প্রিয়জনের সঙ্গে শুধু বিচ্ছেদ কেন সেই ভাবনাটাও কষ্টের হয়। আর সেই প্রিয়জন যদি নিজের সন্তান হয় তাহলে? এর চেয়ে যন্ত্রণার বোধহয় পিতামাতার কাছে আর কিছুই নেই। সন্তান আত্মার আত্মীয়। বিশেষ বাবা আর মেয়ের সম্পর্ক যে গভীরতার তল খুঁজতে যাওয়া বাতুলতা ছাড়া আর কিছু না। যে স্নেহ, যে ভালবাসার কোনও ব্যাখা হয়না। এমনই এক বাবা মেয়ের হৃদয় বিদারক কাহিনী পড়লেন, দেখলেন অশ্রুসজল তামাম নেটদুনিয়া।


চিনের সিচুয়ান প্রদেশের ঝাং ঝিনলেই গ্রামের কৃষক লিয়াং। তাঁর একটি দুবছরের কন্যাসন্তান রয়েছে। যাকে প্রতিমুহূর্ত আগলে রাখেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ ছন্দপতন। ঠিক এক বছর আগে মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। চিকিৎসকরা জানান, মারণব্যাধি থ্যালাসেমিয়া (Thalassemia) শিকার ছোট্ট মেয়েটি। এই রোগের শিকার গোটা বিশ্বের বহু শিশুই। বিশ্বে থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক প্রায় ২৫০ মিলিয়ন। গোটা বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ১ লাখ শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। লিয়াংকে চিকিৎসক জানিয়ে দেন যে তাঁর মেয়ের শরীরে রক্তের কোষ ঠিকমতো কাজ করছে না, তাই খুব বেশিদিন বাঁচবে না সে বড়জোর এক বছর। এই ঘটনার পরে স্তব্ধ হয়ে যান পিতা লিয়াং। তারপর থেকেই মেয়েকে নিয়ে ঘর ছেড়ে রোজ কবরে (Grave) শুয়ে থাকেন তিনি। যে মেয়ে খুব বেশিদিন আর তাঁর সঙ্গে থাকবে না তাকে প্রতিদিন কবরে বাঁচতে শেখান কৃষক পিতা। অদূর ভবিষ্যতে যে ভয়ঙ্কর যন্ত্রণার সম্মুখীন হতে চলেছে লিয়াং তাঁরই পূর্ব প্রস্তুতিতে এমন হৃদয় বিদারক সিদ্ধান্ত। প্রাণ প্রিয় কন্যার আত্মা, তাঁর শরীর যাতে এই কবরের সঙ্গে অভ্যস্ত হয় তাই এমনটা করা। আপাত দৃষ্টিতে খুব অদ্ভূত বিরল ঘটনা হলেও এর অন্তর্নিহিত অর্থ নাড়িয়ে দিল মানুষকে। সবাই চাইছেন কোনও মিরাকল ঘটুক লিয়াংয়ের জীবনে।
















