Friday, May 29, 2026

বাংলার বদনাম করতেই পরিকল্পনামাফিক সন্দেশখালির ঘটনা, প্রধানমন্ত্রীর সততা নিয়ে প্রশ্ন তৃণমূলের

Date:

Share post:

সর্বভারতীয় মঞ্চে বাংলার বদনাম করতেই সাজানো হয়েছিল সন্দেশখালির ঘটনা। যে বিজেপি মহিলাদের ক্ষমতায়নের পক্ষে সওয়াল করে তাঁরাই বাংলার মহিলাদের ব্যবহার করে মিথ্যে ধর্ষণের অভিযোগ করেছে। এটাই এদের আসল চরিত্র। বিজেপি যে একটা বাংলা-বিরোধী দল তা এই ঘটনায় আরও একবার প্রমাণিত। সন্দেশখালির ঘটনা যে পরিকল্পনা করে সাজানো হয়েছিল তা কি জানতেন না প্রধানমন্ত্রী? তাহলে কি ধরে নিতে হবে সব জেনেশুনে শুধু নির্বাচনে জিততে তিনি দিনের পর দিন সন্দেশখালির মিথ্যে অভিযোগ নিয়ে প্রচার করেছেন এবং বাংলাকে বদনাম করেছেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এর জন্য বিজেপিকে ক্ষমা চাইতে হবে। রবিবার দিল্লির সাংবাদিক বৈঠক থেকে এই দাবিতে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করল তৃণমূল কংগ্রেস। আসলে সন্দেশখালির ঘটনাকে তৃণমূল সর্বভারতীয় স্তরে এদিন নিয়ে গেল। এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য ডাঃ শশী পাঁজা, রাজ্যসভার দুই সাংসদ সাগরিকা ঘোষ ও সাকেত গোখেল।
মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, সর্বভারতীয় মঞ্চে বাংলাকে বদনাম করতেই সন্দেশখালির ঘটনা সাজিয়েছিল বিজেপি। বাংলায় মহিলাদের অধিকার ও সুরক্ষা নিয়ে কোনও আপস করে না তৃণমূল কংগ্রেস সরকার। এটা ভালভাবেই জানে বিজেপি। তাই গোটা দেশের সামনে বাংলার নারী ক্ষমতায়নকে হেয় করতেই সন্দেশখালির মহিলাদের ব্যবহার করেছে বিজেপি। যা অত্যন্ত লজ্জার ও দুঃখের ঘটনা। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ বলেন, “সন্দেশখালিতে আসল দোষী বিজেপি। মহিলাদের টাকা দিয়ে সব করেছে। দেশের কাছে বাংলাকে বদনাম করার চেষ্টা করা হয়েছে। দু:খের বিষয় জাতীয় মহিলা কমিশনও কিছু বুঝতে পারল না!”

বিজেপিকে আক্রমণ করে সাংসদ সাকেত গোখেল বলেন, বাংলা তথা দেশকে আরও ৩০ বছর পিছিয়ে দিল নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর সরকার। ব্রিজভূষণ থেকে শুরু করে একাধিক উদাহরণ তুলে তিনি বলেন, যৌন হেনস্থাকারীদের বিজেপি কীভাবে পুরস্কৃত করে গোটা দেশ জানে। কিন্তু ধর্ষণের মতো সংবেদনশীল ঘটনা নিয়ে যে কুৎসিত খেলা বিজেপি খেলল, তাতে গোটা দেশের মহিলাদের এত দিনের লড়াই আরও ৩০ বছর পিছিয়ে গেল। ক্ষমতা থাকলে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে রাজনৈতিক লড়াইয়ে নামুক বিজেপি, কিন্তু বাংলাকে এভাবে অপমান করার কোনও অধিকার তাঁদের নেই।

এই প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনকেও আক্রমণ করে সাকেত গোখেল বলেন, প্রায় ১৮ ঘণ্টা হয়ে গেল এই চক্রান্তের ঘটনা সামনে চলে এসেছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এখনও নীরব। বিজেপির এই মিথ্যে প্রচার নিয়ে তাঁদের তরফে কোনও সাড়াশব্দ নেই। দলের আরও এক রাজ্যসভার সদস্য সাগরিকা ঘোষ বলেন, সন্দেশখালির ঘটনা বিজেপির ষড়যন্ত্র। বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করাই ছিল বিজেপির আসল উদ্দেশ্য। সে-কারণেই তারা সন্দেশখালিতে বড়সড় ষড়যন্ত্র করে সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়িয়েছিল। এই বিজেপি ভোটে জেতার জন্য সব করতে পারে। মেয়েদের ব্যবহার করে মিথ্যে ধর্ষণের অভিযোগ করা তাঁদের পক্ষেই সম্ভব। সন্দেশখালি-কাণ্ডের আসল দোষী বিজেপি নেতারা। জমি আন্দোলনে কাজ না হওয়ায়, সন্দেশখালির মহিলাদের দিয়ে মিথ্যে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করানো হয়েছিল। এর জন্য ওই মহিলাদের প্রত্যেকে ২ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। সবমিলিয়ে বাংলার বদনাম করতেই এই চক্রান্ত করেছিল বিজেপি নেতৃত্ব। আর প্রধানমন্ত্রী সব জেনেশুনে এই মিথ্যে প্রচার চালিয়ে গিয়েছেন শুধু ভোটে জেতার তাগিদে।




Related articles

প্রকাশ্যে প্রস্রাব বা চিপসের প্যাকেট ফেললেই জরিমানা: আসছে ‘স্বচ্ছ অ্যাপ’

শহর থেকে শহরতলি, নিময় মানা ও পরিচ্ছন্ন থাকার নতুন অভ্যাস চালু করার পথে বর্তমান বিজেপি সরকার। তার লক্ষ্যে...

দাবি নিরপেক্ষ তদন্তের, টাকিতে বেআইনি নির্মাণ ঘিরে প্রশ্নের মুখে পুর প্রশাসন 

বেআইনি নির্মাণ রুখতে রাজ্যের পৌর ও নগরোন্নয়ন দফতরের সাম্প্রতিক নির্দেশ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধল টাকিতে। যে...

সীমান্তে BSF-কে জমি দিয়ে শাহর প্রশংসা কুড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের উদ্দেশ্যই যেন ছিল বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার ও সীমান্তে বিস্তীর্ণ জমি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া। সেই...

আগেই বদলেছিলেন বাসা, এবার আইনি বিচ্ছেদের পথে স্বরূপ-জুঁই

একদিকে যখন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পরে টালমাটাল টালিগঞ্জের স্বরূপ বিশ্বাসের (Swarup Biswas) সিনেমাপাড়ার পদ, তখন তাঁর ব্যক্তিগত...