নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী রাজ্যে ইনিউমারেশন ফর্ম ডিজিটাইজেশনের কাজ ৯৯.৯৬ শতাংশ সম্পূর্ণ হয়েছে। অথচ কমিশনের তথ্যে স্পষ্ট, একাধিক জেলায় ডিজিটাইজেশনের (digitisation) কাজ হয়েছে ৭৫ শতাংশের কাছাকাছি। কমিশনের (Election Commission) দাবি, পরিবারের সদস্যের সঙ্গে সম্পর্কের পাশাপাশি লিঙ্গের সমস্যায় (gender problem) তথ্য যাচাইয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। যে কারণে এখনও ডিজিটাইজেশন প্রক্রিয়া শেষ করা যাচ্ছে না। দাদু-ঠাকুমার বয়সের সঙ্গে ফারাককেও সেক্ষেত্রে অসংগতি বলে ধরেছে কমিশন। ফলে অসংগতিও বেড়েছে।

কমিশনের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যের মোট ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৮৬ হাজার ৬৫৮ জন ভোটারের মধ্যে ৭ কোটি ৬ লাখ ৯৮ হাজার ৬৪৯ জনের ফর্ম (enumeration form) ডিজিটাইজ করা সম্পূর্ণ হয়েছে। সব মিলিয়ে রাজ্যের প্রায় ৯৯.৯৬ শতাংশ ভোটারের তথ্য কমিশনের হাতে পৌঁছে গিয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, বীরভূম, দক্ষিণ দিনাজপুরের মতো জেলাগুলিতে ডিজিটাইজ ফর্মের হার ৯৩ থেকে ৯৬ শতাংশের মধ্যে। তবে উদ্বেগের বিষয় কলকাতা (Kolkata)। উত্তর কলকাতায় মাত্র ৭৪.০৭ শতাংশ এবং দক্ষিণ কলকাতায় ৭৬.১৭ শতাংশ ফর্ম ডিজিটাইজ হয়েছে। তুলনায়, জেলা শহর ও গ্রামাঞ্চল এই তালিকায় অনেকটাই এগিয়ে। হাওড়া, পশ্চিম বর্ধমান, কলকাতা ও তার আশপাশের শহরাঞ্চলে তুলনামূলকভাবে গতি কম।
নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই অঞ্চলগুলিতে ফর্ম সংগ্রহে নাগরিক অসহযোগিতা, পরিকাঠামোগত সমস্যা এবং প্রযুক্তিগত জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়েছে।

বাস্তবে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বয়সের পার্থক্যকে অসংগতি বলে ধরে ব্যাপক সংখ্যায় ভোটারের ডিজিটাইজেশনের কাজ আটকে গিয়েছে বলে দাবি কমিশনের। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় প্রজেনি-ম্যাপিং (progeny mapping) বা পিতামাতা বা সম্পর্কিত নামের ভিত্তিতে নতুন ভোটার চিহ্নিতকরণের ক্ষেত্রে বিপুল অসংগতি ধরা পড়েছে, বলে দাবি কমিশনের। কমিশনের যুক্তি লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ বা যৌক্তিক অসঙ্গতির তথ্য। জানা গেছে ৮৫ লক্ষ ১ হাজার ৪৮৬ জন ভোটারের বাবার নাম তালিকায় ভুল বা অমিল রয়েছে, যা মোট ভোটারের ১১.০৯ শতাংশ। ২৪ লক্ষ ২১ হাজার ১৩৩ জন ভোটারের সন্তান সংখ্যা ৬-এর বেশি। পিতা-মাতার সঙ্গে বয়সের ব্যবধানেও বড় অসঙ্গতি দেখা গিয়েছে। ১১ লক্ষ ৯৫ হাজার ২৩০টি ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরের কম, এবং আবার ৮ লক্ষ ৭৭ হাজার ৭৩৬টি ক্ষেত্রে বয়সের ফারাক ৫০ বছরেরও বেশি, যা বাস্তবিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এছাড়াও ৩ লক্ষ ২৯ হাজার ১৫২টি ক্ষেত্রে দাদু-দিদার সঙ্গে ভোটারের বয়সের পার্থক্য ৪০ বছরের কম। এই সব যুক্তিকে যৌক্তিক অসংগতি (logical discrepancy) বলে ধরেছে কমিশন।

আরও পড়ুন : মঙ্গলে খসড়া ভোটার তালিকা: প্রায় ২ কোটি ভোটারের শুনানির প্রস্তুতি কমিশনের

২০ লক্ষ ৭৪ হাজার ২৫৬ জন ভোটারের বয়স ৪৫ বছরের বেশি হয়েও ‘নতুন ভোটার’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। লিঙ্গ সম্পর্কিত তথ্যেও অমিল (gender discrepancy) রয়েছে। ১৩ লক্ষ ৪৬ হাজার ৯১৮ জন ভোটারের লিঙ্গের তথ্য সঠিক নয়, যা ভোটারের পরিচয়ের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এইসব ভোটারদের আবেদন পত্র ডিজিটাইজ হলেও তাঁদের শুনানিতে ডাকা হবে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে। এই তথ্যভান্ডার এখন রাজ্যের প্রতিটি জেলা নির্বাচন আধিকারিক ও ব্লক স্তরের কর্মীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত যাচাই ও সংশোধনের কাজ সম্পন্ন করা যায়। তবে এই সব ভোটাররা তাঁদের যুক্তি তুলে ধরারও সুযোগ পাবেন বলে দাবি কমিশের।

–

–
–
–
