সামাজিক সুরক্ষায় পাশে দাঁড়ানো আর নির্বাচনী দান-খয়রাতি এক নয়, তামিলনাড়ুর বিনামূল্যে বিদ্যুৎ প্রকল্প মামলায় এই রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহিপতিবার তামিলনাড়ুতে (Tamil Nadu) সর্বস্তরের গ্রাহকদের বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের (CJI Surya Kant)বেঞ্চে জানানো হয়, সব রাজ্যের এই ধরনের নীতির সমীক্ষা করা দরকার।রাজ্যগুলিকে তাদের বাজেটে স্পষ্ট করে দেখাতে হবে, এ ধরনের প্রকল্পের অর্থ জোগান কোথা থেকে আসবে। সুপ্রিম পর্যবেক্ষণের কথা প্রকাশ্যে আসতেই বাংলার একাধিক প্রকল্পের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ (Lakshmi Bhandar) থেকে কন্যাশ্রী, কৃষকবন্ধু থেকে সদ্য ঘোষিত ‘যুবসাথী’ (Yuba Saathi) প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার (Govt of West Bengal)। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর অনেকেই গোটা বিষয়টিকে ভোটমুখী মাস্টারপ্ল্যান বলে দাবি করছেন। রাজ্যের শাসকদলের তরফে অবশ্য স্পষ্ট বলা হয়েছে, এই ধরণের প্রকল্প আসলে সামাজিক সুরক্ষা বলয়ের অংশ। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীর হাতে নগদ পৌঁছে দিলে সেটা প্রকৃত অর্থে স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে। যেভাবে রাজ্যের জনমুখী প্রকল্প বাংলার প্রত্যেকটা মানুষের কাছে সাদরে সমাদৃত এমনকি দেশের বিভিন্ন রাজ্যেও অনুকরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাজ্যের বাজেটে গোটা বিষয়টি স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিন যদিও বাংলার কথা না হলেও শীর্ষ আদালতের মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বাড়ছে।

বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের (CJI Surya Kant) বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, অসামর্থ্যদের পাশে দাঁড়ানো আর ভোটের মুখে নির্বিচার খয়রাতি ব্যাপারটা এক নয়। বহু রাজ্য ইতিমধ্যেই আয়-ব্যয়ের ঘাটতিতে ভুগছে। এই অবস্থায় পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়া বড়সড় ভর্তুকি চালু করলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রভাবিত হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম বিচারপতিরা। কেন শেষ মুহূর্তে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ প্রকল্প ঘোষণা করা হল তা নিয়ে এদিন তামিলনাড়ু সরকারকে (Tamilnadu Government) প্রশ্ন করা হয়। আদালতের মনে করছে এই ধরনের সিদ্ধান্তে, বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থাগুলিকে হঠাৎ করেই শুল্ক নির্ধারণ ও বাজেটের হিসেব নতুন করে সাজাতে হচ্ছে। এইসব ভর্তুকির ফলে উন্নয়নের জন্য এক পয়সাও থাকছে না, সবই বিনামূল্যে পরিষেবা দিতে গিয়ে খরচ বাড়ছে সরকারের। এই টাকায় হাসপাতাল, স্কুলের উন্নতি করা যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি।

–

–

–

–

–

–

–



