Wednesday, May 13, 2026

মাইকেল জ্যাকসন, ডায়নার সঙ্গে এক আসনে জুবিন! চোখের জলে শেষ বিদায়

Date:

Share post:

মনের মণিকোঠায় কোথায় যে এই শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা লুকিয়ে ছিল, তা যেন এভাবে শেষযাত্রা না হলে বোঝাই যেত না। মৃত্যুর খবর প্রচারিত হওয়ার পর থেকে অনুরাগীরা প্রথমে বিশ্বাসই করতে চাননি। দুর্ঘটনায় মৃত্যুতে ষড়যন্ত্র থেকে শাস্তির দাবি – কিছুই বাদ যায়নি। রাগ, ক্ষোভের প্রশমন হতে ঘরের কাছে এসে পৌঁছেছে প্রিয় শিল্পী, প্রিয় মানুষ জুবিনের (Zubeen Garg) মরদেহ। ব্যস। যাবতীয় অবিশ্বাস, ক্ষোভ, রাগ, ভালোবাসা – সব পরিণত হয়েছে চোখের জলে। অবশেষে মঙ্গলবার সেই নশ্বর দেহ শেষকৃত্যে মিলিয়ে গেল পঞ্চভূতে।

সিঙ্গাপুরে (Singapore) পরিবার, বন্ধু, অনুরাগী, কাছের মানুষ, সকলের থেকে অনেক দূরে ১৯ সেপ্টেম্বর না ফেরার দেশে চলে গিয়েছেন জুবিন গর্গ। কারো কাছে তিনি গায়ক, কারো কাছে শিল্পী, কারো জন্য গাইড, আবার কারো অনুপ্রেরণা। এত মানুষের আবেগ জড়িয়ে ছিল জুবিনের সঙ্গে, যার বিস্ফোরণ ঘটে ২১ সেপ্টেম্বর সকালে, গুয়াহাটিতে তাঁর মরদেহ পৌঁছতেই।

এত বিপুল সংখ্যক মানুষ জুবিন গর্গের মরদেহের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে অধীর, ধৈর্যশীল আগ্রহে অপেক্ষা করেন, যার জন্য অন্ত্যেষ্টির কাজ পিছিয়ে দিতে হয় দুদিন। তেজপুরে ২৩ সেপ্টেম্বর সেই দিন নির্ধারিত হয়। তাতেও যেন বহু মানুষকে বঞ্চিত করা হয়েছে শিল্পীর ‘কাছে’ পৌঁছতে। ধীর গতিতে এগোনো মরদেহের গাড়ির ফুলের সাজ তুলে শেষবারের মতো দেখার চেষ্টা করেন অনুরাগীরা। লিমকা বুক অফ রেকর্ডস (Limca Book of Records) বলছে মৃত্যুতে এত জনসমাগম তাদের রেকর্ডে ওঠার যোগ্য।

এর আগে মাইকেল জ্যাকসন, ব্রিটেনের রাজকুমারি ডায়না, পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যুতে যে জনসমাগম হয়েছিল, তার সঙ্গে তুলনা চলে গুয়াহাটির গত ২১ তারিখ থেকে হওয়া জনসমাগমের। কখনও বৃষ্টি, কখনও প্রবল রোদ, কেউ সারারাত লাইন দিয়েছেন খোঁড়া পায়ে লাইন দিয়েছেন। জুবিনের দেহ যতক্ষণ দাহ হয়েছে ততক্ষণ মায়াবিনী গান যেন এক স্তোত্রের মতো গেয়ে গিয়েছেন তাঁর ভক্তরা। আর সেই গান শুনে বাঁধ ভাঙা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী গরিমা সাইকিয়া (Garima Saikia)।

আরও পড়ুন: জলমগ্ন স্টুডিও চত্বর, বন্ধ একাধিক ধারাবাহিকের শ্যুটিং!

মঙ্গলবার শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জুবিনের বাবা কপিল বড়ঠাকুর। অসমীয়া শিল্পীসহ বলিউডের একাধিক সঙ্গীত শিল্পীকে শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে উপস্থিত দেখা যায়। রাজ্য সরকারের পক্ষে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা ছিলেন আগাগোড়া। সেই সঙ্গে কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গোগোই শেষ শ্রদ্ধা জানান অন্ত্যেষ্টির আগে। জুবিন যেমন সবধরনের রাজনীতি, আদর্শের আগে মানব ধর্মকে রেখেছিলেন, সেভাবেই তাঁর মৃত্যুতেও মিলে গেল অসমের রাজনীতি।

Related articles

জীবন যুদ্ধে হার মানলেন, টুটুহীন মোহনবাগান

লড়াই শেষ, জীবনযুদ্ধে হার মানলেন স্বপন সাধন বোস। ভারতীয় ফুটবলে যিনি পরিচিত টুটু(Tutu Bose) নামে। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষনিঃশ্বাস...

বিরাট ধাক্কা আসতে চলেছে: কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর আশ্বাসের পরই সতর্ক করলেন শিল্পপতি

একদিকে দেশের প্রধানমন্ত্রী করোনা পরিস্থিতির মতো কাজে ফেরার বার্তা দিচ্ছেন। অন্যদিকে তাঁরই পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী কেন্দ্রের সরকারের জ্বালানি (fuel)...

স্কুলবেলা থেকে মুখ্যমন্ত্রী! আজও ‘রবিদা’র সেলাইয়েই ভরসা শুভেন্দু অধিকারীর

রাজনীতিতে অনেক বদল এসেছে, সময়ের নিয়মে পদেরও পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু রুচি এবং ভরসায় বিন্দুমাত্র বদল আনেননি রাজ্যের নতুন...

পরবর্তী পরিকল্পনা নির্ধারণ: বুধে ৪১ দফতরের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী

রাজ্যে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পরে দ্রুততার সঙ্গে দফতরগুলিকে সক্রিয় করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu...