ে গিয়েছিল শান্তিনিকেতনের বিখ্যাত পৌষ মেলা। ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের কারণে প্রথমবার পৌষ মেলা বন্ধ হয় শান্তিনিকেতনে। এরপর ১৯৪৬ সালে দেশভাগের সময় ফের বন্ধ হতে দেখা যায় পৌষ মেলা। আর তৃতীয় বার পৌষ মেলা বন্ধ হল করোনা পরিস্থিতি কারনে। উল্লেখ্য, মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্রাহ্ম ধর্মে দীক্ষার দিনকে স্মরণ করে রাখতে ১৮৯১ সালের ৭ পৌষ সূচনা হয়েছিল পৌষ মেলার। ১২৫ বছরের পুরনো এই মেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই মন খারাপ এলাকাবাসীর।