Saturday, January 24, 2026

ত্রিপুরায় গিয়ে বাংলায় কেন্দ্রীয় বঞ্চনার কথা স্বীকার শুভেন্দুর

Date:

Share post:

আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি ত্রিপুরায় হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচন। বাংলার প্রতিবেশি এই ছোট্ট রাজ্যে এবার মূলত চতুর্মুখি লড়াই। একদিকে ডাবল ইঞ্জিন শাসক বিজেপি, অন্যদিকে বাংলার মতো “অশুভ” জোট গড়ে লড়াইয়ের ময়দানে বাম-কংগ্রেস। এছাড়াও ভোটের লড়াই জমিয়ে দিয়েছে বাংলার শাসক দল তৃণমূল। রয়েছে তিপ্রা মথাও। সবমিলিয়ে জমজমাট ত্রিপুরার ভোট।

আরও পড়ুন:সাগরদিঘি উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ এক হোটেল ব্যবসায়ী, পরিচয় করে নিন

সম্প্রতি দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে আগরতলায় ঐতিহাসিক পদযাত্রা করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৫ কিলোমিটার পথে হেঁটেছেন অগুনিত তৃণমূল সমর্থক। ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে দেখার জন্য, ছোঁয়ার জন্য আগরতলার রাজপথে নেমেছিল মানুষের ঢল। অন্যান্য দলের তারকা প্রচারকরা যখন হুডখোলা গাড়িতে উঠে রোড-শো করছেন, তখন পায়ে হেঁটে তৃণমূল নেত্রীর প্রচার কিন্তু ত্রিপুরার মানুষের মনে দাগ কেটেছে। মমতাই ফ্যাক্টর, বুঝে ত্রিপুরা ছুটে গিয়েছেন বাংলার বিরোধী দলনেতা তথা দলবদলু বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী।

ত্রিপুরায় ডবল ইঞ্জিন সরকারের প্রয়াসে বিগত পাঁচ বছরে নাকি ব্যাপক ত্রিপুরার উন্নয়ন হয়েছে, রাজ্যে নাকি শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে বিজেপির আমলে। একটি নির্বাচনী প্রচারে দাবি শুভেন্দুর। যা শুনে ঘোড়াও হাসছে। প্রশ্ন উঠছে, এতই যখন উন্নয়ন, এতই যখন শান্তি, তাহলে ভোটের ৬ মাস আগে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ কেন বদল করতে হল? কেন বিপ্লব দেবকে সরিয়ে মানিক সাহাকে বসাতে হল মুখ্যমন্ত্রীর কুরশিতে? উত্তর নেই শুভেন্দুর কাছে।

তবে ত্রিপুরায় নির্বাচনী সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে অবচেতন মনে পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার কথা স্বীকার করে ফেলেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্যের একটি অংশে শুভেন্দু আচমকা বলে ফেলেন, ডবল ইঞ্জিন সরকার মানে কী? ভারতের দিল্লিতে যে সরকার আছে, সেই একই দলের সরকার যদি রাজ্যে থাকে তাহলেই কাজ হবে, অন্যথায় পশ্চিমবাংলার মতো ত্রিপুরা মানুষকেও বঞ্চিত করা হবে। পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও প্রকল্প হয় না। কারণ, রাজ্যে বিজেপি সরকার নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিঙ্গেল ইঞ্জিন সরকার রয়েছে। তাই
রেল লাইন, বিমানবন্দর, সিপোর্ট কিচ্ছু হবে না। অর্থাৎ, বিজেপিকে ভোট না দিলে কেন্দ্র ত্রিপুরাবাসীকেও তাঁদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করবে কেন্দ্র, সেটা তাঁর বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে স্পষ্ট করে দেন শুভেন্দু। যা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। গণতান্ত্রিক ভাবে ত্রিপুরার মানুষকে ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার কথা শুনিয়ে শুভেন্দু ভয় দেখাচ্ছেন বলেই অভিযোগ বিরোধীদের।

 

spot_img

Related articles

ক্যালেন্ডারের পাতায় ধরা দিল কলকাতার ঐতিহাসিক স্থাপত্য 

কলকাতার হেরিটেজ ল্যান্ডমার্ক (Heritage landmark of Kolkata) এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সকলের সামনে তুলে ধরতে পি অ্যান্ড সি এবং...

বারাসতের প্রাথমিক স্কুলে সরস্বতীপুজো নিয়ে ভুয়ো পোস্ট! সতর্ক করে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি জেলা পুলিশের

বারাসতের (Barasat) ময়নার (Moina) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সরস্বতীপুজো নিয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় ভুয়ো খবর রটানো হচ্ছে। অফিশিয়াল পোস্টে জানাল বারাসত...

২৬ জানুয়ারির আগে রেললাইনে বিস্ফোরণ পঞ্জাবে: হাই অ্যালার্ট ফতেগড়ে

পঞ্জাবে রেললাইনে রহস্যজনক বিস্ফোরণ ঘিরে নাশকতার আশঙ্কা। প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে পাঞ্জাবের ফতেগড় এলাকায় শুক্রবার গভীর রাতে বিস্ফোরণের (blast)...

SIR হয়রানির প্রতিবাদে বর্ধমানে রেললাইন আটকে বিক্ষোভ, ব্যাহত ট্রেন চলাচল

নির্বাচন কমিশনের (ECI) অপরিকল্পিত এসআইআর প্রক্রিয়ায় যেভাবে প্রত্যেকদিন সাধারণ মানুষকে হয়রান হতে হচ্ছে তার প্রতিবাদে এবার জাতীয় পতাকা...