Saturday, May 30, 2026

বলেন কী অমিত শাহ! রবীন্দ্রভাবনায় কেন্দ্রের শিক্ষানীতি?

Date:

Share post:

অর্পিতা চৌধুরী

“কেহ নাহি জানে কার আহ্বানে কত মানুষের ধারা
দুর্বার স্রোতে এল কোথা হতে সমুদ্রে হল হারা।
হেথায় আর্য, হেথা অনার্য, হেথায় দ্রাবিড়, চীন–
শক-হুন দল-পাঠান-মোগল এক দেহে হল লীন।”

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (Rabindranath Tagore) ভারততীর্থ কবিতা অমিত শাহ (Amit Shah) পড়েছেন কিনা জানা নেই। আর পড়লেও তিনি বা তাঁর দল এই ভাবনার মর্মোদ্ধার করতে আগ্রহী বলে মনে হয় না। সেই কারণেই রবীন্দ্রনাথের জন্মজয়ন্তীতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষণ বিস্ময় উদ্রেক করে। বিশ্বকবিকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে অমিত শাহর বচন: রবীন্দ্রনাথের ভাবনা অনুসরণ করে জাতীয় শিক্ষানীতি তৈরি হয়েছে। তাই নাকি? রবীন্দ্রভাবনা অনুসরণ করলে কীভাবে পাঠ্যসূচি থেকে বাদ যায় মোগল সাম্রাজ্যের ইতিহাস? অথবা গুজরাত দাঙ্গা, গান্ধীহত্যায় সঙ্ঘ অনুগামীদের ভূমিকার মত ঐতিহাসিক সত্য এবং বিবর্তনবাদের মতো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা? রবীন্দ্রনাথের সমন্বয়ের ভাবনা বুঝতে কারুর কারুর অসুবিধা হতে পারে, কিন্তু বিশ্বকবির নাম করে মিথ্যাচার বা নিজেদের অপকীর্তি ঢাকতে প্রয়োজনমত মনীষীদের ঢাল বানানো; এই প্রবণতা ভয়ঙ্কর।

নির্বাচনী সুবিধা পাওয়ার লক্ষ্যে বহুক্ষেত্রে রাজনীতিকদের অসত্য ভাষণের রেওয়াজ এদেশে আছে। ভোটদাতাদের সমর্থন পেতে কীভাবে জুমলাবাজি হয় তা অতীতে এই অমিত শাহই ফাঁস করেছিলেন। ২০১৪ সালে সব ভারতীয়র অ্যাকাউন্টে ১৫ লাখ টাকা ফেরানোর গপ্পো আক্ষরিক অর্থে নিয়ে যাঁরা বোকা বনেছিলেন, তাঁদের ভুল ভেঙে দিয়েছিলেন শাহই। বিহারে ভোটপ্রচারে গিয়ে এক সাক্ষাৎকারে তিনি কিছুটা লঘুস্বরেই বলেন, ওইরকম প্রতিশ্রুতি ছিল নেহাতই কথার কথা, জুমলা! ভোটের সময় এরকম বলতে হয়। অকপট এই স্বীকারোক্তির জন্য বিজেপি নেতার প্রশংসাই প্রাপ্য। কিন্তু কোনও ভোট আসছে দেখলেই নানা ছুতোয় মনীষীদের নাম টেনে আনা, তাঁদের কথা বলে নিজেদের মতো ব্যাখ্যা সাজানো, এসব অপকৌশল ধরতে না পারলে আমজনতারই বিপদ। জাতীয় শিক্ষানীতির বিষয়ে শিক্ষক মহলে যে প্রতিবাদ-ক্ষোভ- বিক্ষোভ চলছে তা পাশ কাটিয়ে রাজনীতিকরা যদি মনীষীদের নাম করে যেমন ইচ্ছে ব্যাখ্যা দেন, তা মূল্যহীন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সারা জীবন বিবিধের মাঝে মিলনের বার্তা দিয়েছেন। আর বিভাজনবাদী রাজনৈতিক দলের নেতা অমিত শাহ সেই রবীন্দ্রনাথকে টেনে এনে বঙ্গবাসীকে ভুল বোঝাতে চাইছেন। সামনে পঞ্চায়েত ভোট, পরের বছর লোকসভা, ফলে বাংলায় এসে অমিত শাহদের রবীন্দ্রনাথকে মনে পড়েছে। মোগল সাম্রাজ্যকে ইতিহাস থেকে বাদ দিয়ে যে রাজনৈতিক দল হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় ইতিহাসের নয়া অভিমুখ রচনা করতে চায়, তাঁরা রবীন্দ্রনাথের কথা যত কম বলেন ততই ভাল। অতীতে মহাত্মা গান্ধীকে ‘বেনিয়া’ বলেছিলেন অমিত শাহ, রবীন্দ্রনাথের সমন্বয়বাদী উদারতা হজম করা রাজনৈতিকভাবেই ওঁর পক্ষে সম্ভব নয়। অবশ্য বাংলার মানুষও তেমন প্রত্যাশা করে না।

 

Related articles

SEZ-এর আধুনিকীকরণে নজর:  শিল্প নিয়ে পরিকল্পনা জানালেন শমীক

রাজ্যে শিল্পায়নের বার্তা দিয়ে বাংলায় ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। একাধিক দফতরের মন্ত্রিত্ব বন্টন হলেও শিল্প মন্ত্রী এখনও নির্ধারিত হয়নি।...

IPL: শুভমানের শতরানে ফাইনালে গুজরাট, রেকর্ড গড়েও ট্র্যাজিক নায়ক বৈভব

শুভমান গিলের দুরন্ত শতরান, রাজস্থান রয়্যালসকে ৭ উইকেটে হারিয়ে IPL ফাইনালে গুজরাট টাইটন্স (Gujarat Titans )। বৈভব সূর্যবংশী...

‘সুন্দরী’কে আর রিল বানাবে না সায়নী! উদ্ধার ঝুলন্ত দেহ

ত্রিবেণীর (Triveni) পরিচিত সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ভ্লগার (Social Media Content Creator and Vlogger) পশপ্রেমী সায়নী চক্রবর্তীর...

সোমে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ: নজরে অর্থ ও স্বরাষ্ট্র দফতর

বাংলায় প্রথমবার ক্ষমতা দখল করলেও রাজ্যে মন্ত্রিসভা গঠনে হিমসিম বিজেপির সরকার। মাত্র পাঁচ মন্ত্রী এখনও পর্যন্ত শপথ নিয়েছেন।...