ধর্মীয় উস্কানিতে বাজিমাত করার চেষ্টা: নজরুলকে কেন অসম্মান বিজেপির!

বাংলা দখলের লড়াইয়ে ধর্মীয় উস্কানি দিয়ে বিজেপি যে বাজিমাৎ করতে চাইছে তা ফের প্রমাণ হয়ে গেলো নজরুলের জন্মস্থানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভায়। নিশ্চই ভাবছেন কী এমন ঘটল? বাংলার সংস্কতি যেখানে রবীন্দ্রনাথ-নজরুলকে একসঙ্গে নিয়ে এগিয়ে চলে, সেখানে এই ধর্মীয় উস্কানি বঙ্গ রাজনীতিতে বিজেপির নতুন আমদানি!

খোদ কবির জন্মস্থানে দাঁড়িয়ে সভা করছেন। অথচ বিদ্রোহী কবি নজরুলের নামটাও একবারের জন্যেও নিলেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যার কলম লিখেছে ‘মোরা একই বৃন্তে দুটি কুসুম/ হিন্দু মুসলমান’, তিনিই ব্রাত্য মোদির সভায়। বাংলার সংস্কৃতি সম্পর্কে না জেনেই মোদি নজরুলকে সরিয়ে রাখলেন স্রেফ মুসলমান হওয়ার অপরাধে!

শনিবার রাজ্যের পঞ্চম দফা নির্বাচনের দিন বাংলায় এসে জামুরিয়ায় সভা করেন প্রধানমন্ত্রী। সোনার বাংলা গড়তে চান প্রধানমন্ত্রী। অথচ তাঁর সভাস্থল থেকে সরল নজরুলের ছবি। তাঁর নির্বাচনী জনসভার মঞ্চে রবীন্দ্রনাথ, রামকৃষ্ণ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র, সারদা মা সহ বিভিন্ন মনীষীর ছবি লাগানো হয়েছিল। অথচ যার মাটিতে দাঁড়িয়ে তিনি সভা করছেন জামুরিয়ার সেই ভূমিপুত্র নজরুল ইসলামের কোনও ছবি নেই সভাস্থলে। আশ্চর্য!!! ছবি তো দূরস্ত, এমনকি তাঁর নামটুকুও মুখে নিলেন না ভারতের প্রধানমন্ত্রী!

জামুরিয়া বিধানসভার অন্তর্গত চুরুলিয়া গ্রামে জন্মেছিলেন দুখু মিঞা। পরে বিশ্ববিখ্যাত হন নজরুল ইসলাম নামে। মুসলিম হয়েও সাতশোর ওপর শ্যামাসঙ্গীত লিখেছিলেন নজরুল। তিনিই লিখেছিলেন জাতের নামে বজ্জাতি। সেই বিশ্ববিখ্যাত, বিদ্রোহী কবি নজরুলকে একেবারেই ভুলে গেলেন মোদি! খোদ নজরুলের জন্মস্থানে সভা করেও তাঁর নামটাও একবারের জন্য উচ্চারণ করতে পারলেন না প্রধানমন্ত্রী! বাঙালির চেতনা থেকে নজরুলকে বাদ দিয়ে সোনার বাংলা গড়তে পারবেন না মোদি, এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। কবির প্রতি এই অসম্মান ভোট মেসিনে পড়বে বলে জানিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুন- পঞ্চম দফার ভোট শান্তিপূর্ণই, দাবি নির্বাচন কমিশনের

Advt