রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ায় রাজ্য প্রশাসনের আধিকারিকদের কাঁধে বন্দুক রেখে সরকারি কর্মীদের মাঠে নামিয়ে নিজেদের কার্যসিদ্ধি করতে তৎপর নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। আদতে কীভাবে দিল্লির নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ পদ থেকে গোপন সফটওয়্যার (software) ব্যবহার করে ভোটার নাম ঢোকানো বা বাতিলের কাজ চালাচ্ছেন সিইসি জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar, CEC), ফাঁস করে দিয়েছেন তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। আর তারপরই রাজ্যের মুখ্যসচিবকে (Chief Secretary) টপকে জেলাশাসকদের (district magistrate) নির্দেশ দেওয়া শুরু নির্বাচন কমিশনের। দুই জেলার জেলাশাসকদের এইআইআর (FIR) করার নির্দেশ জারি কমিশনের।

ইনুমারেশন পর্বে ভোটার তালিকায় ভুয়া নাম (fake voter) তোলার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আগেই সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার দুই ও পূর্ব মেদিনীপুরের এক আধিকারিককে। সেই সঙ্গে রাজ্যের মুখ্য সচিবকে এফআইআর করার নির্দেশও দেওয়া হয়। তবে সাসপেনশন কার্যকর হলেও রাজ্য সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও এফআইআর দায়ের না হওয়ায় কমিশন এবার স্বতঃপ্রণোদিতভাবে জেলা শাসকদের এই পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছে।

সাসপেন্ড হওয়া আধিকারিকদের প্রশাসনিক পরিচয়ও স্পষ্ট করা হয়েছিল কমিশনের তরফে। দেবত্তম দত্ত চৌধুরী দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার গ্রামীণ উন্নয়ন শাখার ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর পদে কর্মরত ছিলেন। তথাগত মণ্ডল জয়নগর ব্লকে মহাত্মা গান্ধী কর্মসংস্থান প্রকল্পের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রাম অফিসার ছিলেন। বিপ্লব সরকার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার সংখ্যালঘু বিষয়ক দফতরের ডিস্ট্রিক্ট অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং সুদীপ্ত দাস তমলুক ব্লক পঞ্চায়েতের অ্যাকাউন্টস ও অডিট অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন।
তদন্তে কমিশন দাবি করেছে, ময়না ও বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় একাধিক অসত্য নাম সিস্টেমে ঢোকানো হয়েছিল। অভিযোগ, স্থানীয় বিএলওরা জানিয়েছেন, ওইসব ভোটারদের সম্পর্কে তাঁদের কাছে কোনও তথ্য ছিল না। কমিশনের পর্যবেক্ষণে এই বিষয়টি উঠে আসার পরই দুই জেলার জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের বিস্তারিত রিপোর্ট দিল্লিতে পাঠানো হয়। সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখেই সাসপেনশন ও এফআইআর করার নির্দেশ জারি করে নির্বাচন কমিশন।

আরও পড়ুন : অভিষেকের ব়্যাম্পে ‘ভূত’: এরকম বহু অভিযোগ, রিপোর্ট তলবে মেনে নিল কমিশন

অথচ নির্বাচন কমিশনের আধিকারিক সীমা খান্না কীভাবে সফটওয়্যার ব্যবহার করে ভোটার তালিকায় নাম ঢুকিছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি সিইসি জ্ঞানেশ কুমার। অভিষেকের নেতৃত্বে তৃণমূল প্রতিনিধিদল দিল্লির নির্বাচন কমিশনের দফতরে যাওয়ার পরই আশ্চর্যজনকভাবে রাজ্যের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তৎপরতা শুরু কমিশনের। সেখানেই প্রশ্ন উঠেছে, তবে কী কমিশনের কারচুপি ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়েই রাতারাতি পিঠ বাঁচাতে রাজ্যের প্রশাসনে হস্তক্ষেপ করে সরাসরি জেলাশাসকদের নির্দেশ জারির পথে নির্বাচন কমিশন।

–

–

–

–


