“আমি দেশকে বাঁচালাম, দেশ আমার ছেলেটাকে বাঁচালো না”, পুত্রশোকে পাথর কার্গিল যোদ্ধা

করোনা পরিস্থিতি ক্রমশ আরো ভয়াবহ হয়ে উঠেছে গোটা দেশে। অক্সিজেনের হাহাকার, বেডের সংকট, জীবনদায়ী ওষধের অভাব তীব্র হয়ে উঠেছে। উত্তরপ্রদেশের পরিস্থিতিও গুরুতর। কানপুরের ভৈরবঘাট এলাকায় শ্মশানের ছবি স্পষ্ট ভাবে বুঝিয়ে দিয়েছে সরকার সংখ্যা গোপনে ব্যস্ত। এহেন পরিস্থিতির মাঝেই সরকারের বিরুদ্ধে কার্যত ক্ষোভ উগরে দিলেন পুত্রের মৃত্যু শোকে পাথর কার্গিল যুদ্ধের নায়ক সুবেদার মেজর হরি রাম দুবে(major Hariram Dube)।

করোনাভাইরাস(coronavirus) প্রাণ কেড়ে নিয়েছে পুত্রের। ছেলের মৃত্যু শোকে কার্যত ভেঙে পড়েছেন কার্গিল যুদ্ধে(Kargil war) শত্রু শিবিরের ঘুম কেড়ে নেওয়া মেজর হরি রাম দুবে। তিনি বলেন ছেলের মৃতদেহ শেষবার দেখার জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে থাকতে হয়েছে তাঁকে। ব্যথিত গলায় এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি ১৯৮১ সাল থেকে ২০১১ অবধি আমার মাতৃভূমিকে সেবা করেছি। কার্গিল থেকে বারমুল্লা থেকে লাদাখ এবং লুকুং পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গা থেকে শত্রুপক্ষের থেকে আগলে রেখেছিলাম দেশকে। আমি বারামুল্লায় সন্ত্রাসদের নির্মূল করেছি। কার্গিলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, কামান বন্দুকের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে দেশেকে রক্ষা করেছি। কিন্তু দেশ আমার ছেলেটাকে বাঁচাতে সাহায্য করল না। দেশের স্বাস্থ্যের করুণ ব্যবস্থাপনা আমার ছেলে অমিতাভকে মেরে ফেলল।’

আরও পড়ুন:ভিড়ের চাপে ট্রেন থেকে পড়ে গেলেন যাত্রী, চম্পাহাটি স্টেশনে অবরোধ

অসহায় গলায়দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে ওই দেশনায়ক জানান, ‘স্ত্রী, কন্যা এবং পুত্রবধূকে সঙ্গে নিয়ে অমিতাভের নিথর দেহটি একবার দেখার জন্য প্রখর রোদে দাঁড়িয়েছিলাম দীর্ঘক্ষণ। কেউ একটু সাহায্য করলেন না। অথচ আমি দেশকে বাঁচানোর জন্য এমনই কঠিন দায়িত্ব সামলেছি, তার জন্য সেনাবাহিনীর প্রধান আমায় শংসাপত্র দিয়ে সম্মান করেছেন’।

Advt