দীর্ঘ নয় বছরের অপেক্ষার অবসান। ২০১৭ সালে হুগলির বলাগড়ে ছেলেধরা সন্দেহে এক অধ্যাপকের স্ত্রী ও কন্যাকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা এবং পুলিশকে আক্রমণের ঘটনায় ২৫ জন অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করল আদালত। বৃহস্পতিবার চুঁচুড়া আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক এই রায় দান করেন। আজ, শুক্রবার এই মামলায় সাজা ঘোষণা হওয়ার কথা।

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৭ সালে। কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপকের স্ত্রী রঞ্জুবালা ঘোষ ও তাঁর মেয়ে অপর্ণা ঘোষ একটি মারুতি গাড়িতে চড়ে বলাগড়ের আসানপুর গ্রামে গিয়েছিলেন পরিচারিকার খোঁজে। সঙ্গে ছিলেন তাঁদের গাড়ির চালক বিশ্বনাথ মণ্ডল। সেই সময় এলাকায় রটে যায় তাঁরা ‘ছেলেধরা’। মুহূর্তের মধ্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গ্রাম। উত্তেজিত জনতা তাঁদের গাড়িটি ঘিরে ফেলে ব্যাপক মারধর শুরু করে। উন্মত্ত ভিড় গাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে মা ও মেয়েকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছলে গ্রামবাসীদের রোষের মুখে পড়ে পুলিশও। আক্রান্ত হন বলাগড় থানার অন্তত ১১ জন পুলিশ কর্মী ও সিভিক ভলান্টিয়ার। পুলিশ কোনোক্রমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ওই মহিলা ও তাঁর মেয়েকে উদ্ধার করে। এই ঘটনায় পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলা রুজু করেছিল।

মামলা চলাকালীন গ্রামবাসী, চিকিৎসক এবং আক্রান্ত পুলিশকর্মী সহ মোট ২৭ জন সাক্ষ্য প্রদান করেন। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আদালত প্রমাণের ভিত্তিতে ওই ২৫ জন অভিযুক্তকেই দোষী বলে চিহ্নিত করেছে। অভিযুক্তদের সিংহভাগই স্থানীয় আসানপুর গ্রামের বাসিন্দা।

আদালতের এই রায়ে খুশি রঞ্জুবালা দেবীর পরিবার। তাঁদের কথায়, ওইদিনের সেই বিভীষিকা আজও তাড়া করে বেড়ায়। দেরিতে হলেও সত্যের জয় হয়েছে। পুলিশ ও আইনজীবী মহলের মতে, গুজব ছড়িয়ে আইন হাতে তুলে নেওয়ার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছিল, এই রায় তার বিরুদ্ধে একটি কড়া বার্তা দেবে। এখন সকলের নজর আদালতের সাজা ঘোষণার দিকে।

আরও পড়ুন – দুয়ারে রেশন: সুপ্রিম কোর্টে ব্যাকফুটে কেন্দ্র, স্বস্তি রাজ্যের

_

_

_

_
_


