SAT: বাম জমানার নিয়োগ দুর্নীতি, ৬১৪ জনের চাকরি বাতিল করল স্যাট

২০০৮ সালে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। লক্ষাধিক আবেদন জমা পড়ে। এই কর্মীদের খাদ্য দফতরের কলকাতা ও জেলার বিভিন্ন অফিসে স্থায়ী পদে নিযুক্ত করা হয়। জানা যায় গ্রুপ ডি’র এই কর্মীদের নিয়োগ শুধুমাত্র ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমেই হয়েছিল। এর জন্য কোনও লিখিত পরীক্ষা হয়নি।

দুর্নীতি করে সরকারি চাকরিতে (Government Job) নিয়োগ করান হয়েছিল ৬১৪ জনকে। খাদ্য দফতরে (Food department) বেনিয়মের অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায়, বাম আমলে চাকরিপ্রাপ্ত ৬১৪ জন গ্রুপ ডি কর্মীকে বরখাস্ত করল স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল (SAT)।

তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আন্দোলন করা বাম সরকারের দুর্নীতিই স্পষ্টতই প্রমাণিত হল। নিয়ম বহির্ভূতভাবে ২০১০ সালে খাদ্য দফতরে গ্রুপ-ডি কর্মী নিয়োগ করা হয়। উল্লেখ্য ২০০৮ সালে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। লক্ষাধিক আবেদন জমা পড়ে। এই কর্মীদের খাদ্য দফতরের কলকাতা ও জেলার বিভিন্ন অফিসে স্থায়ী পদে নিযুক্ত করা হয়। জানা যায় গ্রুপ ডি’র এই কর্মীদের নিয়োগ শুধুমাত্র ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমেই হয়েছিল। এর জন্য কোনও লিখিত পরীক্ষা হয়নি। সরকারি সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে না করে, খাদ্য দফতর সেই সময় নিজেই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সিলেকশন বোর্ডের (Selection board) পাঁচ সদস্য সহ এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত অন্যান্যদের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছে স্যাট (SAT) । পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সঙ্গে যাঁরা যুক্ত ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় তদন্ত শুরুর কথা বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত হাইকোর্টে (Calcutta High Court)এই সংক্রান্ত মামলার রায়ের প্রসঙ্গ তুলে স্যাট (SAT) জানায়, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে দেখা গেছে যে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রহসন হয়েছে। বাম আমলে স্বজনপোষণ এবং পক্ষপাতিত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তা স্পষ্ট। আসলে ২০১৬ সালের ১০ জুন হাইকোর্ট মামলাটি স্যাটে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। হাইকোর্ট প্রশ্ন তোলে একদিনে কী করে  ৮০০ জনের ইন্টারভিউ নিতে পারে সিলেকশন কমিটি? সিলেকশন বোর্ডের দু’জন সদস্যের নাম উল্লেখ করে হাইকোর্ট জানায়, কমিটির ঘনিষ্ঠ আত্মীয়রা চাকরিপ্রার্থী ছিলেন। হাইকোর্টের রায়েই মামলাটি স্যাটের কাছে দ্বিতীয়বারের জন্য পাঠানো হয়। মামলায় প্রতিপক্ষ হিসেবে চাকরি প্রাপকদের বারবার নোটিস পাঠানো হলেও তাঁরা সহযোগিতা করেন নি। স্যাট গোটা বিষয়টি খাদ্য দফতর এবং নবান্নকে (Nabanna) জানিয়েছে। পাশাপাশি মুখ্য সচিবের কাছে নির্দেশনামার প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে বলেই সূত্রের খবর।



Previous articleগেরুয়া সন্ত্রাসে রক্তাক্ত ত্রিপুরা: গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ তৃণমূল ছাড়বে না একইঞ্চি জমিও