দীর্ঘ টালবাহানা ও আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগের জট কাটতে শুরু করল। সুপ্রিম কোর্টের কড়া মনোভাবের জেরে নতিস্বীকার করে রাজ্যের পাঠানো তালিকা থেকেই উপাচার্যদের নাম ঘোষণা করতে বাধ্য হলেন আচার্য সিভি আনন্দ বোস। বৃহস্পতিবার আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা নিয়োগের সুপারিশ পত্র হাতে পেয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে কাজে যোগ দিয়েছেন।

রাজ্যের ৩৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজভবন ও নবান্নের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। আচার্যের গড়িমসি মনোভাবের কারণে পঠনপাঠন ও প্রশাসনিক কাজ বিঘ্নিত হচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। আদালতের নির্দেশে সার্চ কমিটির বাছাই করা তালিকা থেকে নাম চূড়ান্ত হলেও ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে রাজভবন থেকে দীর্ঘক্ষণ কোনও সুপারিশ পত্র পাঠানো হয়নি। সূত্রের খবর, নিজের অবস্থানে অনড় থেকে রাজভবন এই প্রক্রিয়া ঝুলিয়ে রেখেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই বাধা দূর হয়েছে।

প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, আচার্য উপাচার্য নিয়োগের অনুমতি দেওয়ার পর সেই ফাইল উচ্চশিক্ষা দফতরে যায়। সেখান থেকে নিয়োগপত্র পাওয়ার পরেই উপাচার্যরা দায়িত্ব গ্রহণ করেন। লোক ভবন থেকে এতদিন নির্দেশিকা না আসায় জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে ঘোষিত হওয়া হরিচাঁদ গুরুচাঁদ বিশ্ববিদ্যালয়, সংস্কৃত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়, বাবাসাহেব অম্বেডকর এডুকেশন ইউনিভার্সিটি, উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে ছিল।

বৃহস্পতিবার সেই জট কেটে যাওয়ায় উচ্চশিক্ষা মহলে স্বস্তি ফিরেছে। তবে পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নাম এখনও রাজভবন থেকে ঘোষণা করা হয়নি। শিক্ষাবিদদের একাংশের মতে, নির্বাচনের আগে উচ্চশিক্ষার এই অচলাবস্থা কাটানো জরুরি ছিল। নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার পর নবনিযুক্ত উপাচার্যরা এখন দ্রুত প্রশাসনিক কাজ গুছিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

আরও পড়ুন- রাজ্যে প্রশাসনিক রদবদল, নবান্নের নির্দেশে চার আইপিএস আধিকারিকের বদলি

_

_

_

_

_
_


