‘ডবল ইঞ্জিনে’র সুবিধা বুঝেছে ত্রিপুরা: বিপ্লব, সরকার নয় ‘ডবল চুল্লির শ্মশান’: পাল্টা কুণাল

ত্রিপুরায় তাঁর দলের বিরুদ্ধে ক্রমশ জনমত সংগঠিত হচ্ছে, বিধায়করা একে একে দল ছাড়ছেন এই পরিস্থিতির মধ্যে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব পশ্চিমবঙ্গে এলেন। ভোট ঘোষণার আগে বিজেপির হয়ে প্রচার। যোগ দেবেন পরিবর্তন যাত্রা ও জনসভায়। তাঁর কথায়, গত ১০ বছরে বাংলার কোনও অগ্রগতি হয়নি। কেন্দ্রে আর রাজ্যে একই দলের সরকার হলে কী সুবিধা হয় তা অনুভব করছেন ত্রিপুরার মানুষ। এর পাল্টা জবাব দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার নয় ‘ডবল চুল্লির শশ্মান’।

গতকাল, সোমবার পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব। মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাবড়া, বারাসত, মধ্যমগ্রাম এবং আমডাঙায় পরিবর্তন যাত্রা ও জনসভায় রয়েছেন। সোমবার কলকাতায় পৌঁছে তিনি ফেসবুকে কিছু ছবি পোস্ট করেন। এবং লেখেন,”বাংলার মানুষ মনস্থির করে ফেলেছেন এবার পরিবর্তন হচ্ছেই। প্রধানমন্ত্রী মাননীয় শ্রী নরেন্দ্র মোদীজির নেতৃত্বে ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার গড়া বাংলায় কেবল সময়ের অপেক্ষা। বিজেপির ডাকে বাংলাজুড়ে যে পরিবর্তন যাত্রা চলছে তাতে অংশ নিতে কলকাতায় পৌঁছেছি। ২৩ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাবড়া, বারাসাত, মধ্যমগ্রাম এবং আমডাঙায় পরিবর্তন যাত্রা ও জনসভায় উপস্থিত থাকব।”

আরও পড়ুন-নরেন্দ্র মোদির ‘আসল পরিবর্তন” নিয়ে কটাক্ষ কপিল সিব্বলের

পাশাপাশি তিনি রাজ্যের সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে বলেন,”তৃণমূল কংগ্রেসের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিজেপির কার্যকর্তারা মাঠে-ময়দানে সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করছেন বাংলায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। আমি তাঁদের লড়াকু মানসিকতাকে সাধুবাদ জানাই।” সঙ্গে তিনি কেন্দ্র ও রাজ্যে একই সরকার থাকার সুবিধে প্রসঙ্গে বলেন,”কেন্দ্রে আর রাজ্যে একই দলের সরকার হলে কী সুবিধা হয় তা ত্রিপুরার মানুষ অনুভব করছেন। গত ১০ বছরে বাংলার কোনও অগ্রগতি হয়নি। মানুষ যে স্বপ্ন নিয়ে পরিবর্তন এনেছিলেন তা পূরণ তো হয়ইনি উল্টে দুর্নীতি, পুলিশরাজ, পাচারের কারবার কায়েম হয়েছে। এই অপশাসন থেকে এবার মুক্ত করতে, বিজেপির নেতৃত্বে আসল পরিবর্তন রূপায়িত হোক বাংলায়।”

Advt

আরও পড়ুন-ভোটের আগে একে অপরের বিরুদ্ধে ‘বোমা’ ফাটাচ্ছেন রুদ্রনীল-জটু লাহিড়ী

এর পাল্টা তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “ত্রিপুরা শশ্মান বানিয়ে রেখেছে বিপ্লব দেব। ত্রিপুরার ‘জঘন্য’ মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব। উনি কথামৃতের জন্য বিখ্যাত। ত্রিপুরার মানুষ হাড়ে-হাড়ে বুঝতে পারছেন। আগামীকাল ভোট হলে গো-হারা হারবেন। ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার নয় ‘ডবল চুল্লির শশ্মান’। ত্রিপুরায় যেটুকু ছিল সেটার বারোটা বাজাচ্ছে বিজেপি সরকার। ত্রিপুরার মানুষ বিজেপির হাত থেকে মুক্তি পেতে অপেক্ষায় রয়েছেন। সে রাজ্যে তাঁর দলের নেতারাই তাঁকে মানেন না। ওঁর বিরুদ্ধে দলেই বিদ্রোহ চলছে।”

Advt