Tuesday, March 24, 2026

মহারাষ্ট্রের হাসপাতালে পুলিশ-সাংসদদের ‘রাজ’! আত্মহত্যার আগে চার পাতা লিখলেন চিকিৎসক

Date:

Share post:

সরকারি হাসপাতাল মানে প্রশাসনিক ও পুলিশের সব কাজেই দরকার পড়ে সেই হাসপাতালের। আর সেই সুযোগে মহারাষ্ট্রের হাসপাতালগুলিতে পুলিশের ও নেতাদের কী ধরনের স্বৈরাচার চলে চিকিৎসকদের উপর, তার ছবি তুলে দিয়ে গেলেন মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) ধর্ষিতা চিকিৎসক (rape victim)। সুইসাইড নোটে (suicide note) তিনি হাসপাতালে প্রশাসনিক অরাজকতা ও চাপের রাজত্ব কায়েম করেছে, তা স্পষ্ট করে দিলেন। যে বিজেপি বাংলার স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলির নিরাপত্তা নিয়ে আরজিকরের ঘটনার পরে সরব হয়েছিল, তাদের নিজেদের রাজ্য মহারাষ্ট্রে কীভাবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি (health centre) রাজনৈতিক ফায়দা ও অনৈতিক কাজের আখড়া বানিয়েছে, সেই ছবি এক চিকিৎসককে জীবন দিয়ে জানাতে হল।

মহারাষ্ট্রের সাতারার চিকিৎসক তরুণী ২৩ মাস ফলটনের সাব ডিস্ট্রিক্ট হাসপাতালে মেডিক্যাল অফিসার (MO) পদে ছিলেন। আর সেই সময়ের মধ্যে চারবার এক পুলিশ আধিকারিকের দ্বারা ধর্ষিতা (raped) হওয়ার অভিযোগ করেছিলেন। সেই কথা তিনি তাঁর হাতে লিখে গিয়েছিলেন। কিন্তু বাকি যা কিছু তিনি হাতে লিখতে পারেননি, তা তিনি জানিয়ে গিয়েছেন চার পাতার সুইসাইড নোটে।

মৃত চিকিৎসকের সুইসাইড নোটে দাবি, তাঁকে পুলিশ থেকে বারবার ধৃত ব্যক্তিদের মেডিক্যাল করার সময় ভুল রিপোর্ট (false report) লিখতে বাধ্য করা হত। এমনকি বহু ক্ষেত্রে ধৃতকে না দেখেই ‘সুস্থ’ বলে রিপোর্ট লিখে দিতে হত। ময়নাতদন্তের (post mortem) রিপোর্টের ক্ষেত্রেও একই চাপ ছিল। অনেকক্ষেত্রে সাংসদরা (MP) ফোনে একই চাপ দিতেন। হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হত।

মৃতা নিজের চারপাতার নোটে যে দাবি করেছেন, তার সঙ্গে সহমত হয়েছেন তাঁর এক আত্মীয়ও। তিনিও দাবি করেন, হাসপাতালে চিকিৎসককে প্রবল মানসিক চাপের মধ্যে থাকতে হবে। সবটাই অনৈতিক কাজের জন্য। এমনকি এই সংক্রান্ত অভিযোগ তিনি জেলা পুলিশ সুপার (SP), ডেপুটি সুপার পর্যন্তও জানিয়েছিলেন। কেউ তাঁকে প্রতিকারের আশ্বাস দিয়েছিলেন। আবার কেউ পরে যোগাযোগ করার আশ্বাস দিয়েও আর কখনও যোগাযোগ করেননি।

আরও পড়ুন: মহারাষ্ট্রে হাতে চিরকুট লিখে ‘আত্মঘাতী’ মহিলা চিকিৎসক: পুলিশের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, নীরব বঙ্গ বিজেপি!

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসার পুলিশ আধিকারিকের (Maharashtra Police) বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করার পর স্বাভাবিকভাবে মহারাষ্ট্রের সাধারণ চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যেখানে একজন মেডিক্যাল অফিসারের নিরাপত্তা নেই, রক্ষকদের হাতে তিনিই ধর্ষিতা, সেখানে অন্যান্য চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা কী, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু চারপাতার সুইসাইড নোটটি সামনে আসার পরে গোটা ছবিটা যেন আরও একধাপ বিজেপির অরাজকতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।

Related articles

স্বেচ্ছামৃত্যু প্রক্রিয়া সম্পন্ন: হরিশ রানার শেষ অধ্যায়ে ভারতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা

একটি অধ্যায়ের শেষে সবসময়ই একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। উত্তরপ্রদেশের হরিশ রানার মৃত্যুতে একদিকে যেমন তাঁর দীর্ঘ রোগ...

অনলাইনে খাবার অর্ডারে বাড়তি খরচ, জোম্যাটোর পর ফি বাড়াল সুইগি 

অনলাইনে খাবার অর্ডার করা এখন আর শুধু রেস্তোরাঁর দামের উপর নির্ভর করছে না, তার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে একাধিক...

জিআইএসএস তথ্য বাধ্যতামূলক, পেনশন প্রক্রিয়া সহজে জোর রাজ্যের

রাজ্য সরকারি কর্মী ও আধিকারিকদের সাধারণ বিমা ও সঞ্চয় প্রকল্প (জিআইএসএস) সংক্রান্ত তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে সার্ভিস বুকে অন্তর্ভুক্ত করার...

লক্ষাধিক রেশন কার্ড বাতিল, রাজ্যে জোরদার যাচাই অভিযান 

ভুয়ো রেশন কার্ড চিহ্নিত করতে দেশজুড়ে শুরু হওয়া বিশেষ অভিযানের প্রভাব পড়েছে পশ্চিমবঙ্গেও। রাজ্যে ইতিমধ্যেই তিন লক্ষের বেশি...