সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলা ছিল একটি পরিকল্পিত, সমন্বিত এবং রাজনৈতিক আগ্রাসনের ঘটনা। কাদের পৃষ্ঠপোষকতায় এই প্রাণঘাতী হামলা ঘটল, তার প্রমাণই মিলছে ভিডিও ফুটেজে। ছবিতে উঠে আসছে যাদের নাম, তারা স্থানীয় বিজেপির নেতা-কর্মী। বিধায়ক-মন্ত্রীদের ঘনিষ্ঠ। তাহলে কি প্রমাণ হয় না সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনার পিছনে ছিল বিজেপির হাত। প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক, কার নির্দেশে ঘটেছিল হামলা। এই পরিকল্পনার নেপথ্য-কারিগর কে?

একের পর এক পরিচিত মুখ উঠে আসছে। আগেই সামনে এসেছিল আকাশ গায়েনের নাম। বিজেপির রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রচারেও তাঁকে দেখা গিয়েছে। তারপর বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখা গিয়েছিল ঘটনাস্থলে। এখানেই শেষ নয় উঠে এসেছে আরও নাম। অন্বেষা পালিত। বিজেপির সঙ্গে যুক্ত আরেকজন আক্রমণকারী। অগ্নিমিত্রা পাল ও রূপা গঙ্গোপাধ্যায় কি তাঁকে চিনতে পারছেন? নাকি ঘটনাস্থলে বিজেপি কর্মীদের বসিয়ে দেওয়ার পর তাঁদের সিলেক্টিভ অ্যামনেসিয়া হয়েছে? অপর একজন হলেন সুকান্ত সাহা। স্থানীয় বিজেপি নেতা! তিনিও উপস্থিত ছিলেন? তাঁর ভূমিকা কী ছিল? গুন্ডা জড়ো করা? পাথর ছুঁড়ে মারা? নাকি মহিলা বিজেপি কর্মীদের জন্য ডিম সংগ্রহ করা? সক্রিয় বিজেপি কর্মী ঋষভ সরকারও ছিলেন সেদিনের তাণ্ডবে। তাঁর বাবা গৌতম সরকার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপির মণ্ডল সভাপতি। ঘটনাস্থলে ছিলেন আরও এক বিজেপি কর্মী প্রীতম দাস। তাঁদের সেখানে থাকার নির্দেশ কে দিয়েছিল? তাঁদের কি গ্রেফতার করা হয়েছে? না। শুভেন্দু অধিকারী কি এই ধরনের অপরাধীদের আড়াল করছেন? হ্যাঁ। রাজ্য জুড়ে কেন্দ্র-সমর্থিত গুন্ডামি চলছে। আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে নতুন সরকারের ২২ দিনেই। বিজেপির সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এত অনিচ্ছা কেন? বাংলার মানুষ স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছেন কাকে রক্ষা করা হচ্ছে আর কাকে নিশানা করা হচ্ছে। মনে রাখবেন, নিষ্ক্রিয়তা যত দীর্ঘায়িত হবে, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার সন্দেহ তত জোরালো হবে। প্রমাণিত, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে যা ঘটেছিল, তা জনগণের কোনও স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া ছিল না, তা বিজেপিরই পরিকল্পিত ছক।

আরও পড়ুন- সিপিএম থেকে বহিষ্কৃত ‘নীতিহীন’কে টিকিট দিয়ে ভুল হয়েছিল: নাম না করে ঋতব্রতকে নিশানা মমতার

_

_

_

_

_
_
_
_
