বাঙালি ও বাঙালিয়ানা নিয়ে মনোগ্রাহী একটি আয়োজন রোটারি সদনে

বাঙালিতে বাঙালিতে ভেদাভেদ আর রাজনীতির মারপ্যাঁচ দেখে মানুষ ক্লান্ত, বিধ্বস্ত । কিছুটা সেই কারণেই বেঙ্গল ফোরাম ফর ইনটেলেকট অ্যান্ড কালচার BFIC আয়োজন করেছিল একটি আলোচনা চক্র রোটারি ক্লাবের সঙ্গে যৌথভাবে । একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষা দিবস উপলক্ষে , রোটারি সদনে, বাংলা আর বাঙালি নিয়েই .. তবে একটু অন্যভাবে ।

গ্রাম্য উপভাষার অবহেলা থেকে হিন্দির আগ্রাসনের ভয় , রাজনৈতিক বনাম সাংস্কৃতিক বাঙালিযানা , ধর্ম না ভাষা .. বাঙালির কাছে কোনটা আগে , বাংলায় আরেকটা নবজাগরণের প্রয়োজন আর তার পথ কী .. বাঙালি পাঠক বা শ্রোতার রুচির বিবর্তন , পড়শি দেশ বাংলাদেশের তুলনায় আমরা নিজেদের মাতৃভাষা কে কতটা ভালবেসেছি.. বেশি বাঙালি হলে কি কম ভারতীয় হয়ে যাবো .. এমন কত প্রশ্ন নিয়ে উপস্থিত ছিলেন ডক্টর পার্থ সারথি মুখোপাধ্যায় । উত্তর দিচ্ছিলেন চন্দ্র কুমার বসু , ডাঃ কুনাল সরকার , ঋতব্রত ভট্টাচার্য, সতীনাথ মুখোপাধ্যায় , পাপিয়া অধিকারী , হরিপদ ভৌমিক , গৌতম দে , চন্দ্রাবলী রুদ্র দত্ত , মধুরিমা দত্ত চৌধুরী , দীধিতি চক্রবর্তী , নীলাঞ্জনা মজুমদার প্রমুখ । এছাড়াও ছিলেন বিশিষ্টরা, রোটারি সদন প্রেক্ষাগৃহ ভরে ।
‘ বাংলা, বাঙালি ও বাংলা ভাষা’ নিয়ে এই আলোচনায় মানুষের উৎসাহ ছিল বাঁধভাঙা । পরিশেষে আলোচনা থেকে উঠে এল যে, ভালো বাঙালি না হলে ভালো ভারতীয় হওয়া সম্ভব নয় । বাঙালি বা বাঙালিয়ানা নিয়ে হওয়া উচিত একটি আর্কাইভ , একটি পুরস্কার , বা একটি পাঠ্যক্রম । দেশে, প্রবাসে । কেন রাজনৈতিক নয় , সাংস্কৃতিক বাঙালিয়ানাটাই পথ এবং বিশ্বের ৩০ কোটি বাংলাভাষী মানুষ হয়ে উঠুক একটি বৃহৎ পরিবার । নতুন এক সূর্যোদয় দেখতে পাওয়া যাচ্ছে দিগন্তের সীমানায় । নতুন করে জেগে উঠুক সেই জাতি। যে ইতিহাসে বারবার ভারতকে পথ দেখিয়েছিল। ধর্ম-মত-জাতপাত-রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে সবার উপর বাঙালি হোন, বাঙালিদের জয় অবশ্যম্ভাবী ।

Advt