মোদির মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা হেভিওয়েট রবিশঙ্কর-জাভড়েকরেরও

বড়সড় ‘ঝটকা’ মোদির মন্ত্রীসভার। মন্ত্রিসভায় রদবদলের আগে পদত্যাগ করলেন কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর (Prakash Javadekar) এবং কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী রবিশংকর প্রসাদ(Ravi Shankar Prasad)। আগেই পদত্যাগ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল নিশাঙ্ক (Ramesh Pokhriyal Nishank) ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন (Harsh Vardhan)। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ, প্রকাশ জাভড়েকরের মতো হেভিওয়েট নেতাদের ইস্তফা পত্র পৌঁছে গিয়েছে রাষ্ট্রপতির (President) কাছে। সূত্রের খবর রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ এই ইস্তফা গ্রহণ করেছেন।

রবিশঙ্কর ছিলেন আইন, তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রী। সম্প্রতি নতুন তথ্য প্রযুক্তি নীতি এনেছে কেন্দ্র। সেই নীতির মাধ্যমে ওটিটি আর সোশ্যাল মিডিয়াগুলোকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছে। এই নীতির জন্য মুখ পুড়েছে মোদি সরকারের। শুধু দেশে নয়, বিদেশেও। নেপথ্যে রয়েছে টুইটার সংস্থার সঙ্গে বিবাদ। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সেজন্যই কোপ পড়ল রবিশঙ্করের ওপর।

অন্যদিকে প্রকাশ জাভড়েকর ছিলেন কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রী। মোদি সরকারের মুখপাত্রও বটে। তাঁর ইস্তফা বড়সড় চমক তো বটেই। কেন তাঁকে সরানো হল, সেই নিয়ে জল্পনা রয়েছে।

আরও পড়ুন- হর্ষবর্ধনকে চিঠি দিয়ে রাজ্যের বিরুদ্ধে তদন্ত চান শুভেন্দু, আর মন্ত্রী নিজেই কিনা পদচ্যুত!

আগেই পদত্যাগ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল নিশাঙ্ক ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন। ভারতে করোনা অতিমারি  নিয়ন্ত্রণে মোদি সরকারের (modi govt.) ব্যর্থতা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর বিপুল গলদ নিয়ে লাগাতার সরব হয়েছিলেন বিরোধীরা। অক্সিজেনের অভাবে অসংখ্য মানুষের মৃত্যু থেকে দিশাহীন টিকানীতির ফলে রাজ্যে রাজ্যে তৈরি হওয়া জটিলতা; সব নিয়েই পাহাড়প্রমাণ অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে। সেখান থেকে পরিকল্পিত ভাবেই হর্ষ বর্ধনকে মোদী সরিয়েছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। অন্যদিকে একইসঙ্গে, করোনা অতিমারিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ শিক্ষাক্ষেত্র নিয়ে সরকারি ব্যর্থতায় প্রলেপ দিতে পদত্যাগ করানো হল শিক্ষামন্ত্রী (education minister) রমেশ নিশঙ্ক পোখরিয়ালকেও। অতিমারি পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রয়োজনীয় তৎপরতার অভাব, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিয়ে বারবার সিদ্ধান্ত বদল ও অনলাইনমুখী শিক্ষানীতির ফলে দেশের একটা বড় অংশের শিক্ষক-পড়ুয়ার অসন্তোষ বাড়তে থাকায় শেষপর্যন্ত পদত্যাগ করলেন শিক্ষামন্ত্রী। তবে যেসব হাইপ্রোফাইল মন্ত্রীরা পদত্যাগ করেছেন তাঁদের সংগঠনের কাজে নিয়োগ করা হবে কিনা তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেননি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। শুধুমাত্র পদত্যাকারী মন্ত্রীদের মধ্যে থারচাঁদ গেহলট কেবলমাত্র কর্নাটকের রাজ্যপাল হয়েছেন।

উল্লেখ্য, এ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী সন্তোষ গাঙ্গওয়ার, রসায়ন ও সার মন্ত্রী সদানন্দ গৌড়া, রমেশ পোখরিয়াল নিশাঙ্ক, থারাচাঁদ গেহলট, রবিশঙ্কর প্রসাদ, প্রকাশ জাভড়েকর, বাবুল সুপ্রিয়, সঞ্জয় ধোত্রে, রতন লাল কাতারিয়া, প্রতাপ চন্দ্র সরঙ্গি, দেবশ্রী চৌধুরীর পদত্যাগ গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি।

আরও পড়ুন- কিংবদন্তি দিলীপ কুমারের প্রয়াণে শোকবার্তা ইমরান খান ও শেখ হাসিনার