নির্বাচন কমিশন এমন অ্যাপ বানিয়েছে যেখানে সব ধরা পড়ে যাবে। বিরাট বক্তৃতার দেওয়া সত্ত্বেও কী যে ধরা পড়বে তার ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বঙ্গ বিজেপির নেতারা। আদতে নির্বাচন কমিশনও (Election Commission) যে জানে না তাঁদের তৈরি অ্যাপে আদৌ ঠিক কাজ হয়, না ভুল। কমিশনের বিশেষ অ্যাপে এক ভোটারের নাম একাধিক জায়গায় থাকলে অ্যাপে (ECI App) ধরা পড়বেই, গর্ব করে জানিয়েছিল কমিশন। এবার সেই কাজ করতেই ভোটারদের কাছে পাঠানো হচ্ছে ফর্ম (form)। জানতে চাওয়া হচ্ছে তাঁদের নাম একাধিক জায়গায় রয়েছে কি না! অর্থাৎ কমিশনের কোনও প্রযুক্তিই ধরতে পারে না কোনও ব্যক্তির একাধিক জায়গায় নাম রয়েছে কি না।

এবার সরকারি দফতরে কর্মরত আধিকারিক ও কর্মীদের (government worker) কাছ থেকে লিখিত হলফনামা (affidavit) নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করছে নির্বাচন কমিশন। কোনও সরকারি কর্মীর নাম দু’টি আলাদা বিধানসভা কেন্দ্রের (assembly constituency) ভোটার তালিকায় (voter list) রয়েছে কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত হতেই এই উদ্যোগ, জানানো হয়েছে কমিশনের তরফে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের দফতরগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাদের অধীনস্থ কর্মীদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট ফরম্যাটে ঘোষণা বা হলফনামা (Affidavit) সংগ্রহ করতে হবে। ওই ঘোষণাপত্রে কর্মীকে জানাতে হবে, তিনি বর্তমানে কোন ঠিকানায় বসবাস করছেন এবং বর্তমান ঠিকানার কোন বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম নথিভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি, আগে যে বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় নাম ছিল, সেখান থেকে নাম কাটার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তাও স্পষ্ট করে উল্লেখ করতে হবে। এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার আওতায় সেই নাম কাটার জন্য যথাযথ আবেদন করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে স্ত্রী বা সন্তানের নামও পুরনো তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তাও ঘোষণায় উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।
কার্যত নির্বাচন কমিশন এর মাধ্যমেই মেনে নিল তাঁদের ‘বিশেষ অ্যাপ’ আসলে ব্যর্থ। যে অভিযোগ ২০২৫ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) করেছিলেন, সেই অভিযোগ যে কতটা সত্যি, নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা তৈরিতে কতটা ব্যর্থ, তা আবার প্রমাণিত হল কমিশনের এই পদক্ষেপে। আদতে তাঁদের অ্যাপে বা প্রযুক্তিতে যে একাধিক জায়গায় ভোটার তালিকায় নাম থাকলে তা ধরা পড়ে না, মেনে নিল কমিশন।

আরও পড়ুন : SIR নিয়ে আবার সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূল: দলনেত্রীর ঘোষণার ২০ ঘণ্টার মধ্যে মামলা দায়ের

নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে শাস্তির পথেও যাবে এবার কমিশন। জানানো হয়েছে, এই ঘোষণাপত্র জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করে প্রয়োজন হলে সংশোধনী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কোথাও গাফিলতি বা ভুল তথ্য ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্মীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পথও খোলা থাকছে।

–

–

–

–


