বিজেপির ইস্তেহারে রয়েছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে বেকারভাতা। নয়া জুমলা নিয়ে তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। শুক্রবার, কলকাতার (Kolkata) তৃণমূল ভবন থেকে পদ্মশিবিরের সংকল্পপত্রের একের পর এক পয়েন্ট তুলে নিশানা করেন অভিষেক। একটি ভিডিও দেখিয়ে বিজেপির দ্বিচারিতা প্রকাশ করেন তিনি।

তৃণমূলের সেনাপতির কথায়, “মহিলাদের স্বাবলম্বী করতে মাসে ৩০০০ টাকা দেবে। নতুন জুমলা।” এর পরে একটি ভিডিও অভিষেক দেখান, যেখানে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলছেন, দিল্লিতে ৮ মার্চের মধ্যে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে টাকা প্রবেশ করবে। তার পরেই এক মহিলা বলছেন, তিনি কোনও টাকা পাননি। আর বাংলায় শুভেন্দু অধিকারী-সহ বিজেপির নেতা-নেত্রীরা বলছেন লক্ষ্মীভাণ্ডার বন্ধ হয়ে যাবে বিজেপি ক্ষমতায় এলে। এই ভিডিও দেখিয়ে অভিষেক বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ২০২৫ সালে দিল্লি ভোটের আগে এই কথা বলেছিলেন। বলেছিলেন, ২৫০০ টাকা যাবে। আজও এক জন মহিলা টাকা পাননি। আমি বলছি না, মোদির প্রতিশ্রুতি! যেখানে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেটা বাস্তবায়িত করুন। মহারাষ্ট্রে সার্ভে করার নামে ৯০ হাজার মহিলাকে সুবিধা থেকে বাদ দিয়েছেন। বাংলার সরকার পরিবারের সব মহিলাকে টাকা দেন। কোনও প্রশ্ন, শর্ত ছাড়া টাকা দেয়। একটা রাজ্যে করে দেখান। দিল্লিতে পরিশুদ্ধ বায়ুই দিতে পারে না। তারা দেবে ৩০০০ টাকা?” ‘সংকল্পপত্র’ নিয়ে শাহের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, “মহিলাদের ৩ হাজার টাকা করে দেবেন। দিন না। কে নিষেধ করেছে? কেন্দ্রীয় সরকার তো যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো মানে না। ইডি, সিবিআই পাঠানোর সময় রাজ্য প্রশাসনকে জানায় না। সরাসরি টাকাও তো দিতে পারেন।”

এসআইআর-এ নাম বাদ নিয়ে শাহকে নিশানা করে অভিষেক (Abhishek Banerjee) বলেন, “আমি আশা করেছিলাম, যেভাবে গত ছ’মাস ধরে এসআইআর-এর নামে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি বাংলায় প্রহসন চালিয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসে আগে বাংলার মানুষের কাছে ক্ষমা চাইবেন তারপর বক্তব্য শুরু করবেন। তিনি ক্রোনোলজি, ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোটের কথা বলেছিলেন।”

দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করার বিজেপি দাবিকে নিশানা করে অভিষেক বলেন, “যারা দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করবে বলে দাবি করেছে, সবথেকে দুর্নীতিগ্রস্ত যারা বিভিন্ন প্রান্তের, যাঁদের উপর ভুরিভুরি অভিযোগ, ইডি-সিবিআই ডেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, পরেরদিন বিজেপিতে গিয়েছে, সব ধোয়া তুলসিপাতা হয়ে গিয়েছে।”

বিজেপির ইস্তেহার প্রকাশের সময় শাহ বলেন, বাংলায় ক্ষমতায় এলে সব সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের ডিএ সুনিশ্চিত করা হবে। ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম বেতন কমিশন চালু করা হবে। পাল্টা অভিষেক বললেন, “তিনি বাংলার বাজেট পড়েনইনি।”
আরও খবর: কোন শিল্পপতিকে বাঁচাতে হাসিনাকে আশ্রয়? অনুপ্রবেশ ইস্যুতে মোদি-শাহকে ধুয়ে দিলেন অভিষেক

বিজেপির চাকরির প্রতিশ্রুতিকেও কটাক্ষ করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন বলেন, “সারা বাংলা জুড়ে পাঁচ হাজার লোক দেখাক, যাকে নরেন্দ্র মোদির সরকার, গত ১২ বছর ক্ষমতায় থাকার পরে, কোনও যুবক বা যুবতীর হাতে একটা কর্মসংস্থানের নিয়োগপত্র তাঁদের কেন্দ্রের সরকার তুলে দিয়েছে।” তীব্র কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, একবার বলছে চাকরি দেব, আবার বলছে বেকারদের ভাতা দেব। ইস্তেহারই বিজেপির নয়া জুমলা-আক্রমণ তৃণমূল সেনাপতির।

–

–

–
–
