Friday, April 24, 2026

পঞ্চায়েতের প্রচারে উন্নয়নই তুরুপের তাস তৃণমূলের

Date:

Share post:

পঞ্চায়েত ভোট দরজায় কড়া নাড়ছে।জোরকদমে চলছে প্রচার। বিজেপি -কগ্রেস-সিপিএম তলে তলে একজোট হয়েও শাসকদলের প্রচারের ধারেকাছে নেই।

সোমবার হুগলি জেলার ধনেখালি এলাকায় পঞ্চায়েত ভোটের প্রচার করলেন রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন ও বিধায়ক অসীমা পাত্র। এদিন কর্মীদের সাথে বৈঠক করে পঞ্চায়েত ভোটে একসাথে লড়াই করার ডাক দেন মন্ত্রী । তিনি বলেন, রাজ্যের সব জায়গায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছে তৃণমূল সরকার। প্রত্যেক বাড়ির মানুষ রাজ্যের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছে। তাই এবার পঞ্চায়েত ভোটে জয় হবে উন্নয়নের। রাস্তাঘাট, আলো, জল থেকে সবক্ষেত্রেই ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আর মানুষের কাছে রাজ্য সরকারের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে ভোটের প্রচার আরও জোরদার করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, রাজ্যের বিরোধী দল ভোটে নেই তারা আছে শুধু কোর্টে। আর তাই হুগলি জেলার সমস্ত জায়গায় উন্নয়নের জোরে জিতবে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীরা।

পঞ্চায়েত ভোটের প্রচারে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিচ্ছেন। যেখানেই তৃণমূল মিছিল, মিটিং করছে, সেখানেই রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দলে দলে হাজির হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সোমবার আমতা বিধানসভা এলাকার বাগনান-১ নম্বর ব্লকের বাক্সিহাট ও কল্যাণপুর পঞ্চায়েত এলাকায় ভোটের প্রচারে এসে একথা জানালেন সেচমন্ত্রী পার্থ ভৌমিক। এদিন প্রথমে দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে মানকুর গ্যারাজ মোড় থেকে বাক্সিহাট পর্যন্ত প্রায় ৪ কিমি পদযাত্রা করেন মন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন এলাকার বিধায়ক সুকান্ত পাল-সহ স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা। এরপর বাক্সিহাটে দলের কর্মীদের নিয়ে একটি বৈঠক করেন পার্থ। সেখানে কীভাবে ভোটের প্রচার করতে হবে দলের কর্মীদের ভালভাবে বুঝিয়ে দেন। এরই পাশাপাশি এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি।এদিন বাক্সিহাটের পর কল্যাণপুর পঞ্চায়েত এলাকাতেও একইভাবে নিবিড় জনসংযোগের মাধ্যমে ভোটের প্রচার সারেন সেচমন্ত্রী।

এবারের পঞ্চায়েত ভোটে উন্নয়নই তুরুপের তাস তৃণমূলের।লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, বিধবাভাতা, বার্ধক্যভাতা, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, যুবশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী ইত্যাদি একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সঙ্গে লড়াই বিরোধীদের। সেই লড়াইয়ে ভালভাবে জিততে রবিবার প্রচারে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেল তৃণমূলের নেতা ও দলীয় কর্মী-সমর্থকদের।
এদিন দলীয় কর্মীদের নিয়ে প্রচার চালান হুগলি জেলাপরিষদের প্রার্থী সেখ মেহবুব রহমান। এদিন তিনি বলেন, আরামবাগ সাংগঠনিক এলাকা থেকে শ্রীরামপুর সাংগঠনিক সব জায়গায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। ফুরফুরা শরিফের ব্যাপক উন্নয়ন করেছে হুগলি জেলা পরিষদ। জেলার সব মানুষ দেখেছে কীভাবে উন্নয়ন হয়েছে সব জায়গায়। আর তাই মানুষ উন্নয়নের পক্ষেই ভোট দেবে।
হুগলি জেলার চণ্ডীতলা এলাকার জেলাপরিষদের প্রার্থী সুবীর মুখোপাধ্যায় আগেরবার সামলে ছিলেন জেলাপরিষদের পূর্ত দফতরের দায়িত্ব। এদিন তিনি বলেন, হুগলি জেলায় এমন কোনও জায়গা নেই যেখানে রাজ্য সরকারের উন্নয়ন পৌঁছায়নি। সমস্ত জায়গায় আজ পাকা রাস্তা, রাস্তায় রাস্তায় আলো, সমস্ত জায়গায় পানীয় জলের ব্যবস্থা, কোনও কিছুতেই পিছিয়ে নেই কোনও এলাকা। আর রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সুবিধা তো মানুষ পাচ্ছেই। সবমিলিয়ে পঞ্চায়েতের প্রচারে উন্নয়নকেই হাতিয়ার করেছে শাসকদল।

 

Related articles

দ্বিতীয় দফা ভোটের আগে খেলা ঘোরাবে আবহাওয়া!

কড়া রোদে বাংলায় প্রথম দফার ভোট সম্পন্ন হলেও দ্বিতীয় দফার আগে প্রকৃতির মেজাজ বদলাতে চলেছে। আলিপুর হাওয়া অফিস...

নৌকা চড়ে গঙ্গাভ্রমণে প্রধানমন্ত্রীর ফটোসেশন, ‘নমামি গঙ্গা’র বকেয়া টাকা কই, কটাক্ষ তৃণমূলের 

ভোটবঙ্গে ঝালমুড়ি নাটকের পর এবার শুক্রবার সকাল সকাল গঙ্গা ভ্রমণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi)। দ্বিতীয় হুগলি সেতুর...

নন্দীগ্রামে EVM নিয়ে যাওয়া গাড়ি আটকানোর ছক বিজেপির, রুখল পুলিশ-কেন্দ্রীয় বাহিনী

ভোট মিটতেই ইভিএম লুটের আশঙ্কায় নন্দীগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা! বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর বুথ থেকে ইভিএম নিয়ে...

দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে আজ জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠকে সিইও

নির্বিঘ্নে বাংলায় প্রথম দফার নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। প্রায় ৯২ শতাংশের বেশি ভোট দানের হার রীতিমতো রেকর্ড গড়েছে। দ্বিতীয়...