Sunday, March 29, 2026

মহিষাদলের সভায় জনসমুদ্র, ‘গদ্দার’দের ধুয়ে দিলেন শতাব্দী-কুণাল

Date:

Share post:

পূর্ব মেদিনীপুরে দাঁড়িয়ে ফের একবার দলত্যাগীদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শাণালেন দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ(Kunal Ghosh)। তাঁর সঙ্গে সুর মিলিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Bandopadhyay)উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান তুলে ধরলেন তৃণমূলের রাজ্য কমিটির সহ সভাপতি তথা সাংসদ শতাব্দী রায় (Shatabdi Roy)।

তৃণমূল (Tmc)ছেড়ে যেসব নেতারা ভোটের আগে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন এদিন সভা থেকে তাদের নিশানা করেন কুণাল। তিনি স্পষ্ট জানান, বেআইনি টাকা লুকাতে বিজেপির (Bjp) শরণাপন্ন হয়েছেন দলবদলুরা। কুণাল ঘোষ তাঁদের সরাসরি ‘গদ্দার’ বলে অভিহিত করেন। তাঁর কথায় এতদিন দলের সব পদে থেকে, সব রকম সুযোগ-সুবিধা নিয়ে এজেন্সির ভয়ে এখন এঁরা বিজেপিতে গিয়ে নাম লিখিয়েছেন।

পূর্ব মেদিনীপুরে দাঁড়িয়ে তিনি নন্দীগ্রাম আন্দোলন একজন নেতা মধুসূদন মণ্ডলকে মঞ্চে উপস্থিত করেন। নিজের লেখা গান পরিবেশন করেন মধুসূদন। প্রাক্তন সাংসদ বলেন, ইদানীং একজন এই নন্দীগ্রাম আন্দোলনের কৃতিত্ব একাই নিচ্ছেন। তাঁর কথায় তিনিই একমাত্র নন্দীগ্রাম (Nandigram) আন্দোলনের নেতা ছিলেন। কুণাল ঘোষের প্রশ্ন তোলেন তাহলে এই মধুসূদন বাবুরা সেদিন কী করেছিলেন?

সদ্য তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়া শুভেন্দু অধিকারী (Shubhendu Adhikari) তৃণমূলে পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন। তাঁর এই মন্তব্যকে এদিন কটাক্ষ করেন কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, শুভেন্দু অধিকারী অধিকারী পরিবারের সদস্যদের যতগুলি পদ ছিল এক নিঃশ্বাসে তা বলা যাবে না। এতগুলি পদ এবং সুবিধা নেওয়ার পরেও তিনি তৃণমূল নেত্রী তথা দলের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছেন।

তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায় বলেন, এই রাজ্য সরকারের আমলে বাংলায় যথেষ্ট উন্নয়ন হয়েছে। নিরাপত্তা রয়েছে নারীদের। মোদি জমানায় দেশের উন্নয়নের খতিয়ানের সঙ্গে মমতার জামানায় রাজ্যের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন শতাব্দী। তিনি বুঝিয়ে দেন এই ক’বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। অথচ দলত্যাগীরা সেই তুলনায় না গিয়ে কুৎসা ও সমালোচনার রাস্তায় হাঁটছেন।

আরও পড়ুন:‘তাণ্ডব’ নির্মাতা ও শিল্পীদের আগাম জামিনের আর্জি খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট

এদিন মহিষাদল এ শতাব্দী-কুণালের সভায় ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এক কথায় জনসমুদ্র দেখা যায়। শুভেন্দু যতই নিজেকে ভূমিপুত্র বলে দাবি করুন না কেন, তাঁর ইদানিংকার ভাষণে বাংলা বিরোধিতা নজরে পড়ছে। তাতে তাঁর পায়ের তলার জমি যে শক্ত নেই এদিন জনতার প্রতিক্রিয়াতেই তা স্পষ্ট।

Advt

Related articles

অবাধ ভোটের লক্ষ্যে বেনজির নজরদারি, ‘বুথ ক্যাপচারিং’ রুখতে নয়া দাওয়াই সিইও-র

স্বচ্ছ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এ বার বেনজির পদক্ষেপ করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে...

দুই কিস্তি নয়, ৩১ মার্চের মধ্যেই বকেয়া ডিএ একসঙ্গেই মেটানোর নির্দেশিকা রাজ্যের 

বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। পূর্বের নির্দেশে আংশিক পরিবর্তন করে জানানো হয়েছে, ২০১৬...

নির্বাচনী প্রচারের ফাঁকে মহাবীর মন্দির পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী, আপ্লুত পুরুলিয়ার আমলাপাড়া

লোকসভা নির্বাচনের প্রচার ঘিরে এখন তপ্ত লালমাটির জেলা। শনিবার রঘুনাথপুর ও কাশীপুরে জোড়া সভা শেষ করে জেলা শহর...

নাগরিকত্ব হরণের চেষ্টার প্রতিবাদ: রাসবিহারীর সভায় বিজেপি ও কমিশনের বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ গণমঞ্চ-একতা মঞ্চ

বাঙালির নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার হরণের চেষ্টার বিরুদ্ধে ফের সরব হল নাগরিক সমাজ। শনিবার দক্ষিণ কলকাতার রাসবিহারীতে ‘দেশ বাঁচাও...