গেরুয়া সন্ত্রাসে রক্তাক্ত ত্রিপুরা: গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ তৃণমূল ছাড়বে না একইঞ্চি জমিও

তৃণমূল নেতৃত্বের স্পষ্ট বার্তা, কারচুপি ভোটের ফলাফল যাইহোক না কেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে ত্রিপুরায় পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত এক ইঞ্চিজমিও ছাড়া হবে না

নির্বাচনের নামে প্রহসন। যে ছবি মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানাবে। উপনির্বাচনে দিনভর গেরুয়া সন্ত্রাসে রক্তাক্ত ত্রিপুরা। তবে তৃণমূল নেতৃত্বের স্পষ্ট বার্তা, কারচুপি ভোটের ফলাফল যাইহোক না কেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে ত্রিপুরায় পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত এক ইঞ্চিজমিও ছাড়া হবে না। স্বাধীনতা, উন্নয়ন, গণতন্ত্রের ফেরাতে ত্রিপুরাবাসীর কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ তৃণমূল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার প্রহসনের ভোট শেষে যা বললেন ত্রিপুরার দায়িত্বপ্রাপ্ত তৃণমূল নেতারা। দিনভর সন্ত্রাসের তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন চার কেন্দ্রের ঘাসফুল প্রার্থীরাও।

*একনজরে ত্রিপুরা উপনির্বাচন নিয়ে যা বললেন তৃণমূলের নেতা-নেত্রীরা*

*কুণাল ঘোষ (তৃণমূল মুখপাত্র):* ত্রিপুরায় পুলিশ সুরক্ষিত নয়। যে রাজ্যের পুলিশকে ছুরি খেতে হয়, সাংবাদিক আক্রান্ত সেই রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা বলে কিছু থাকে? কোথায় মানবাধিকার কমিশন? কোথায় এখন ৩৫৬ ধারার হুমকি? কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন কমিশন এখন কোথায়? মুখ্যমন্ত্রীর মুখ বদল হয়নি। মুখোশ বদল হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দু’বার উপনির্বাচনের প্রচারে যেতেই বিজেপির ভিত নড়ে গিয়েছে। ত্রিপুরা থেকে বিজেপিকে সরিয়েই ছাড়বে তৃণমূল। বিজেপি বিরোধী বিকল্প শক্তি তৃণমূল বলেই আমাদের প্রার্থীর উপর হামলা চালিয়েছে।

*সুবল ভৌমিক (রাজ্য সভাপতি, ত্রিপুরা প্রদেশ তৃণমূল):*

ত্রিপুরায় গণতান্ত্রিক পরিবেশ নেই তা আগেই বলেছিলাম। আবার তা প্রমাণিত হল। এখানে শাসক দল ভয় পেয়েছে। তারা জানে, অবাধ শান্তিপূর্ণ ভোট হলে তারা নিশ্চিত হারবে। তাই ভোটের আগে থেকেই এখানে সন্ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করে রেখেছে। পুলিশ এখানে নীরব দর্শক। এইভাবে বেশিদিন মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারবে না বিজেপি। পরিবর্তন আসবেই।

*রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় (ত্রিপুরা তৃণমূল ইনচার্জ):* ত্রিপুরায় ভোটের নামে গণতন্ত্র হত্যার যে ছবি দেখা গেল, তাতে স্পষ্ট, বিজেপির শেষের শুরুর দেওয়াল লিখন। বিধানসভার পর এই সরকার আর থাকছে না। তারা নিজেদের কফিনে শেষ পেরেকটি নিজেরাই পুঁতে দিয়েছে। এতো সন্ত্রাসের পরে অন্য বিরোধী রাজনৈতিক দল যখন ময়দান ছেড়ে দিয়েছে, তখন তৃণমূলের কর্মীরা শেষপর্যন্ত লড়ে গিয়েছে। পোলিং এজেন্টদের হুমকি দেওয়া হলেও তারা দমে যায়নি। তাই উপনির্বাচনের ফলাফল যাইহোক না কেন তৃণমূল গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাবে, স্বাধীনতার লড়াই চালিয়ে যাবে। উন্নয়নের লড়াই চালিয়ে যাবে। আমরা মানুষের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একইঞ্চিও জমি ছাড়া হবে না।

*পান্না দেব (প্রার্থী, ৬ আগরতলা)* আমাকে বুথে ঢুকতে বাধা দিয়েছে বিজেপির গুন্ডারা। পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়েছে। রাস্তায় আমার গাড়িতে হামলা চালিয়েছে বাইক বাহিনী। আমার কর্মীদের মারধর করা হয়েছে।

*সংহিতা বন্দ্যোপাধ্যায় (প্রার্থী, বড়দোয়ালি):* সকাল থেকে বহিরাগত এনে রিগিং, সন্ত্রাস, বুথ জ্যাম করেছে বিজেপির দুষ্কৃতীরা। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের ভয় দেখানো হয়েছে।

*অর্জুন নমশূদ্র (প্রার্থী, সুরমা):* কাউকে ভোট দিতে দেয়নি বিজেপি। আমার ড্রাইভার আক্রান্ত। পোলিং এজেন্টকে বাড়ি থেকে বেরোতে দেওয়া হচ্ছে না। ত্রিপুরার মানুষকে বাঁচাতে হলে। গণতন্ত্র ফেরাতে হলে অবিলম্বে রাজ্য জুড়ে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হোক।

*মৃণালকান্তি দেবনাথ (প্রার্থী, যুবরাজনগর):* বিজেপির গুন্ডারা অনাদের এজেন্টদের বুথে বসতে বাধা দিয়েছে। ত্রিপুরায় সুষ্ঠ নির্বাচন সম্ভব নয়। ভোটারদের উদ্দেশ্যে আমি বলতে চাই, যুবরাজনগরবাসী বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে দিয়ে জীবনযাপন করছে। আজকে একটি ঐতিহাসিক দিন, এই উপনির্বাচন আগামী দিনে ত্রিপুরার ভবিষ্যত ঠিক করবে। তাই সমস্ত বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে আপনার গণতন্ত্রের পক্ষে রায় দিন।

 

 

Previous articleRanji Trophy:’আম্পায়ারদের ওপর ভরসা আছে’, রঞ্জিট্রফিতে ডিআরএস নিয়ে বললেন বিসিসিআইয়ের এক কর্তা