উত্তরপ্রদেশ থেকে ট্রেনে করে ৫০ হাজার লোক নিয়ে গিয়ে ভোট করিয়েছে ডাবল ইঞ্জিন রাজ্য অসমে! বাংলাতেও হাজার হাজার বহিরাগত (outsider) নিয়ে আসছে! বহিরাগত লোক ঢুকিয়ে অগণতান্ত্রিক চক্রান্তে ভোট করানোর নোংরা রাজনীতি নিয়ে বিজেপিকে তুলোধোনা করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার বসিরহাটের গোপালপুরে ব্রহ্মানন্দ বিদ্যাভবন স্কুলের মাঠে বসিরহাট উত্তরের (Basirhat Uttor) প্রার্থী তৌসিফুর রহমান-সহ বসিরহাট দক্ষিণের (Basirhat Dakshin) প্রার্থী সুরজিৎ মিত্র, বাদুড়িয়ার (Baduria) প্রার্থী বুরহানুল মুকাদ্দেম লিটনের সমর্থনে জনসভা থেকে বিজেপিকে তীক্ষ্ণ আক্রমণে ছিন্নভিন্ন করে তৃণমূলনেত্রীর সাবধানবাণী, বিজেপি দু’মুখো সাপ— ভোটের আগে একরকম, ভোটের পরে আর একরকম। বিজেপির ছোবল এড়াতে চাইলে তৃণমূলকেই ভোট দিন!
এদিন, বসিরহাটের সভা থেকে বাংলার সর্বময় জননেত্রী বিজেপির গোপন চক্রান্ত ফাঁস করে দিয়ে জানান, আমার কাছে খবর আছে, কোথাও কোথাও ভোটার তালিকায় আপনার নামের উপর পেস্ট করে বহিরাগত বিহার-ইউপির লোকেদের নাম ঢোকানো হচ্ছে। ডোর টু ডোর সার্ভে করে ওদের মুখোশ খুলে দেব। জল্লাদ, ধর্ষণকারীদের হাত থেকে বাংলাকে রক্ষা করব। দিল্লির জমিদার, জোতদারদের বিরুদ্ধে লড়তে হবে! দলনেত্রীর আরও সংযোজন, বিজেপির প্ল্যান এনআরসি করবে। ডিলিমিটেশন করে বাংলাকে তিন টুকরো করে দেবে। বাংলা ভাষায় কথা বললে বিহার, ওড়িশায় অত্যাচার করে। ওরা বলে এক, আর করে আর-এক। মিথ্যেকথার কারখানা। ভাঁওতাবাজির কারখানা। এসআইআরের নাম কাটার কারখানা। দাম বাড়াবার কারখানা। ওরা মানুষের যন্ত্রণা। বাংলাকে দেয় লাঞ্ছনা, বাংলাকে করে বঞ্চনা। তাই বলি বিজেপিকে ভোট দেবেন না! যদি কোনও অনুপ্রবেশকারী (infiltrator) ঢোকে, তা হলে অমিত শাহের (Amit Shah) পদত্যাগ করা উচিত। বাংলা অনুপ্রবেশকারীদের কারখানা নয়, এটা মানবিক মানুষের আশ্রয়ের ঠিকানা!
আরও পড়ুন : তৃণমূলের সঙ্গে গণতান্ত্রিকভাবে লড়াই করার সাহস নেই বিজেপির, তোপ মমতার
গণতন্ত্র বাঁচানোর ডাক দিয়ে বিজেপিকে তৃণমূল সভানেত্রীর আরও তীব্র আক্রমণ, দেশে যেন আর কোনও পার্টি নেই! যেন একটাই পক্ষ, বিজেপি-পক্ষ। আর কোনও নিরপেক্ষতা নেই। কিন্তু আমাদের একটাই পক্ষ, মানুষের পক্ষ। তাই বসিরহাট উত্তর ও দক্ষিণের মানুষকে বলব, আমার স্বার্থ নয়, আপনার স্বার্থে, আপনার পরিবারের স্বার্থে, আপনার অধিকারের স্বার্থে তৃণমূলকে ভোট দিন। আগের বারও যারা বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন, এবারে দেবেন না। ভোটের পরই ওরা বসন্তের কোকিলের মতো আবার উড়ে চলে যাবে। আর আপনার অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান কেড়ে নেবে। ঝড়-জল-বন্যায় থাকে না, শুধু সন্ত্রাস ও দাঙ্গা করে লোক মারে। এই দাঙ্গাকারী বিজেপিকে একটি ভোটও নয়! বাংলায় সম্প্রীতিই সংস্কৃতি। সেটা নষ্ট করতে চাইছে বিজেপি। তাই ওঁদের গণতান্ত্রিকভাবে থাপ্পড় মারতে হবে!
-
-
-
-
-
-
















