Monday, March 16, 2026

শরদ পাওয়ারই সরকারে যোগ দিতে বলেছিলেন: বিস্ফোরক দাবি ভাইপো অজিতের

Date:

Share post:

এনসিপি ভেঙে বিধায়কদের সঙ্গে নিয়ে মহারাষ্ট্রের বিজেপি ও শিবসেনা(বিক্ষুব্ধ) সরকারে যোগ দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে ‘বিভীষণ’ তকমা পেয়েছেন অজিত পাওয়ার। তবে এই পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত তাঁর নয় বলে বিস্ফোরক দাবি করলেন অজিত। এনসিপির এক সম্মেলনে যোগ দিয়ে কাকা শরদ পাওয়ার প্রসঙ্গে অজিত জানালেন, শাসকদলে যোগ দেওয়ার সেই নির্দেশ দিয়েছিলেন শরদ পাওয়ারই। অজিতের এহেন দাবিতে মহারাষ্ট্র তো বটেই জাতীয় রাজনীতিতে রীতিমতো শোরগোল শুরু হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ২ মে, এনসিপির সভাপতির পদ থেকে হঠাৎ ইস্তফা দিয়েছিলেন শরদ পাওয়ার। এরপর অজিত দলের সভাপতি হন। যদিও পরে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেন শরদ। এরপর এনসিপি ভেঙে অজিত পাওয়ার মহারাষ্ট্রের শিন্ডে সরকারে যোগ দেন। এবং উপমুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। তবে এই পদক্ষেপের পিছনে কাকা অজিত পাওয়ারে হাত রয়েছে বলে এনসিপি সম্মেলনে দাবি করলেন অজিত। এনসিপি সম্মেলনে অজিত বলেন, “সেদিন আমরা ১০-১২ জন বিধায়ক মিলে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করছিলাম। এরপর সুপ্রিয়াকে ডাকি। আমাদের মনে হয়েছিল সরাসরি শরদ পাওয়ারকে বিষয়টি বললে তিনি কী ভাববেন। সুপ্রিয়া ৮-১০ দিন সময় চান, এবং বলেন তিনি শরদকে বুঝিয়ে বলবেন। তবে বেশকিছুদিন কেটে যাওয়ার পর আমরা সিদ্ধান্ত নিই সরাসরি শরদ পাওয়ারের সঙ্গে কথা বলার। ওনাকে বিষয়টি জানানোর পর উনি বিষয়টি ভেবে দেখার জন্য কিছু সময় চান।” এরপর অজিত পাওয়ারের বক্তব্য অনুযায়ী, “এরপর ১ মে দলের এক অনুষ্ঠানে শরদ পাওয়ার আমাকে ডেকে বলেন সরকারে যোগ দিতে। একইসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি(শরদ পাওয়ার) দলের সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দেবেন।”

একইসঙ্গে অজিত বলেন, “শরদ পাওয়ার যে ইস্তফা দেবেন একথা কেউ জানত না। বিষয়টি শুধুমাত্র ৪ জন জানত। এরপর উনি ইস্তফা দিয়ে ১৫ সদস্যের কমিটি গঠন করেন, এবং নতুন সভাপতি বেছে নিতে বলেন। ২ মে উনি যখন ইস্তফা দেন, তখন তা গোটা এনসিপি নেতৃত্বের কাছেই আকস্মিক ছিল।” তবে শরদ পাওয়ারের পদত্যাগকে আর একটি নাটক বলে দাবি করে অজিত জানান, এক অনুষ্ঠানে নিজের ইস্তফার কথা ঘোষণা করে শারদ পাওয়ার বাড়ি চলে যান। পদত্যাগের পর দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা আনন্দ পরাঞ্জপে ও জিতেন্দ্র আওহাদকে ডাকেন শরদ পাওয়ার। এবং নিজের এই পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের জন্য দলের কর্মী সমর্থকদের যশবন্তরাও সেন্টারের সামনে বিক্ষোভ দেখানোর ব্যবস্থা করতে বলা হয়। আমি জানি না কেন? পদত্যাগ করতে না চাইলে উনি পদত্যাগ করতেন না। এই নাটক করার অর্থ কী?”

তবে অজিত পাওয়ারের এই দাবি প্রকাশ্যে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই মারাঠা রাজনীতিতে শোরগোল শুরু হয়েছে। যদিও অজিত সত্যি বলছেন? নাকি দলীয় সুপ্রিমোর সম্মানহানি করতে মিথ্যা গল্প ফাঁদছেন তা নিয়ে যথেষ্ট মতান্তর রয়েছে।

spot_img

Related articles

তৎকালে টেনশন নেই, ১০০০ কোটি খরচ করে ভোলবদল ভারতীয় রেলের!

সকাল ১০টা বা ১১টা বাজলেই আইআরসিটিসি-র (IRCTC) সাইটে রেলের (Indian Railways) টিকিট কাটতে গেলে যেন তাড়াহুড়ো লেগে যায়!...

রোহিত না কি শুভমন? ট্রফি জয়ের কারিগর নিয়ে বিসিসিআইয়ের ভুলে বিতর্ক তুঙ্গে

টি২০ বিশ্বকাপ জয়ের রেশ এখনও কাটেনি, এরই মধ্যে অনুষ্ঠিত হল বিসিসিআইয়ের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। গালা ইভেন্টেই চরম...

ওড়িশায় দুই মেয়েকে কুয়োয় ফেলে ‘খুন’,আত্মঘাতী মা!

মর্মান্তিক! দুই নাবালিকা (Double Murder Case) মেয়েকে কুয়োর জলে ফেলে খুন (Mother Kills Daughter)। শুধু তাই নয়, তার...

রাজ্যের প্রশাসনিক রদবদলে সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার: রাজ্যসভায় ওয়াকআউট তৃণমূলের

নির্বাচন ঘোষণা হতেই আদর্শ আচরণবিধি লাগু করার নামে রাজ্যের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় আঘাত নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচিত সরকারের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র...