হর্ষবর্ধনকে চিঠি দিয়ে রাজ্যের বিরুদ্ধে তদন্ত চান শুভেন্দু, আর মন্ত্রী নিজেই কিনা পদচ্যুত!

দিন কয়েক আগে দিল্লি গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধনের (harsh vardhan) সঙ্গে দেখা করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (suvendu adhikari)। করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে তদন্তের দাবি করেন এবং তা সাংবাদিকদের ডেকে ডেকে প্রচারও করেন। এক জালিয়াতের ভুয়ো টিকাকরণ শিবিরের কথা বলে গোটা রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি নিয়েই বিভ্রান্তিকর তথ্য দিতে থাকেন শুভেন্দু। তাতে প্রভাবিত হয়ে রাজ্যের পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিকভাবে খোঁজখবর না নিয়ে রাজ্য সরকারকে কড়া চিঠি দিয়ে বসেন হর্ষবর্ধন। গোটা পশ্চিমবঙ্গে করোনা পরিস্থিতির যখন উন্নতি হচ্ছে, উল্টে কেন্দ্রের পাঠানো টিকার অপ্রতুলতার কারণে বঙ্গবাসী বঞ্চিত হচ্ছেন তখন পর্যাপ্ত টিকা পাঠানোর বদলে বিরোধী দলনেতার প্ররোচনায় রাজনৈতিক বক্তব্য রেখেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী। চিঠিতে তিনি লেখেন, বাংলার মত এত খারাপ অবস্থা কোথাও নেই। অথচ বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশে যখন গঙ্গায় মৃতদেহ ভাসানো হয়, বালিতে পুঁতে দেওয়া হয় হাজার হাজার করোনা রোগীর মরদেহ, তখন নীরব ছিলেন তিনি। মহারাষ্ট্র বা গুজরাটে বিজেপি পার্টি অফিস থেকে কোভিড টিকা মেলার পরেও তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কিন্তু তাঁর বাংলাবিরোধী মানসিকতা এত তীব্র যে দলবদলু নব্য বিজেপি নেতার অভিযোগ পেয়ে তথ্য যাচাই না করেই তিনি নবনির্বাচিত সরকারকে হেয় করতে নেমে পড়লেন। শেষপর্যন্ত অবশ্য নিজেই আজ পদচ্যুত। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সার্বিক ব্যর্থতার দায়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধনকে মন্ত্রিসভা ছাড়া করলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী! শুভেন্দু অধিকারীর দুদিনের লম্ফঝম্পও মাঠে মারা গেল।

আরও পড়ুন- অতিমারিতে মোদি সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগে সিলমোহর দিল স্বাস্থ্য ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ