নন্দীগ্রামে পা রাখার আগে ক্ষমা চান মিঠুন: কুণাল

নন্দীগ্রামে পা রাখার আগে মাটিতে মাথা ঠেকিয়ে ক্ষমা চান মিঠুন চক্রবর্তী (Mithun Chakraborty)। তৃণমূলনেত্রীর তথা প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)সমর্থনে প্রচারসভা থেকে বললেন তৃণমূল (Tmc)মুখপাত্র কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। এদিন নন্দীগ্রামের তিন জায়গায় সভা করেন কুণাল। সেখান থেকেই তিনি বলেন, “মিঠুনদাকে আমি সম্মান করি। কিন্তু নন্দীগ্রাম নিয়ে তাঁর অবস্থানের তীব্র বিরোধিতা করছি”। কারণ হিসেবে কুণাল জানান, যখন নন্দীগ্রাম আন্দোলন সারা রাজ্য জুড়ে তুমুল আলোড়ন তুলেছিল, সেই সময় কলকাতায় আন্দোলনের বিরোধিতায় মিছিল করেছিল সিপিআইএম। আর সেই মিছিলের নেতৃত্ব দেন মিঠুন চক্রবর্তী। তৃণমূল মুখপাত্রের মতে, সেটা ছিল নন্দীগ্রাম (Nandigram) আন্দোলনের পিছন থেকে ছুরি মারা। আজ বিজেপিতে যোগ দিয়ে মিঠুন সেই নন্দীগ্রামে সভা করতে চাইলে আগে নতমস্তকে ক্ষমা চেয়ে ঢোকা উচিত বলে মত কুণালের।

একইসঙ্গে কটাক্ষ করে কুণাল বলেন, প্রচারের শেষদিন বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে নন্দীগ্রামে রোড শো করতে যাচ্ছেন মিঠুন, সেটা শাসকদলের ক্ষেত্রে ভালো বার্তা। কারণ, বামফ্রন্ট প্রার্থী রমলা চক্রবর্তীর (Ramola Chakraborty) হয়ে রোড শো করেছিলেন মিঠুন। সেই নির্বাচনে হেরে গিয়েছিলেন রমলা; জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের সুজিত বসু (Sujit Basu)।

একই সঙ্গে কুণাল ঘোষ, এদিন বিজেপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতির তাস খেলাকে তীব্র আক্রমণ করেন। বলেন, বিজেপির কাছ থেকে তাঁদের হিন্দুত্ব শিখতে হবে না। যখন তৃণমূল মুখপাত্রর সভা হচ্ছে, তখন নন্দীগ্রামের আকাশে গোধূলি নেমেছে। অস্তগামী সূর্যের দিকে তাকিয়ে ‘সূর্য স্তব’ করেন কুণাল। তিনি বলেন, যখন সন্ধেয় সূর্য অস্ত যায় তখন তার রূপ মহাদেবের। মহাদেবের তাণ্ডব নাচন ‘গদ্দার’কে নন্দীগ্রাম ছাড়া করবে বলে মন্তব্য করেন কুণাল ঘোষ। তিনি বুঝিয়ে দেন হিন্দুদের ভোট শুধু বিজেপির নয়। শুভেন্দুর ‘হিন্দুত্বের তাস’ নড়বড়ে করে দেন কুণাল।

এদিন তিনি বলেন, নন্দীগ্রাম আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী ফিরোজা বিবির (Firoza Bibi) ছেলে শহিদ হন। অথচ শুভেন্দু অধিকারী (Shubhendu Adhikari) সেই নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়েই মুসলমানদের ‘জিহাদি’ বলছেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উদাহরণ নন্দীগ্রাম। অথচ সেখানেই ধর্মে ধর্মে বিভেদ করে বিজেপি অশান্ত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, বিভেদের রাজনীতি করা বিজেপি নন্দীগ্রামে টিকতে পারবে না।

এদিন কুণালের সব সভাতেই ছিল উপচে পড়া ভিড়। শুভেন্দু অধিকারী বা তাঁর পরিবারের নাম উচ্চারণ হলেই সভা থেকে আওয়াজ ওঠে, “নন্দীগ্রামে ঠাঁই নেই গদ্দারের”, “মীরজাফরকে দাও বিদায়”। সভায় মহিলাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তীব্র গরম উপেক্ষা করেও বহুক্ষণ তৃণমূলের সভার জন্য অপেক্ষা করেছেন সকলে।

আরও পড়ুন- শোকজ, সাসপেন্ড প্রত্যাহারে ব্যবস্থা গ্রহণে বিশ্বভারতীর ১৫২ প্রাক্তনীর ই-মেল প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতিকে

Advt