Tuesday, March 24, 2026

ওমিক্রন সামলাতে কড়াকড়ি থাক, কিন্তু লকডাউন নয়

Date:

Share post:

মৃত্যুঞ্জয় পাল: টিভিতে খবরের চ্যানেলগুলো চালালে, ফেসবুকের ডিজিটাল চ্যানেল, প্রিন্ট মিডিয়া সব জায়গাতে ওমিক্রন, ওমিক্রন আর ওমিক্রন(Omicron)। আগামীকালের থেকে আজকের দ্বিগুণ সংক্রমণ। রাজ্য সরকার(State government) কড়াকড়ি করছে না এখনো। কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না ইত্যাদি ইত্যাদি। নিশ্চয়ই খবর দেখান ওমিক্রন নিয়ে খবর করুন। কিন্তু তার সাথে সাথে মানুষ এবং সরকারকে ভীত সন্ত্রস্ত করে তুলবেন না।

ওমিক্রণ নিয়ে যতট জানলাম, বুঝলাম সংক্রমণের হার ডেল্টার চেয়ে বেশি। হয়তো খুব শীঘ্রই গোষ্ঠী সংক্রমণ হবে। তবে তার মানে এই নয় যে মানুষ সবকিছু ছেড়ে ঘরে বসে থাকবে। ওমিক্রনের সংক্রমণের হার নিশ্চয়ই বেশি কিন্তু এটাও লক্ষণীয় যে যারা সংক্রামিত হচ্ছে তাদের হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা তুলনামূলক কম। ওমিক্রন নাইজেরিয়াতে প্রথম ধরা পড়ে এবং তাদের সমস্ত তথ্য যদি আপনি লক্ষ্য করেন দেখেতে পাবেন যে ১ লাখে ৫০০ জন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। তার মধ্যে ২৫০ জন অন্য রোগ নিয়ে ভর্তি হচ্ছে। যখন করোনা টেস্ট হচ্ছে তখন ধরা পরছে ওমিক্রন আছে। র্তির হার ৪.৫% আর ডেল্টাতে ২১.২%। অর্থাৎ ওমিক্রনে সিভিরিয়াটি খুব কম। ডেল্টার তুলনায় মৃত্যুর হার ৯০-৯৬% কম। তাহলে লকডাউনের প্রশ্ন আসছে কেন? যারা লকডাউন হলে খবর করে রোজগার করবে, ঘরে বসে বেতন পাবে তাদের ব্যাপার আলাদা।

অসংখ্য সাধারণ মানুষের কি হবে? যারা অসংঘটিত সেক্টরে কাজ করে,তাদের কি হবে? আমার মতো যারা এই করোনা কালেও ঝুঁকি নিয়ে নতুন ব্যবসা শুরু করেছে, তাদের কি হবে? এরপরে লকডাউন হলে আমাদের সবাইক পরিবার নিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিতে হবে। ইতিমধ্যেই ভারতে কমপক্ষে ১২.২ কোটি মানুষ কাজ হারিয়েছে করোনার জন্য।

আরও পড়ুন: জোট করুন মেয়েকে মন্ত্রী করব: মহারাষ্ট্রে সরকার ফেলতে পাওয়ারকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন খোদ মোদি

সরকারের কাছে আমার আবেদন এই যে রোজ ১ লাখ সংক্রমণ হলেও দয়া করে লকডাউন করবেন না। কিছু নিয়মে কড়াকড়ি আনুন। তবে লকডাউন নয়।আমাদের এটা মাথায় রাখতে হবে যে ওমিক্রনের ফলে যত মানুষ মারা যাবে তার চাইতে অনেক বেশি মানুষ ডাইরিয়াতে মারা যায়। WHO র তথ্য বলছে শুধু ডাইরিয়াতে ৫২৫০০০ বাচ্চা মারা গেছে এই বছর।WHO র তথ্য আরো বলছে এই বছর টিবিতে মারা গেছে ১৫ লক্ষ মানুষ। তাহলে ওমিক্রনের জন্য এত বাড়াবাড়ি রকমের ভয় দেখানো কেন?

করোনাকে আমাদের স্বাভাবিক ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো নিয়েই বেঁচে থাকতে হবে। কিছু মানুষ নিশ্চয়ই মারা যাবে। সেতো সব অসুখেরই একটা মৃত্যুর হার আছে।এরপরেও যদি লকডাউন হয় তাহলে সরকারের কাছে অনুরোধ, লকডাউন করার আগে একটা বিষাক্ত গ্যাস চেম্বারে ঢুকিয়ে আমাদের মেরে ফেলুন।
ইতি,
একজন সাধারণ নাগরিক
মৃত্যুঞ্জয় পাল

Related articles

প্রত্যাবর্তনেই সায় বাংলার! পাথরপ্রতিমায় অভিষেকের সভায় জনসমুদ্র 

মণীশ কীর্তনিয়া তপ্ত দুপুরে মাথার ওপর চড়া রোদ। কিন্তু সেই তেজকে উপেক্ষা করেই বারোটা বাজতে না বাজতেই ভিড় জমতে...

শাহর কাঠপুতলি জ্ঞানেশ কুমার: সিইসি-র ‘ভদ্রলোক’ হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলল তৃণমূল

দেশের নির্বাচন কমিশনার পদে যত পদাধিকারীরা এসেছেন তার মধ্যে নতুন ইতিহাস তৈরি করেছেন জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর বিরুদ্ধেই একমাত্র...

আধাসেনা মোতায়েনে কলেজে! পিছোল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা

ভোট ঘোষণার আগেই রাজ্যে আধাসেনা মোতায়েন শুরু হওয়ায় কলেজগুলিতে তৈরি হয়েছে সঙ্কট। বাহিনীর থাকার ব্যবস্থা করতে গিয়ে একাধিক...

সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা ঘিরে ধোঁয়াশা, ২৪ ঘণ্টা পরেও স্পষ্ট তথ্য দিতে ব্যর্থ কমিশন

সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশের ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও স্পষ্ট তথ্য দিতে পারল না নির্বাচন কমিশন। সার্ভার সমস্যার...