নিশ্চিত পরাজয়ের আশঙ্কা, পাহাড়ে GTA নির্বাচন না করানোর দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি গুরুংয়ের

জিটিএ নির্বাচন না হওয়ায় পাহাড়ের উন্নয়নের কাজে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তাই পাহাড়বাসীর স্বার্থে দ্রুত জিটিএ নির্বাচন করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী

পাহাড় এখন শান্ত। ফিরেছে কাজের পরিবেশ। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বহুদলীয় গণতন্ত্র। এরই মাঝে গত মার্চের শেষে পাহাড় সফরে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে সর্বদল বৈঠক করেন তিনি। যেখানে মূল আলোচ্য বিষয় ছিল, গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (জিটিএ) নির্বাচন। কারণ, জিটিএ নির্বাচন না হওয়ায় পাহাড়ের উন্নয়নের কাজে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তাই পাহাড়বাসীর স্বার্থে দ্রুত জিটিএ নির্বাচন করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সর্বদল বৈঠকে একমাত্র বিমল গুরুংয়ের গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা ছাড়া সকলেই জিটিএ নির্বাচনের পক্ষে সায় দিয়েছে। সম্প্রতি, নবান্ন থেকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে জিটিএ নির্বাচনের ব্যাপারে সবুজ সঙ্কেত দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, আগামী জুনে এই নির্বাচন করতে চায় কমিশন। তার জন্য তৎপরতাও শুরু হয়ে গিয়েছে।

তবে এখনই জিটিএ নির্বাচন না করানোর দাবিতে এবার মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সভাপতি বিমল গুরুং। বরং, পাহাড়ে আগে সমস্যার স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান হোক। জানা গিয়েছে, এই মর্মে আজ শনিবার দু-পাতার একটি চিঠি মুখ্যমন্ত্রীকে পাঠিয়েছেন গুরুং।

আরও পড়ুন:ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিলেন বিপ্লব দেব

মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে গুরুং লিখেছেন, ১১টি জনজাতিকে তপশিলি উপজাতির মর্যাদা দেওয়া সহ পাহাড় সমস্যার সমাধানের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর ওপরেই ভরসা রেখেছে মোর্চা। কিন্তু এখনও জিটিএ ভোট করা ঠিক হবে না। পাহাড় সমস্যার স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান করার পরই এখানে ভোট করা হোক।

গুরুং আরও লিখেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক পাহাড় সফরেও আগে পিপিএস তারপরই যে কোনও ভোটের দাবি দলের তরফে জানানো হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাব মতো পাহাড় সমস্যার স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের খসড়া প্রস্তাবও ইতিমধ্যেই দলের তরফে রাজ্যের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। সেগুলির সঠিক মূল্যায়ণ করে দ্রুত স্থায়ী সমাধানের রাস্তা খোঁজার দাবি জানিয়েছেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সভাপতি। মুখ্যমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে গুরুং বলেছেন, ভোট যদি করতেই হয়, তাহলে জিটিএ নয়, আগে পাহাড়ে ২০০১ সাল থেকে বন্ধ থাকা পঞ্চায়েত ভোট করাক রাজ্য।

প্রসঙ্গত, আগেই জোটসঙ্গী বিজেপির হাত ছেড়েছে মোর্চা। বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের পাশে থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছিল গুরুংয়ের দলের তরফে। কিন্তু বিধানসভা ভোট থেকে শুরু করে কয়েক মাস আগে দার্জিলিং পুরসভা ভোটেও মুখ থুবড়ে পড়েছে গুরুংয়ের দল। এই পরিস্থিতিতে পাহাড়ে জিটিএ নির্বাচন হলে মোর্চার হার কার্যত নিশ্চিত। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, নিশ্চিত পরাজয় বুঝতে পেরে জিটিএ নির্বাচন আটকাতে মরিয়া বিমল গুরুং।




Previous articleJharkhand: কয়লা চুরি আটকাতে গিয়ে আক্রান্ত সিআইএসএফ-এর মহিলা আধিকারিক