Sunday, January 11, 2026

KMC 143: পাড়ার প্রিয় বৌমা ক্রিস্টিনা এবার তৃণমূলের প্রার্থী

Date:

Share post:

আসন্ন কলকাতা পুররসভা নির্বাচনে (KMC Election) বেহালা পূর্বের ১৪৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে এবার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) প্রার্থী হয়েছেন ক্রিস্টিনা বিশ্বাস। খ্রিস্টান সম্প্রদায় থেকে যে দু’জনকে এবার পুরভোটে তৃণমূল প্রার্থীকে করেছে, তার মধ্যে ক্রিস্টিনা একজন। ভোটের ময়দানে নবাগত হলেও ক্রিস্টিনার রাজনৈতিক পরিবার থেকেই বড় হয়ে ওঠা। বিয়ের পরও রাজনৈতিক পরিসরেই সংসার জীবন তাঁর।

শুধু রাজনীতি নয়, সারাবছর ক্লাব সংগঠন ও সমাজসেবামূলক কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন ক্রিস্টিনা। মানুষের আপদে-বিপদে ছুটে যাওয়া কিংবা সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসার জন্য ক্রিস্টিনা এলাকায় জনপ্রিয় মুখ। পাড়ার সকলের প্রিয় বৌমা। তাঁর সেই স্বচ্ছভাবমূর্তিকে কাজে লাগাতেই এবার মহিলা সংরক্ষিত ১৪৩ নম্বরে ওয়ার্ডে প্রার্থী করা হয়েছে ক্রিস্টিনাকে।

গতবারের জয়ী তৃণমূল কাউন্সিলর ইন্দ্রজিৎ ভট্টাচার্য গত বছর প্রয়াত হন। একদিকে কাউন্সিলর-এর মৃত্যুতে এলাকাবাসী যেমন অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছিলেন, ঠিক একইভাবে একুশের বিধানসভা নির্বাচনের অনেক আগে থেকে এলাকার মানুষকে ছেড়ে উধাও হয়ে যান প্রাক্তন বিধায়ক শোভন চট্টোপাধ্যায়। এরই মধ্যে একদিকে করোনা মহামারী, অন্যদিকে আমফানের দাপটে বিপর্যস্ত ওয়ার্ডবাসীর পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন এলাকার তৃণমূল কর্মীরা। সংসার সামলে তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে সমান তালে মানুষের সঙ্গে ছিলেন দুই সন্তানের মা ক্রিস্টিনা।

অভিভাবকহীন ওয়ার্ডে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মস্তিস্কপ্রসূত রাজ্য সরকারের সমস্ত সামাজিক প্রকল্প সহকর্মীদের সঙ্গে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন ক্রিস্টিনা। এই ওয়ার্ডে প্রায় ৯০% মানুষ ভ্যাকসিন পেয়েছেন। স্বাস্থ্য সাথী কার্ড-এর সুবিধা পেয়েছেন ৬ হাজার মানুষ ও তাঁদের পরিবার। লক্ষীর ভান্ডার পেয়েছেন ওয়ার্ডে ৪ হাজার মহিলা। স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড থেকে শুরু করে কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, সবুজসাথী সহ সমস্ত সরকারি প্রকল্পর সুবিধা পেয়েছেন এলাকার ছেলেমেয়েরা।

এছাড়া সারা বছর ধরে রক্তদান শিবির থেকে শুরু করে বিভিন্ন জনকল্যাণ মূলক কাজ অরাজনৈতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে করে গিয়েছেন ক্রিস্টিনা বিশ্বাস। দুর্গাপূজা হোক ঈদ কিংবা বড়দিন, উৎসবের দিনগুলিতেও মানুষ পাশে পেয়েছেন ক্রিস্টিনাকে।

তৃণমূল প্রার্থী জানালেন, মানুষের আশীর্বাদে তিনি নির্বাচিত হলে আগামী দিনে প্রয়াত ইন্দ্রজিৎ ভট্টাচার্যের অসম্পূর্ণ কাজগুলি তিনি সর্বাগ্রে সম্পন্ন করবেন। আরও বেশি বেশি করে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকল্প। কাউন্সিলরের কাছের মানুষকে আসতে হবে না। কাউন্সিলর ছুটে যাবেন মানুষের দুয়ারে। তিনি নির্বাচিত হলে রং বিচার না করে দলমত নির্বিশেষে মানুষের পরিষেবা দেওয়াই হবে তাঁর একমাত্র লক্ষ্য।

আরও পড়ুন:তৃণমূলের সংসদীয় কমিটির বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লিতে অভিষেক, শতাব্দীতে মালদহের পথে মমতা

spot_img

Related articles

‘ডুবন্ত টাইটানিক’, উৎপল সিনহার কলম

টাইটানিক যখন সমুদ্রের অতলে তলিয়ে যায়,ঠিক তার ১ ঘন্টা ৪০ মিনিট পর রাত ৪টে ১০ মিনিটে সেখানে আসে...

ফের শিরোনামে ডবল ইঞ্জিন ছত্রিশগড়! এবার পুলিশের জরুরি পরিষেবার গাড়িতে গণধর্ষণ যুবতীকে

ফের নারী নির্যাতনের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠল ডবল ইঞ্জিন রাজ্য ছত্রিশগড়। এবার খোদ পুলিশের জরুরি পরিষেবা ‘ডায়াল ১১২’-র...

বিজেপির সেমসাইড গোল! শুভেন্দুর নিরাপত্তারক্ষীরা পেটাল বিজেপি নেতাকে

বাংলাকে না চেনেন বিজেপির নেতারা, না তাঁদের ঘিরে থাকা কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী। ফলে বারবার 'সেমসাইড' হয়ে যাচ্ছে। বিরোধী...

নাকতলার নক্ষত্রদের নিয়ে বিশেষ উদ্যোগ, অরূপকে কৃতজ্ঞতা কৃশানুর পরিবারের

নাকতলা সেখানে সাত কীর্তিমানের কীর্তিকলাপ।যদিও তাঁরা আজ প্রয়াত। ভারতীয় ফুটবলের মারাদোনা কৃশানু দে(krishanu dey), গীতিকার গৌরিপ্রসন্ন মজুমদার, গীতিকার...