পয়গম্বর বিতর্কে উত্তাল দেশ: উত্তরপ্রদেশে গ্রেফতার ২২৭, রাঁচিতে মৃত ২

হজরত মহম্মদকে নিয়ে নূপুর শর্মার(Nupur Sharma) বিতর্কিত মন্তব্যে গোটা দেশে হিংসার আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। উত্তরপ্রদেশের(Uttarpradesh) পাশাপাশি হিংসার আগুন ছড়িয়েছে দিল্লি, ঝাড়খন্ড ও পশ্চিমবঙ্গতেও। গত শনিবার উত্তরপ্রদেশের কানপুরে হিংসার পর শুক্রবারও সেখানে নানা জায়গায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে দেখা গেল বিক্ষোভকারীদের। পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া সহ নানা অভিযোগে শনিবার পর্যন্ত ২২৭ জনকে গ্রেফতার করেছে উত্তর প্রদেশ প্রশাসন। এর পাশাপাশি ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতেও(Ranchi) প্রবল হিংসার ঘটনা ঘটে এদিন। ব্যাপক সংঘর্ষ সেখানে দুজনের মৃত্যুর পাশাপাশি আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে রাঁচির বেশ কিছু জায়গায় কার্ফু জারি করা হয়েছে।

রাজ্যজুড়ে ভয়াবহ হিংসার আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর রাজ্যবাসীকে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছেন ঝাড়খন্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। তিনি বলেন, “আমি রাজ্যবাসীকে সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য এবং হিংসাত্মক কোনও কার্যকলাপে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকার আবেদন জানাচ্ছি।” অন্যদিকে গত শনিবার উত্তরপ্রদেশের কানপুরের ভয়াবহ হিংসার ঘটনায় জড়িত মূল অভিযুক্তের এক আত্মীয়ের বাড়ি এদিন বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেয় যোগীর প্রশাসন। কানপুরের জয়েন্ট কমিশনার অফ পুলিশ আনন্দ প্রকাশ তিওয়ারি জানিয়েছেন, “গত শনিবারে হিংসার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত জাফর হায়াত হাশমির ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির বাড়ি ভেঙে দিয়েছে কানপুর ডেভলপমেন্ট অথরিটি। আইন মেনেই এই বাড়ি ভাঙার কাজ করা হয়েছে।” প্রসঙ্গত, মূল অভিযুক্ত জাফর-সহ পাঁচজনকে তিনদিনের পুলিশ হেফাজতে রাখাতে নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় আদালত। এদিকে এই ঘটনায় বিজেপি নেতাদের একের পর এক টুইট বিতর্ক বাড়িয়ে তুলেছে। হরিয়ানা বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অরুণ যাদবও টুইট করে বলেছেন, পাথর ছোঁড়ার পালটা হতে পারে বুলডোজার।পাশাপাশি মৃত্যুঞ্জয় কুমার একটি বুলডোজারের ছবি দিয়ে টুইট করেছেন, “হামলাকারীরা মনে রাখবেন, প্রত্যেক শুক্রবারের পরে কিন্তু শনিবার আসে।”

অন্যদিকে, জায়গায় জায়গায় হিংসার ঘটনায় ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে রাজ্যে রাজ্যে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, “পরিকল্পিতভাবে দেশের শান্তি নষ্টের চেষ্টা চলছে। যে কোনওরকম পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পুলিশকে সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে। প্রয়োজনে প্রস্তুত রাখতে হবে আধাসেনাকে। শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনে পুলিশ মোতায়েন করা যেতে পারে।” এর পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শান্তি শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে পারে এমন কোনও উস্কানিমূলক পোস্ট নজরে পড়লে দ্রুত অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় কড়া নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।


Previous articleআর কয়েকদিনের মধ্যেই বাড়ি ফিরবেন রেণু, চলবে চিকিৎসা