Tuesday, May 12, 2026

রাজ্যে প্রাথমিকে ড্রপ আউট শূন্য এটাই বাংলার প্রকল্পের সার্থকতা

Date:

Share post:

বর্তমানে রাজ্যে প্রাথমিকে ড্রপ-আউটের সংখ্যা নেমে এসেছে শূন্যে। আর সেটা সম্ভব হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Mamata Banerjee) মস্তিষ্কপ্রসূত বিভিন্ন প্রকল্পের জন্যই। কন্যাশ্রী দিবসের(Kanyashree) পর বৃহস্পতিবার ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে শিক্ষারত্ন সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান থেকে এ-কথা ফের একবার স্মরণ করিয়ে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন মুখ্যমন্ত্রী(Mamata Banerjee) বলেন, রাজ্যে ড্রপ আউটের হার আগে অনেক বেশি ছিল। কারণ মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে দিতেন বহু বাবা-মা। বাংলার সরকার শিক্ষাশ্রী, ঐক্যশ্রী, কন্যাশ্রী করার পরে প্রাথমিকে ড্রপ আউটের হার এখন শূন্য। সকলে পড়াশোনা করেন। উচ্চ পর্যায়ে এই হার ৩ শতাংশের সামান্য বেশি। কারণ উচ্চমাধ্যমিকের পরে অনেকে ব্যবসা করেন, চাকরি করেন।

এ প্রসঙ্গে বাল্যবিবাহ প্রথা রদ নিয়ে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদানের কথা তুলে ধরেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, এককালে ছোট মেয়েদের খুব অল্প বয়সে বয়স্কদের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হত। বিদ্যাসাগর বাল্যবিবাহ রদ করেছিলেন। এই বাংলার অ্যাসেম্বলি থেকেই একদিন সতীদাহ প্রথা রদ বিলও পাশ হয়েছিল। তারপর তা গোটা ভারতে গৃহীত হয়। অর্থাৎ দেশকে পথ দেখিয়েছিল বাংলাই। এগুলো আমাদের গর্বের জায়গা। তাই আমরা যেন আমাদের অস্তিত্ব ভুলে না যাই।
এদিন সেরা ১২টি স্কুলকে শিক্ষা ও খেলাধূলায় উৎকর্ষের জন্য পুরস্কার প্রদান করেন মুখ্যমন্ত্রী। শিক্ষক দিবস উপলক্ষে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মাদ্রাসা-সহ বিভিন্ন বোর্ডের পরীক্ষায় এবং জয়েন্ট এন্ট্রান্সে প্রথম হওয়া ১৯ জন ছাত্রছাত্রীকে সম্মানিত করা হয়। সমস্ত বোর্ড মিলিয়ে ৩৮৭জন কৃতী ছাত্রছাত্রীকে পুরস্কৃত করা হয়েছে এদিন। তাদের দেওয়া হয়েছে মানপত্র , ট্যাব, ল্যাপটপ, জেমস অফ বেঙ্গল নামে একটি বই, মুখ্যমন্ত্রীর স্বাক্ষর করা ডায়েরি এবং ১২টি বই।

এর আগে কন্যাশ্রী দিবসের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, কন্যাশ্রী প্রকল্প চালু হওয়ার পর বর্তমানে ড্রপ-আউটের সংখ্যা নেমে এসেছে শূন্যে। শুধু ইউনেস্কোর বিশ্ব স্বীকৃতি নয়, কন্যাশ্রীর আসল সাফল্য এখানেই। এখন মেয়েরা শুধু পড়াশোনা নয়, ভোকেশনাল ট্রেনিংও করছে। কন্যাশ্রী শুরুর আগে ২০১১ সালে ড্রপ-আউটের সংখ্যা ছিল পৌনে ৫ শতাংশ। কন্যাশ্রী চালুর পর প্রাথমিকে ছাত্রীদের ড্রপ-আউট এখন শূন্য। সেকেন্ডারিতে ২০১১-’১২ সালে ড্রপ-আউটের সংখ্যা ছিল ১৬.৩২ শতাংশ। এখন হয়েছে ২.৯ শতাংশ। উচ্চ মাধ্যমিকে আগে ছিল ১৫.৪১ শতাংশ। এখন হয়েছে ৩.১৭ শতাংশ।

Related articles

তিলজলার অগ্নিকাণ্ডের তদন্তে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন রাজ্যের

তিলজলার (Tiljala Fire Incident) চামড়ার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে চার...

STF-র জালে মাওবাদী নেত্রী শ্রদ্ধা, একই দিনে আত্মসমর্পণ মাওনেতারও: সহযোদ্ধাদের মূলস্রোতে ফেরার আহ্বান

কলকাতা পুলিশের জালে মাওবাদী নেত্রী শ্রদ্ধা বিশ্বাস (Shradha Biswas) ওরফে বেলা। বছর ষাটের ওই মাওবাদী নেত্রীর (Maoist Leader)...

শিল্প নিয়ে সৌরভকে কটাক্ষ শমীকের, বণিক সভার মঞ্চেই শিল্পপতিদের দিলেন বার্তা

২০২৩ সালে স্পেন সফরে গিয়ে বাংলায় ইস্পাত কারখানা করার ঘোষণা করেছিলেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। এক সপ্তাহ...

মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ হিমন্ত বিশ্বশর্মার: মন্ত্রিত্ব জোট বিধায়কদের

বিধানসভা নির্বাচনে ৩৮ শতাংশ ভোট নিয়ে ফের একবার অসমের ক্ষমতায় এনডিএ জোটের সরকার। ফের একবার মুখ্যমন্ত্রীর পদে হিমন্ত...