ভোটার তালিকায় বিভ্রাট: ‘বিচারাধীন’ খোদ বিধায়ক ও বিডিও, নাম কাটা গেল কাউন্সিলরের

রাজ্যে প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা (এসআইআর) প্রকাশিত হতেই তীব্র চাঞ্চল্য। খোদ জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সরকারি আধিকারিক— বাদ যাননি কেউই। আমডাঙার তিন বারের বিধায়ক রফিকুর রহমান থেকে শুরু করে বীরভূমের জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ, এমনকি সন্দেশখালির বিডিও-র নামও এখন কমিশনের খাতায় ‘বিচারাধীন’। তালিকায় নাম নেই নৈহাটির কাউন্সিলরেরও!
Sponsored

শনিবার বিকেলে রাজ্যের নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল যে তালিকা প্রকাশ করেছেন, তাতে দেখা যাচ্ছে রাজ্য জুড়ে প্রায় ৫ লক্ষ ভোটারের নাম সরাসরি বাদ পড়েছে ‘ডিলিটেড’ ক্যাটাগরিতে। খসড়া তালিকা এবং শুনানির পরবর্তী হিসাব মেলালে বাদের সংখ্যাটা আরও কয়েক লক্ষ। উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙার বিধায়ক রফিকুর রহমান ২০১১ সাল থেকে টানা তিন বার জয়ী হয়েছেন। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম ‘বিচারাধীন’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় আগামী নির্বাচনে তাঁর ভোটাধিকার নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। একই অবস্থা বীরভূমের দাপুটে নেতা কাজল শেখ ও তাঁর মায়ের। তাঁদের নামের পাশেও লেখা রয়েছে ‘বিচারাধীন’।
Sponsored

বিস্ময়ের এখানেই শেষ নয়। খোদ সরকারি আধিকারিক, সন্দেশখালি-১ ব্লকের বিডিও সায়ন্তন সেনের নামও রয়েছে বিচারাধীন তালিকায়। তিনি ভবানীপুর কেন্দ্রের ভোটার। নিজের নাম এমন তালিকায় দেখে তিনি জানান, পরবর্তী পর্যায়ে প্রয়োজনীয় নথি দাখিল করে নাম সংশোধনের চেষ্টা করবেন। বাদ পড়ার তালিকায় রয়েছেন নৈহাটি পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুশান্ত সরকার ও তাঁর মা আরতি সরকার। তাঁদের নাম সরাসরি ‘ডিলিটেড’ বা বাদ দেওয়া হয়েছে। ভোটার তালিকার কাজে যুক্ত থাকা কাটোয়ার একাধিক বিএলও-র নামও রয়েছে বিচারাধীন তালিকায়।
Sponsored

কমিশন সূত্রে খবর, কলকাতা থেকে সব মিলিয়ে প্রায় ৬ লক্ষ ২৬ হাজার নাম বাদ গিয়েছে। বাঁকুড়া, নদীয়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং দুই বর্ধমান জেলাতেও বাদের সংখ্যা কয়েক হাজার থেকে কয়েক লক্ষ পর্যন্ত। এই বিপুল পরিমাণ নাম বাদ পড়া এবং জনপ্রতিনিধিদের নাম বিচারাধীন থাকায় নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে একযোগে আক্রমণ করেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।
Sponsored

তবে এই বিতর্কের মাঝেই ডানকুনির কাউন্সিলর সূর্য দে-র ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। ভোটার তালিকায় নিজেকে ‘মৃত’ দেখে যিনি এক সময় শ্মশানে গিয়ে চুল্লিতে ঢোকার হুমকি দিয়েছিলেন, সেই সূর্যের নাম এবার নতুন ভোটার হিসেবে তালিকায় ফিরে এসেছে। নতুন তালিকায় নাম দেখে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইকে কৃতিত্ব দিয়েছেন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল অবশ্য স্বীকার করে নিয়েছেন যে, এই বিশাল কর্মযজ্ঞে কিছু ‘ভুলভ্রান্তি’ হয়েছে। তবে তাঁর দাবি, এই ভুল নিতান্তই সামান্য এবং যেখানে যেখানে অসংগতি ধরা পড়েছে, সেখানে দ্রুত পদক্ষেপ করছে কমিশন। আপাতত ‘অ্যাপ্রুভড’ তালিকায় থাকা ভোটাররাই নিশ্চিত, বাকিদের ভাগ্য ঝুলে রইল পরবর্তী শুনানির ওপর।
Sponsored

Sponsored

_
_
_
_
_
Related Articles

ফেসবুক লাইভে 'অবমাননাকর' মন্তব্য! মদন মিত্রকে ১০ কোটির নোটিশ অভিষেকের
6h ago

চলতি অর্থবর্ষেই সপ্তম বেতন কমিশন! বকেয়া ডিএ নিয়েও বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
8h ago

শিক্ষক বদলিতে ‘সুপারিশ-সংস্কৃতি’ শেষ, চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের সাম্মানিক বৃদ্ধির আশ্বাস শিক্ষামন্ত্রীর
8h ago

গ্রেফতারির পর আদালত থেকে জামিন পেলেন অসিত মজুমদার
10h ago

'প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর যোজনা' নিয়ে উপভোক্তাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক মুখ্যমন্ত্রীর
11h ago

ক্যাথেড্রাল রোডমুখী জনস্রোত, মমতার পথেই জনতা
11h ago





