Wednesday, May 27, 2026

মোদি-মন্ত্রিসভা: এবারও বঞ্চিত বাংলা, বঞ্চিত বঙ্গের আদি- বিজেপিও

Date:

Share post:

‘সুনার বাংলা’ অতীত৷

এখন পুরোটাই ২০২৪-এর মোদির ভোট৷

ফলে, সেই ২০১৪ থেকে ২০২১, টানা বঞ্চনা চলছে বাংলার সঙ্গে৷ এবারও পশ্চিমবঙ্গকে কোনও পূর্ণমন্ত্রী দিলেন না নরেন্দ্র মোদি৷ এবং একইসঙ্গে নিজের হাতে সিলমোহর লাগালেন ‘তৎকাল- বিজেপি’র গায়ে৷ শীর্ষ গেরুয়া নেতৃত্ব বাংলার ‘আদি’ বিজেপি-বাহিনীর চোখে আঙুল দিয়ে বোঝালেন, ‘আপনারা দলে নেহাতই ‘দ্বাদশ ব্যক্তি’, তৎকাল-দের জল-টল লাগলে, মাঠে নিয়ে যাবেন৷ ওই পর্যন্তই৷

বহু প্রতীক্ষিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে এবারও বাংলা একজনও পূর্ণমন্ত্রী পায়নি৷ প্রাক্তণ আরএসএস ডাক্তার সুভাষ সরকার এবং ৩ তৎকাল-বিজেপি জন বার্লা, শান্তনু ঠাকুর এবং নিশীথ প্রামাণিককে এবার
প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন৷ সরানো হয়েছে দুই প্রতিমন্ত্রী, বাবুল সুপ্রিয় এবং দেবশ্রী চৌধুরিকে৷ কেন এই দুই প্রতিমন্ত্রীকে দরজা দেখালো বিজেপি, তা নিয়ে চর্চা চলছে গেরুয়া-অন্দরে৷ আর সেই ফাঁক দিয়ে বাংলার চার বিজেপি -সাংসদ কাগজে-কলমে হয়ে গেলেন মন্ত্রী৷

কেন্দ্রীয় সরকারের কাঠামোয় প্রতিমন্ত্রীর কাজের পরিধি খুবই সংকীর্ণ৷ ২০১৪ থেকে বাংলা যে প্রতিমন্ত্রী পেয়ে এসেছে, তাঁরা একজনও তেমন ‘কাজের কাজ’ কিছু করে উঠতে পারেননি৷ করা সম্ভবও নয়৷ রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়ণ তো দূরের কথা, প্রতিমন্ত্রীরা একক উদ্যোগে নিজেদের জেলায় বা সংসদীয় কেন্দ্রে উন্নয়ণমূলক কাজ করতে চাইলেও অন্যান্য পূর্ণমন্ত্রীদের বরাভয়ের ভরসায় থাকতে হয়৷ তাছাড়া কাজ বার করে আনার মতো এলেম বা অভিজ্ঞতাও এই চারজনের একজনেরও নেই৷ নেই প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, প্রত্যেককেই এই প্রথমবার জন- প্রতিনিধি হয়েছেন৷

আসলে বাংলার উন্নয়ণের লক্ষ্যে এই চারজনকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়নি৷ টার্গেট ২০২৪-এর মোদির প্রধানমন্ত্রী পদে টিঁকে থাকার ভোট৷ জন বার্লার হাতে ধরে আদিবাসী ভোট, শান্তুনু ঠাকুরের মাধ্যমে মতুয়া ভোট, সুভাষ সরকার এনে দেবেন বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার ২-১ টি আসন এবং কোচবিহারে এবার নিজে মাত্র ৫৭ ভোটে জিতে বিধায়ক হলেও, লোকসভায় আসন এনে দেবেন নিশীথ প্রমাণিক, এই ছকেই এবার এই চারজনকে ঠাঁই দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায়৷

ফলে, এবারও বাংলা বঞ্চিতই থাকলো৷ এবং বঞ্চনার শিকার হলেন দিলীপ ঘোষের মতো নেতা তথা আদি-বিজেপি সাংসদরাও৷ তৎকাল- বাহিনী যখন দিল্লিতে দাপট দেখাচ্ছেন, শপথ নিচ্ছেন, ‘আদি-বিজেপি’ দিলীপ ঘোষ তখন রাজ্যে বসে শুভেন্দু অধিকারী- সৌমিত্র খাঁয়ের ‘মারামারি’ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন৷

বঙ্গের আদি- বিজেপি আশাকরি পড়তে পারছেন দেওয়াল-লিখন৷

আরও পড়ুন- মোদির মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা হেভিওয়েট রবিশঙ্কর-জাভড়েকরেরও

Related articles

অবমাননা ও উস্কানির অভিযোগ: গতবছরের ঈদের বক্তব্যে মমতার বিরুদ্ধে থানায় আইনজীবী

ঈদে রেড রোডের নামাজের অনুষ্ঠানে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষের বিরুদ্ধে অবমাননা ও উস্কানির অভিযোগ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata...

হুমকি দিয়ে ফতোয়া জারি করে হাওড়ার মঙ্গলাহাট দখল বিজেপির

চিত্রনাট্য তৈরি ছিল আগেই। লোক দেখানো প্রশাসনিক বৈঠক করে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল ব্যবসায়ীদের। কিন্তু অবশেষে নিজেদের...

পরিষেবা দিয়ে যান: মেয়র ও পারিষদদের বৈঠকে নির্দেশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

কলকাতা পুরসভার নির্বাচিত সদস্যদের মেয়াদ শেষের আগেই নজিরবিহীন অচলাবস্থা। ঘোষিত কর্মসূচি বাতিল করে দিচ্ছেন আধিকারিকরা। কিন্তু এই পরিস্থিতির...

লালবাজারে মুখ্যমন্ত্রী: সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবারের ঈদের নামাজ নিয়ে

রেড রোডে যে ঈদের নামাজ হবে না, আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল কলকাতা পুলিশ। এবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডেই যে...