Saturday, January 31, 2026

বিধানসভায় চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা বিজেপির, সাসপেন্ড শুভেন্দু-অগ্নিমিত্রাসহ ৪ বিধায়ক

Date:

Share post:

রাজ্যের উন্নয়নমূলক কার্যকলাপে যে আদৌ রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের কোনও অবদান নেই, উপরন্তু তারা উন্নয়নের কাজে বাধা দিতেই বেশি উদ্যোগী, তা বারবার প্রমাণিত হয়েছে। এবার বিধানসভার (Assembly) অধিবেশন ভেস্তে দেওয়ার নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা বিরোধী দলনেতা (LoP) সহ বিজেপি বিধায়কদের। বিধানসভার অধ্যক্ষকে পর্যন্ত অপমান করতে বাকি রাখেননি তাঁরা। বিরোধী দলনেতা সহ বিজেপি বিধায়কদের আচরণে ক্ষুব্ধ অধ্যক্ষ (Speaker) তৃণমূল বিধায়কের আনা প্রস্তাবের ভিত্তিতে আগামী ৩০ দিনের জন্য বিরোধী দলনেতা সহ চার বিজেপি বিধায়ককে সাসপেন্ড (suspend) করার সিদ্ধান্ত নেন। অধ্যক্ষের নির্দেশের পরেও বিধানসভার বাইরে বেরিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির হুমকি দিতেও ছাড়েননি শুভেন্দু অধিকারী।

রাজ্যের মানুষের উন্নয়নের টাকা বছরের পর বছর কেন্দ্রের বিজেপি সরকার আটকে রাখে। রাজ্যের বিজেপি বিধায়ক, সাংসদ থেকে নেতৃত্বরা কোনওদিনও রাজ্যের মানুষের হয়ে সওয়াল করে সেই টাকা আদায়ে এগিয়ে তো আসেনই না, উপরন্তু টাকা বন্ধ করার জন্য সওয়াল করেন। সেখানে রাজ্যের শাসকদল বারবার কেন্দ্রের থেকে প্রাপ্য টাকা রাজ্যের মানুষের জন্য আনার পক্ষে সওয়াল করেন। সোমবার বিধানসভার অধিবেশনে (assembly session) কেন্দ্রের বরাদ্দ নিয়ে আলোচনার দাবি জানানো হয় তৃণমূল বিধায়কদের পক্ষ থেকে। সেই আলোচনায় সম্মতি দেন অধ্যক্ষ।

এরপরেই বিজেপির চার বিধায়ক সরস্বতী পুজো নিয়ে আলোচনার দাবি জানান। রাজ্যে যেখানে সুষ্ঠু ও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে বাগদেবীর আরাধনা সম্পন্ন হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে, সেখানে বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরে বিধানসভার অধিবেশন বানচাল করার চেষ্টা করেন বিজেপি বিধায়করা। বিরোধী দলনেতা (LoP) নিজে ওয়েলে নেমে এসে কার্যবিবরণীর পাতা ছিঁড়ে অধ্যক্ষের (Speaker) দিকে ছুঁড়ে মারেন বলা অভিযোগ অধ্যক্ষের। প্রতিবাদে তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ বিধানসভার বর্তমান অধিবেশন শেষ হওয়া পর্যন্ত, অর্থাৎ আগামী ৩০ দিন বিশৃভঙ্খলাকারী বিজেপি বিধায়কদের সাসপেনশনের পক্ষে আলোচনার প্রস্তাব।

তৃণমূল বিধায়কের আবেদনে সম্মতি জানান অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় (Speaker Biman Banerjee)। বিরোধী দলনেতা সহ সরস্বতী পুজো নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব আনা তিন বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল, বঙ্কিম ঘোষ ও বিশ্বনাথ কারককে সাসপেন্ড (suspend) করার সিদ্ধান্ত নেন অধ্যক্ষ। পরে তিনি জানান, বিধানসভায় আলোচনার আবেদন জানিয়েছিলেন বিধায়ক নির্মল ঘোষ। বিরোধী দলনেতা কার্যবিবরণীর পাতা ছিঁড়ে ফেলেন। সেই ছেঁড়া পাতা আমার দিকে ছুঁড়ে মারেন। তাঁদের এই আচরণের জন্য ৩০দিন, অধিবেশন (assembly session) শেষ না হওয়া পর্যন্ত সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যদিও এই আচরণে লজ্জিত হওয়া তো দূরের কথা, বিরোধী দলনেতা বিধানসভার অধিবেশন কক্ষের বাইরে বেরিয়ে এসে আরও বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করেন। সেই সঙ্গে হুমকি দেন, মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিধানসভার বাইরে তিনি ও বিজেপি বিধায়করা ধর্নায় বসবেন। মুখ্যমন্ত্রী (Chief Minister) বিধানসভায় অধিবেশনে যোগ দিতে এলে তাঁর পথ আটকে স্লোগান দেওয়ারও হুমকি দেন তিনি।

spot_img

Related articles

সতর্ক ও সর্বাত্মক লড়াই: ভবানীপুরের বিএলএ-দের বৈঠকে ডেকে বার্তা তৃণমূল নেত্রীর

একদিকে প্রতিপক্ষ বিজেপি। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের প্রতিদিনের নতুন নতুন ছক। এসআইআর প্রক্রিয়ায় যতবার কমিশনের চক্রান্ত ফাঁস হয়েছে, সবই...

কমিউনিস্ট সেলিমের কমিউনাল পলিটিক্স! জোট প্রক্রিয়া ব্যহত করায় দায়ী, সরব কংগ্রেস

কলকাতার হোটেলে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠক করে সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম একদিনে কত বিতর্ক টেনে এনেছেন শূন্যে...

দুদিনের সফরে শহরে শাহ: ‘জিতবই’ বার্তা দলীয় কর্মীদের

বাংলায় নির্বাচন শুরুর ঘণ্টা বাজার আগেই রাজনৈতিক ডেইলি প্যাসেঞ্জারিতে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বরা। প্রতি সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী, সভাপতি থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর...

কমিশনের জন্য পেশায় টান: হাই কোর্টের দ্বারস্থ LIC কর্মীরা, ব্যাখ্যা তলব আদালতের

রাজ্যের কর্মীদের পরে এবার কেন্দ্র সরকারের কর্মীরাও এসআইআর-এর অপরিকল্পিত পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। পর্যবেক্ষক পদে নিযুক্ত এলআইসি (LIC)...