Friday, April 24, 2026

‘এত রাজনৈতিক হিংসা কেন কলকাতায়?’ কমিশনের কড়া প্রশ্নের মুখে অনুজ শর্মা

Date:

Share post:

দিনক্ষণ এখনো ঘোষণা না করা হলেও বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা ইতিমধ্যেই বেজে গিয়েছে। কোমর বেঁধে মাঠে নেমে পড়েছে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলি। তবে বঙ্গ রাজনীতির অতীতের ইতিহাস বলে, বাংলায় নির্বাচন মানেই বিপুল রক্তক্ষরণ। অবশ্য এবার সে ধারায় বদল আনতে তৎপর নির্বাচন কমিশন। রাজ্যে হিংসামুক্ত বিধানসভা ভোট করাতে একেবারে বদ্ধপরিকর তারা। সেই লক্ষ্যেই শুক্রবার খাস কলকাতায় আইন শৃঙ্খলা ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের(election commission) প্রশ্নের মুখে পড়লেন পুলিশ কমিশনার(police commissioner) অনুজ শর্মা(Anuj Sharma)।

রাজ্যে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করে দিয়েছে কমিশন। চলছে আমলা ও পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে একের পর এক বৈঠক। শুক্রবার তেমনই এক বৈঠকে কলকাতায় রাজনৈতিক হিংসা বৃদ্ধি পাওয়া নিয়ে কমিশনের করা প্রশ্নের মুখে পড়তে হলো অনুজ শর্মাকে। তাকে প্রশ্ন করা হয় পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী হওয়া সত্বেও কলকাতাতে কেন এত রাজনৈতিক হিংসা? খাস কলকাতায় যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় তাহলে রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তে কী অবস্থা হবে? পাশাপাশি প্রশ্ন করা হয় জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা থাকা সত্ত্বেও বহু অভিযুক্তকে কেন গ্রেফতার করা হয়নি? কেন কলকাতা অশান্ত হয়ে গেছে? একের পর এক প্রশ্নে ধরাশায়ী করা হয় শহরের পুলিশ কমিশনারকে। যদিও একাধিক অপরাধীকে গ্রেফতার করতে না পারার কারণ হিসেবে করোনা পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন অনুজ শর্মা। এরপর অবশ্য কড়া ভাষায় নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দেয় অবিলম্বে কলকাতায় শান্তি ফেরাতে হবে মানুষ যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে যেতে পারেন সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

আরও পড়ুন:দল ঐক্যবদ্ধ, রাজীবের মন্ত্রিত্ব ত্যাগ নিয়ে বিচলিত নন তৃণমূল নেতারা

এদিকে নির্বাচন কমিশনের তরফ এ জানা যাচ্ছে একুশের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে আইনশৃঙ্খলার হাল ফেরাতে সমস্ত রকম ভাবে চেষ্টা করবে কমিশন। প্রয়োজনে কঠোর এবং সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিতেও কোনওরকম দ্বিধা করা হবে না। এক নির্বাচনী আধিকারিকের কথায়, ‘পূর্বে রাজ্যে যে হিংসার ছবি দেখা গিয়েছে তার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এবার প্রথম থেকেই শক্ত হাতে মাঠে নামছে কমিশন।’ সে ছবি অবশ্য দেখা গিয়েছে ইতিমধ্যেই সম্প্রতি রাজ্যে এসে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশাসনিক আধিকারিকদের কড়া বার্তা দিয়েছিলেন উপ নির্বাচন কমিশনার। অবিলম্বে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে বলার পাশাপাশি আইন শৃঙ্খলার হাল ফেরাতে যথাসম্ভব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন সুদীপ জৈন।

Advt

Related articles

আমার মা-কে রক্ত দিয়ে বাঁচিয়েছিল: ফিরহাদের প্রচারে সম্প্রীতির উদাহরণ তুলে ধরলেন মমতা

বাংলায় ধর্ম-জাত-পাতের ভেদাভেদ যে কোনও দিনও নেই বারেবারে তা প্রমাণিত হয়েছে। বাংলার শান্তিপ্রিয় মানুষ কীভাবে বিপদে একের অন্যের...

শ্রীজাতর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা! প্রতিবাদে সরব দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ 

কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদ এবং রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিরোধিতায় সরব হল ‘দেশ বাঁচাও...

কমিশনের ‘নিয়ম’ উড়ে গেল হাই কোর্টে: ১২ ঘণ্টার বিধিনিষেধ বাইক চালানোয়

বাংলার নির্বাচনে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার অজুহাতে তুঘলকি শাসন জারি করার পথে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনের ৪৮ ঘন্টা আগে...

ভোটদানে রেকর্ড কোচবিহারের, ৯৭ শতাংশ পার করে শিরোনামে শীতলকুচি 

দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নজিরবিহীন রেকর্ড গড়ল কোচবিহার। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় এই জেলায় ভোটদানের হার পৌঁছেছে...