Friday, June 26, 2026

রাজ্য বিজেপির নতুন সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য: তৃণমূলকে হারানো সম্ভব নয়, বার্তা ফিরহাদের

Date:

Share post:

প্রত্যাশা মতোই আরএসএস-এর নির্দেশেই আস্থা বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের। শত গোষ্ঠীতে বিভক্ত বঙ্গ বিজেপিকে এক সুতোয় গাঁথার ব্যর্থ চেষ্টায় শেষ পর্যন্ত এক বছরের বেশি পরে নতুন রাজ্য সভাপতি নির্বাচন করল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। রাজ্য নেতা শমিক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) ছাড়া অন্য কোনও মনোনয়ন জমা না পড়ায় শমিকই যে রাজ্য বিজেপির নতুন সভাপতি (BJP state president), তাতে আর কোনও সন্দেহই নেই। তবে রাজ্যের নেতৃত্ব বদল করে যে বিজেপি আখেরে বাংলায় কোনও প্রভাব ফেলতে পারবে না, স্পষ্ট করে দিলেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)।

বুধবারই বিজেপির নতুন রাজ্য সভাপতির নাম নিশ্চিত হয়ে যাবে, সম্ভাবনার কথা বিশ্ববাংলা সংবাদ মঙ্গলবারই জানিয়েছিল। সেই সঙ্গে শমিক ভট্টাচার্যের উপর যে আরএসএস-এর (RSS) আস্থা থাকার কারণে কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্বও আস্থা প্রকাশ করতে চলেছেন, এমন সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বুধবার নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত শমিক ভট্টাচার্য ছাড়া আর কারও মনোনয়ন (nomination) জমা পড়েনি। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনসলের উপস্থিতিতে নির্বাচনী আধিকারিক দীপক বর্মনের হাতে মনোনয়ন পত্র জমা দেন। যদিও সভাপতির নাম ঘোষণা করা হয় সন্ধ্যায়।

রাজ্য সভাপতির নাম যে একরকম নিশ্চিতই ছিল, তার প্রমাণ বিজেপি নেতৃত্ব সভাপতির সংবর্ধনার মঞ্চ বাধার কাজ প্রায় সেরে ফেলেছে বুধবার দুপুরে। মনোনয়ন পর্ব মেটার পরেই শমিক জানান, দল নিজস্ব ছন্দেই চলছে। নেতৃত্বের দেওয়া দায়িত্ব তিনি পালন করবেন। সেই সঙ্গে শাসকদল তৃণমূলকে বার্তা দেন, বিজেপির সংগঠন নেই বলে যে দাবি করা হয়, তার আসল রূপ এবার প্রকাশিত হবে।

কার্যত বিজেপির নবনির্বাচিত রাজ্য সভাপতির এই বুলি যে ফাঁকা আওয়াজ তা প্রমাণ করে দেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। শমিক ভট্টাচার্যের নতুন পদের জন্য তাঁকে অভিনন্দন জানান ফিরহাদ। তিনি বলেন, শুভেচ্ছা জানাই শমিককে। দীর্ঘদিন ওনার সঙ্গে এই বিধানসভায় (state assembly) একসঙ্গে কাজ করেছি। নতুন কাজে তিনি অবতীর্ণ হয়েছেন তার জন্য শুভেচ্ছা।

আরও পড়ুন: হাসিনার ছয়মাসের কারাদণ্ড! মামলার সঙ্গে যুক্তদের হুমকির অভিযোগ

তবে তৃণমূল প্রসঙ্গে শমিক যে মত পোষণ করেন, তার পাল্টা ফিরহাদ জানান, আশা করা ভালো। প্রত্যাশা ভালো নয়। শমিক (Shamik Bhattacharya) নিজেও জানেন তৃণমূলকে সরানো অসম্ভব। সভাপতি (state president) বদল করলেই তৃণমূলের যে ভিত্তি তা সরানো সম্ভব নয়। বিজেপি নিজেদের সংগঠনের মধ্যে থাকুক। আনন্দ করুক। সভাপতি হোক। খাওয়া দাওয়া হোক। কিন্তু তৃণমূলকে সরানোর প্রত্যাশা কখনই সম্ভব হবে না। কারণ তৃণমূলের নেত্রীর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যাঁর উপর সমস্ত বাংলার মানুষের আস্থা আছে।

Related articles

নবান্নে কাকলি-শতাব্দী-সুদীপ: শুভেন্দু-সাক্ষাতে কী কথা!

তৃণমূলে বিক্ষোভ দেখিয়ে কমপক্ষে ১৯জন সাংসদ নিয়ে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন বর্ষীয়ান সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার (Kakoli Ghoshdastidar। জানিয়েছেন তাঁরা...

নেই হাজিরা, মামলা নিষ্পত্তিতে অনীহা, নতুন সরকারের আইনজীবী প্যানেল নিয়ে ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর এবার নতুন সরকারের সরকারি আইনজীবী প্যানেল নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতে...

ধান্দাবাজরা চলে গিয়েছে! আসল সম্পদ কর্মীরাই, তৃণমূলই থাকবে: বার্তা নেত্রীর

যারা চলে গিয়েছে যেতে দিন। নিজেকে আর পরিবার বাঁচাতে ধান্দাবাজরা বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। কিন্তু যাদের ঘাম-রক্ত-পরিশ্রম-আত্মত্যাগের বিনিময়ে...

দিদির সঙ্গেই আছি, থাকব! দুর্যোগ উড়িয়ে শপথ জেলা তৃণমূলের কর্মিসভায় 

বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বজ্রবিদ্যুৎ সহ প্রবল দুর্যোগ শহরজুড়ে। জল থইথই অবস্থা সর্বত্র। এই দুর্যোগের মধ্যেও ভিড়ে উপচে পড়ল...