মূল রাস্তা ছেড়ে নন্দীগ্রামে চেনা মেঠো পথে মমতা, দীর্ঘ রোড-শোতে উৎসাহী জনতার ঢল

চৈত্রের কাঠফাটা রোদ্দুর। আর সেই রোদ্দুরের মধ্যেই মাথায় শাড়ির আঁচল জড়িয়ে হাইভোল্টেজ নন্দীগ্রামে(Nandigram) দীর্ঘ ৮ কিলোমিটার রাস্তা রোড শো করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। পথ চলতে চলতে কখনো মূল পথ ছেড়ে তিনি নেমে গেলেন নন্দীগ্রামের চেনা মেঠো পথে। প্রিয় মুখ্যমন্ত্রীকে চোখের দেখা দেখতে রাস্তার দু’পাশে ভিড় জমল হাজারো মানুষের।

দ্বিতীয় দফার মহাযুদ্ধে নজরে এখন নন্দীগ্রাম(Nandigram)। শেষ বেলায় সেখানেই প্রচারে ঝড় তুলতে মাঠে নেমেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। সোমবার নন্দীগ্রামের একাধিক জায়গায় ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। তবে তার শুরুটা হয় রেয়াপাড়া ক্ষুদিরাম মোড় থেকে ঠাকুরচক পর্যন্ত। হুইল চেয়ারে বসে দীর্ঘ ৮ কিলোমিটার রোড শো করলেন তিনি। রাস্তার দু’পাশে তখন উৎসাহী জনতার ঢল। পথ চলতে চলতেই হাতজোড় করে তাদের নমস্কার করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতি নমস্কার ফিরিয়ে দিচ্ছেন নন্দীগ্রামবাসী। বিপুল সংখ্যক মানুষের ভিড়সহ ক্ষুদিরাম মোড় থেকে শুরু হয় এই রোড শো। এরপর যে সমস্ত এলাকা দিয়ে পথসভা যায় সেই সমস্ত জায়গা থেকে হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমাতে শুরু করেন পথসভাতে। কখনো নির্ধারিত মূল রাস্তা ছেড়ে চেনা নন্দীগ্রামে মমতা নেমে গেলেন কাঁচা মাটির রাস্তা গলিপথ ছোট খালের ব্রিজ পেরিয়ে ফের মূল সড়কে। হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে নন্দীগ্রামবাসীকে আবেদন জানালেন এবারের নির্বাচনে জোড়া ফুল চিহ্নে ভোট দিয়ে তাঁকে জয়যুক্ত করার জন্য। এভাবেই দীর্ঘ ৮ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে হাজারো মানুষের ভিড়কে সঙ্গে নিয়ে পথসভা পৌঁছয় ঠাকুরচকে।

আরও পড়ুন:১৪ বছরের অভিনয় জীবনে প্রথম বায়োপিক, ‘গোলন্দাজ’ নিয়ে উৎসাহী দেব

উল্লেখ্য, নন্দীগ্রামের বিধানসভা নির্বাচনে ২ প্রতিপক্ষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। প্রতিদিনই একে অপরের বিরুদ্ধে ক্রমাগত আক্রমণ শানাচ্ছেন এই দুই প্রতিপক্ষ। সম্প্রতি এক জনসভায় অধিকারী পরিবারের বিরুদ্ধে সেদিন নন্দীগ্রামে পুলিশ ঢোকার ঘটনা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানিয়ে দেন বাবা-ছেলে জন্যই সেদিন নন্দীগ্রামে পুলিশ ঢুকতে পেরেছিল। স্বাভাবিকভাবেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এহেন অভিযোগের পর রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। এরপর সোমবারের জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী বার্তা দেন সেদিকে নজর রয়েছে গোটা রাজ্যের।

Advt