জঙ্গলমহলের রাস্তায় কখন যে হাতি সামনে চলে আসবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আর সেই আতঙ্কে মাধ্যমিকের(Madhyamik) প্রথম দিনেই যাতে কোনো পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা দেওয়া বন্ধ না হয়, তার জন্য কোমর বেঁধে নামল প্রশাসন। সোমবার পশ্চিম মেদিনীপুরের( West Midnapore) জঙ্গলঘেরা পথগুলোতে দেখা গেল অন্যরকমের ছবি। পশ্চিম মেদিনীপুরে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের নিরাপদে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দিতে বিশেষ এসকর্টের ব্যবস্থা করল বনদফতর (Forest Department)।

ছাত্রজীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা মাধ্যমিক। মেদিনীপুর(Midnapore) গ্রামীণের গুড়গুড়িপাল ও নয়াগ্রামের মতো এলাকাগুলোতে হাতির উপদ্রব নতুন নয়। জেলার ১১টি চিহ্নিত ‘এলিফ্যান্ট করিডোর’ (Elephant Corridor) দিয়ে যাতায়াত করা পরীক্ষার্থীদের জন্য এদিন বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছিল বনদফতর। বন্যপ্রাণীর হামলা রুখতে জঙ্গলপথে বনদপ্তরের ‘ঐরাবত’ (Irravat )গাড়ি নামানো হয়। বনকর্মীরা হুটার বাজিয়ে এসকর্ট করে পড়ুয়াদের স্কুল পর্যন্ত পৌঁছে দেন, যাতে হাতি-সহ বন্যপ্রাণীর আক্রমণের কোনও ঝুঁকি না থাকে। আরও পড়ুন: ভূমিকম্পে কাঁপল জম্মু ও কাশ্মীর
শুধু বনদফতর নয়, খড়গপুর টাউন, আনন্দপুর, সবং থানা এবং শালবনীর পিড়াকাটা ফাঁড়ির উদ্যোগে পরীক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ফুল ও কলম। পরীক্ষার সকালে এই ছোট্ট শুভেচ্ছাই অনেকের মুখে হাসি ফোটায়। অন্যদিকে পরিবহণ ক্ষেত্রেও স্বস্তির খবর। জেলা বাস মালিক সংগঠনের পক্ষ থেকে আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল যে, পরীক্ষার্থীদের থেকে কোনো ভাড়া নেওয়া হবে না। সেইমতো এদিন জেলার বিভিন্ন রুটে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বাসে চেপেই পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছেছে ছাত্রছাত্রীরা। শহরের বিধায়ক সুজয় হাজরাকেও দেখা গেছে পরীক্ষার্থীদের হাতে জল ও কলম তুলে দিয়ে উৎসাহ দিতে। মেদিনীপুর শহরে বিধায়ক সুজয় হাজরা নিজে পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে ফুল, কলম ও জলের বোতল তুলে দেন।

পরীক্ষার্থী সংখ্যাতেও সামান্য বৃদ্ধি হয়েছে এ বছর। গত বছর পশ্চিম মেদিনীপুরে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছিল ৫৩,১৯৬ জন। এ বছর রেজিস্ট্রেশন করেছে ৫৮,৭৯০ জন। শেষ পর্যন্ত প্রায় ৫৬ হাজার পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দেবে বলে জানিয়েছেন মধ্যশিক্ষা পর্ষদ নিযুক্ত জেলা আহ্বায়ক সুভাষ হাজরা। রবিবার বিকেলে পর্ষদের সঙ্গে চূড়ান্ত বৈঠকের পর তিনি জানান, রবিবারও জেলার দুই পরীক্ষার্থীকে অ্যাডমিট কার্ড দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলাতেও কড়া নজর। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক জানিয়েছেন, প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রের মূল প্রবেশদ্বার ও স্ট্রংরুমে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকছে। কোনও পরীক্ষার্থী মোবাইল ফোন নিয়ে ধরা পড়লে তার সমস্ত পরীক্ষা বাতিল হবে। পরীক্ষাকেন্দ্রে পর্যাপ্ত জল ও আলোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

–

–

–
–
–
