Exceptional Wedding: কন্যাদান হল না! ব্যতিক্রমী বিয়ের সাক্ষী থাকলো বীরভূমের সিউড়ি

নব দম্পতি ও তাঁদের পরিবার এক প্রথা ভাঙা বিয়ের উৎসবে সামিল হলেন

করোনার আবহে টানা লকডাউনের জেরে বিয়ের অনুষ্ঠানে রাশ টেনেছিলেন বহু মানুষ। এখন করোনা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। তাই ফের বিয়ের মরশুমে উৎসবে সামিল হচ্ছেন বহু পরিবার। এমনই এক ব্যতিক্রমী বিয়ের সাক্ষী থাকলো বীরভূমের সিউড়ি।

নব দম্পতি ও তাঁদের পরিবার এক প্রথা ভাঙা বিয়ের উৎসবে সামিল হলেন। পাত্রের নাম অর্কপ্রভ সিনহা। তিনি পেশায় চিকিৎসক। পাত্রী অর্চিতা। সামজকর্মী। দু’জনের বাড়িই বীরভূমের সিউড়িতে (Suri)। বিয়ের অনুষ্ঠানে তাঁরা নতুন বার্তা পৌঁছে দেন সমাজের কাছে।

আরও পড়ুন- Earthquake : ভূমিকম্পের জেরে কেঁপে উঠল কলকাতা, কম্পন অনুভূত বাংলাদেশেও

নিশ্চয়ই ভাবছেন কী সেই বার্তা? তাঁদের বিয়েতে ‘কন্যাদান’ হয়নি। শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার সময় মাকে কনকাঞ্জলি দেননি অর্চিতা(Viral Video)। শ্বশুর বাড়িতে গিয়েও নিয়ম ভেঙে বেরিয়ে আসার সাহস দেখিয়েছেন তাঁরা।

আসলে বাঙালি মতে স্ত্রীর ভাত কাপড়ের দায়িত্ব নেন স্বামী। কিন্তু অর্কপ্রভ এবং অর্চিতার বিয়েতে দেখা গিয়েছে অন্য নিয়ম। ভাত কাপড়ের দায়িত্ব একা স্বামী নেন না। স্ত্রীকেও নিতে হল। দু’জনে দু’জনের জন্য রান্না করে খাবার বানিয়ে, থালা সাজিয়ে পরিবারের সকলকে সঙ্গে নিয়ে ভাত কাপড়ের অনুষ্ঠানে সামিল হলেন।

শুনলে অবাক হবেন এর নেপথ্যে যিনি ছিলেন। অর্চিতা জানিয়েছেন, এই প্রথা ভাঙার ভাবনা সবটাই তাঁর শাশুড়ি মায়ের। তিনিই প্রথম বলেন মেয়েদের কেন সব নিয়ম মানতে হবে। সব নিয়ম বদলানো দরকার। সেই অনুযায়ী হয়নি কন্যাদান।

তাদের যুক্তি খুব স্পষ্ট, মেয়ে দানের বস্তু নন। আর আজকের দিনে মেয়েরা তাঁদের দায়িত্ব এবং স্বামীর দায়িত্ব দুটোই নিতে সক্ষম। তাই ভাত কাপড়ের সময় কেন সব দায়িত্ব স্বামী নেবে? মেয়েরাও সমান ভাবে নেবে। এই ভাবনা থেকেই তাঁরা প্রথা ভেঙেছেন।
বলা যেতে পারে, বিয়ের নিয়মে সমাজে মেয়েদের এক ধাপ এগিয়ে দিলেন এই পরিবার। তাদের এই প্রথা ভেঙে বেরিয়ে আসাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন অনেকেই।

 

Previous articleBreakfast sports: ব্রেকফাস্ট স্পোর্টস