Saturday, May 16, 2026

‘দ্রৌপদী’ ইস্যুতে সরগরম সংসদ, প্রকাশ্যে সোনিয়া-স্মৃতি সংঘাত

Date:

Share post:

অধীর চৌধুরীর (Adhir Ranjan Choudhury) মন্তব্যের আঁচ লাগলো দলের অন্তর্বর্তীকালীন সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর (Sonia Gandhi) গায়েও। বৃহস্পতিবার একদিকে যেমন ‘দ্রৌপদী’ (Droupodi Murmu) ইস্যুতে সরগরম সংসদ ভবন, ঠিক তেমনই প্রকাশ্যে এলো সোনিয়া-স্মৃতি তরজাও। এদিন কোনও রাখঢাক না রেখেই সংসদ ভবনে প্রকাশ্যে সোনিয়া স্মৃতিকে (Smriti Irani) বলেন, “আমার সঙ্গে কথা বলবেন না”। পরে সোনিয়া গান্ধী কংগ্রেস সাংসদদের নিয়ে স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে স্মৃতির বিরুদ্ধে অভিযোগও জানিয়েছেন বলে খবর।

বিগত কয়েকদিন সোনিয়া গান্ধীকে ইডির (Enforcement Directorate) লাগাতার জেরার প্রতিবাদে সংসদ চত্বরে (Parliament) বৃহস্পতিবার ধর্নায় বসেন কংগ্রেস সাংসদরা। পাশাপাশি কোনও কারণ ছাড়াই বিরোধী সাংসদদের সাসপেন্ড (Suspend) করার প্রতিবাদে বুধবার থেকেই সংসদে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন কংগ্রেস, ডিএমকে সহ একাধিক বিরোধী দল। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার সকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে দ্রৌপদীর বিরুদ্ধে বেফাঁস মন্তব্য করেন অধীর। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাগে ফেটে পড়ে বিজেপি। সংসদে দাঁড়িয়েই রাষ্ট্রপতির অপমানের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন কেন্দ্রীয় মহিলা ও শিশু কল্যাণ উন্নয়ন মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। তিনি বলেন, সোনিয়া গান্ধী কীভাবে দেশের সর্বোচ্চ আইনসভায় একজন মহিলাকে এভাবে অপমানিত হতে দিলেন? এরপরই স্মৃতির দাবি, অবিলম্বে এমন মন্তব্যের জন্য অধীর ও সোনিয়া, দু’জনকেই ক্ষমা চাইতে হবে। তবে এদিনের হই-হট্টগোলের জেরে কিছুক্ষণের মধ্যেই অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করেন স্পিকার।

এরপরই অধিবেশন কক্ষে থাকা বিজেপি সাংসদ রমা দেবীর (Rama Devi) কাছে যান সোনিয়া। তিনি রমা দেবীকে জানান, ঘটনার পর অধীর রঞ্জন চৌধুরী নিজে ক্ষমা চেয়েছেন। তাহলে এসবের মধ্যে তাঁকে টানার কারণ কি? তখনই স্মৃতি ইরানি সেখানে যান এবং সোনিয়া গান্ধীকে সাহায্য করার অনুরোধ জানান। স্মৃতি জানান, তিনিই সংসদে সোনিয়ার নাম নিয়েছিলেন। এরপরই স্মৃতির উপর ক্ষুব্ধ হয়ে সোনিয়া বলেন, আপনি আমার সঙ্গে দয়া করে কথা বলবেন না।

তবে সোনিয়ার এমন মন্তব্যের পর চুপ থাকেনি বিজেপি (BJP)। বিজেপি সাংসদ রমা দেবী ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বলেন, এদিন সোনিয়াজি জানতে চান এই ঘটনায় তাঁর অন্যায় কি? তার উত্তরে বিজেপি সাংসদ জানান, আপনার সবথেকে বড় অন্যায় অধীর চৌধুরীর মতো একজন মানুষকে লোকসভার দলনেতা হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া। অন্যদিকে বিষয়টা ঠিক কি নিয়ে হচ্ছে তা জানেনই না বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপি নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে (Supriya Sule)। তবে চুপ করে বসে নেই কংগ্রেসও (National Congress)। স্মৃতির আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে কংগ্রেসের অফিসিয়াল পেজ থেকে টুইট করা হয়, স্মৃতি ইরানির সোনিয়ার প্রতি নির্লজ্জ আচরণ রাজনীতিতে এক কালো অধ্যায়। এদিন সোনিয়াজিকে অপমান করে স্মৃতি ইরানি যে কেবল এই কক্ষের মহিলাদেরই অসম্মান করলেন তা নয়, দেশের সমস্ত মহিলাকেই অপমান করলেন। স্মৃতি ইরানির লজ্জা হওয়া দরকার।


Related articles

SIR-এ নাম বাদ পড়লে খারিজ হবে জাতি শংসাপত্র! জারি নির্দেশিকা

রাজ্যের ক্ষমতায় আসার পর একের পর এক আগের প্রশাসনের নিয়ম বদলের পথে বর্তমান রাজ্য সরকার। সেই পথে এবার...

ভোট পরবর্তী হিংসা: ছাড় পেলেন না পদকজয়ী স্বপ্না, পুড়ে ছাই বাড়ি

বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করছেন তাঁদের কেউ সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত থাকলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার পর্যন্ত করা হবে। সেই...

প্রচারে হিংসা ছড়ানোর অভিযোগ: FIR দায়ের অভিষেকের বিরুদ্ধে

বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বাংলায় যেভাবে হিংসায় প্ররোচনার অভিযোগ বারবার উঠেছে, তাতে শাসক ও প্রধান বিরোধী কোনও দলই পিছিয়ে...

SIR-এর ট্রাইবুনাল ধাঁধাঁ: ভোট দেওয়ার পরে নাম বাদ পড়ল ভোটার তালিকা থেকে!

গোটা এসআইআর প্রক্রিয়া বাংলার মানুষের বৈধ ভোটাধিকার বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করার জন্যই হয়েছিল, এমন অভিযোগ বারবার রাজ্যের একাধিক...