কালীপূজা (Kali Puja) ও দীপাবলির আগে পরিবেশবান্ধব সবুজ বাজি মানুষের পৌঁছে দিতে ১৪ অক্টোবর থেকে শহরের চারটি বাজি বাজার বসছে। শহিদ মিনার (Shahid Minar) সংলগ্ন মাঠ, উত্তর কলকাতার টালা, ময়দান, দক্ষিণ কলকাতার বেহালা এবং ইএম বাইপাস লাগোয়া কালিকাপুর মাঠে ১৪ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত বাজার চলবে বলে উদ্যোক্তাদের তরফে জানানো হয়েছে। এবিষয়ে আলোচনা করতে আজ ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিদের বৈঠকে ডাকা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে ওই বৈঠকে বাজি বাজারের নিরাপত্তা ও নিয়মাবলী চূড়ান্ত করা হবে। বড়বাজার ফায়ারওয়ার্কস ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের কর্মাধ্যক্ষ শান্তনু দত্ত বলেন, আনুমানিক ৫০টি দোকান রাখার চেষ্টা চলছে। টালা বাজারের উদ্যোক্তা শুভঙ্কর মান্না জানিয়েছেন, টালাতে ১৪ অক্টোবর থেকে ৪৪টি দোকান বসবে। সমস্ত বাজারগুলোতে কেবল পরিবেশ বান্ধব সবুজ বাজি বিক্রি করা হবে। আরও পড়ুন: ক্রমশ ঘনাচ্ছে জুবিন গর্গের মৃত্যু রহস্য, গ্রেফতার আরও ২
তবে কোনটা ‘সবুজ বাজি’ তা যাচাই করার উপায় নিয়ে প্রত্যেক বছরই বিতর্ক দেখা দেয়। কিউআরকোড বাধ্যতামূলক রাখার প্রস্তাব নিয়ে সঙ্গত প্রশ্ন উঠেছে — ব্যবসায়ী ও প্রশাসন দু’পালেই বিভক্তি রয়েছে। বড়বাজার অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক ধ্রুব নারুলা বলেন, “এবার আলাদা করে বাজির প্যাকেটে কিউআরকোড থাকা বাধ্যতামূলক নয়। সরকারি অনুমোদিত প্রস্তুতকারকদের তালিকা থাকবে; সেই প্রস্তুতকারকদের তৈরি বাজিই বৈধ। পুরোনো বক্সে কিউআরকোড থাকলে তা থাকবে।” তিনি জানান, পুলিশ অবৈধ বাজি আটকানোর কাজ চলাচ্ছে এবং ‘পপ’ নামের বেআইনি বাজিগুলি শনাক্ত করে ধরা হচ্ছে।

পরিবেশ কর্মী নব দত্ত বলেন, “কিউআরকোড নিয়ে বিভ্রান্তি দীর্ঘদিন থেকে বিদ্যমান। আমরা ইতিমধ্যে হাইকোর্টে বিষয়টি তুলেছি; সরকার থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা চাই। প্রয়োজনে আবারও আইনি পথ নেব।” তাঁর উদ্বেগ— প্রস্তুতকারকদের তালিকা থাকলেই যে নিরাপত্তা মিলবে, তা নয়; নকলের সম্ভাবনা রয়ে যায়। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, কিউআরকোড, প্রস্তুতকারক তালিকা ও প্যাকেট লেবেলিং নিয়ে পরবর্তী বৈঠকে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রশাসন বলছে, বাজারে অনুমোদিত প্রস্তুতকারকদের পণ্য ছাড়াও অবৈধ ও বিপজ্জনক পণ্যের বিরুদ্ধে কড়া নজর রাখা হবে। নিরাপত্তা, দুর্যোগপ্রবণতা ও পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও ফায়ার সার্ভিস–পুলিশ টিমের ডেপ্লয়মেন্টও নির্ধারিত হয়েছে।

–

–

–

–
–
–
