Friday, June 26, 2026

শুধু স্টার নন, বড় মনের মানুষ ছিলেন আমার ‘মাস্টারমশাই’

Date:

Share post:

জয়িতা মৌলিক: তাঁর কাছে যখন আবৃত্তি শিখতে যাই, তখন কোনও ধারনাই ছিল না বাচিকশিল্পী হিসেবে পার্থ ঘোষ (Partha Ghosh) কোন মাপের মানুষ। তখন তিনি নক্ষত্র, আর আমার বয়স সাড়ে তিন। সেই সময় নিজে পড়ে কবিতা মুখস্থ করতে পারতাম না। মাস্টারমশাই ক্লাসে পড়ে শুনিয়ে দিতেন, বাড়িতে মা।সেইভাবেই ক্লাসে পিতৃস্নেহ আগলে রেখেছিলেন। প্রথম বড় স্টেজ পারফরম্যান্স করেছিলাম তাঁর সঙ্গেই। অসম্ভব দক্ষতা ছিল স্বরের উপর। একই সঙ্গে নীচের ‘ধা’ থেকে উপরের ‘ধা’ পর্যন্ত গলা চলত তাঁর। সরগম দিয়ে বললাম এই কারণেই, যে মাস্টারমশাইও মনে করতেন সরগম একজন বাচিকশিল্পী কণ্ঠকে তৈরি করে দেয়।

জানি আবৃত্তির শিক্ষক বা গুরুকে মাস্টারমশাই বলাটা একটু অদ্ভুত। কিন্তু আমি তাই বলতাম, তাই শেখানো হয়েছিল। বয়স বেড়েছে অনেক। কিন্তু কোনও দিনই তিনি ‘পার্থদা’ নন, আমার কাছে মাস্টারমশাই। কঠিন অসুখে পড়লেন আমার মা। চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে হবে ভেল্লোর। বাড়িতে ছুটে এলেন মাস্টারমশাই। দেখা করলেন। বাবাকে আড়ালে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসা বললেন, “কোনও দরকার হলে বলুন, আমি প্রস্তুত হয়েই এসেছি”। সেদিন আমার বাবার আর্থিক সাহায্যের প্রয়োজন হয়নি। কিন্তু ওনার এই পরোপকারের ইচ্ছেটা মুগ্ধ করেছিল আমাদের পুরো পরিবারকে। বহুদিন যোগাযোগ ছিল তাঁর সঙ্গে। নিয়মিত ক্লাসে হয়তো আর যাওয়া হয়নি। কাজের চাপে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল না। কিন্তু তাও যেখানে দেখেছেন ঠিক চিনতে পেরেছেন। আমি বলে নয়, যেকোনো ছাত্রছাত্রীকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন তিনি। এক একটা ক্লাসে প্রত্যেককে আলাদা করে শেখাতেন। ভুল ধরিয়ে দিতেন। সবচেয়ে বেশি জোর দেন উচ্চারণ আর কবিতা মুখস্থ করার উপর। কারণ তিনি বলতেন, দেখে কবিতা পাঠ হয়, আবৃত্তি হয় না। কত বড় মাপের বাচিকশিল্পী ছিলেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না সেই সময় পার্থ ঘোষ গৌরি ঘোষ ছিলেন স্টার। শুধু তাঁদের নামেই হল ভর্তি হয়ে যেত।

বাচিকশিল্পীই নন, ছিলেন বেতার শিল্পী। গল্প দাদুর আসর তাঁর সবচেয়ে জনপ্রিয় রেডিও শো। “ছোট্ট বন্ধুরা, কেমন আছ?”- তাঁর এই দুটো শব্দ শোনার জন্য রেডিও-তে কান পাততো ছোটরা, সঙ্গে বড়রাও। আর রেডিওর আর একপাশে বসে আমার মনে হত-, এ আমার মাস্টারমশাইয়ের কণ্ঠস্বর। গৌরী ঘোষের সঙ্গে ‘কর্ণ কুন্তী সংবাদ’- এর কর্ণ যেমন তাঁর বাচনভঙ্গীতে জীবন্ত হয়ে উঠত, একইভাবে জুটি বেঁধে বলতেন ‘প্রেম’। “আমি বিদ্রোহী রণক্লান্ত/ আমি সেইদিন হব শান্ত”- অবলীলায় বলে যেতেন পার্থ ঘোষ। ইদানিং অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। গত অগাস্টে স্ত্রী গৌরী ঘোষ চলে যাওয়ার পরে শূন্যতা আরও বেশি করে গ্রাস করে। 31 ডিসেম্বর তাঁর জন্মদিন পালন হয়। বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। কালের নিয়মে সবাইকে চলে যেতে হবে। তবু কিছু মানুষের চলে যাওয়া ব্যক্তিজীবনেও বড় দাগ রেখে যায়।

 

Related articles

নবান্নে কাকলি-শতাব্দী-সুদীপ: শুভেন্দু-সাক্ষাতে কী কথা!

তৃণমূলে বিক্ষোভ দেখিয়ে কমপক্ষে ১৯জন সাংসদ নিয়ে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন বর্ষীয়ান সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার (Kakoli Ghoshdastidar। জানিয়েছেন তাঁরা...

নেই হাজিরা, মামলা নিষ্পত্তিতে অনীহা, নতুন সরকারের আইনজীবী প্যানেল নিয়ে ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর এবার নতুন সরকারের সরকারি আইনজীবী প্যানেল নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতে...

ধান্দাবাজরা চলে গিয়েছে! আসল সম্পদ কর্মীরাই, তৃণমূলই থাকবে: বার্তা নেত্রীর

যারা চলে গিয়েছে যেতে দিন। নিজেকে আর পরিবার বাঁচাতে ধান্দাবাজরা বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। কিন্তু যাদের ঘাম-রক্ত-পরিশ্রম-আত্মত্যাগের বিনিময়ে...

দিদির সঙ্গেই আছি, থাকব! দুর্যোগ উড়িয়ে শপথ জেলা তৃণমূলের কর্মিসভায় 

বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বজ্রবিদ্যুৎ সহ প্রবল দুর্যোগ শহরজুড়ে। জল থইথই অবস্থা সর্বত্র। এই দুর্যোগের মধ্যেও ভিড়ে উপচে পড়ল...