বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের আগে কার্যত সব নির্লজ্জতাকে ছাপিয়ে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। বিজেপির অঙ্গুলি হেলনে বাংলা দখল করতে এসআইআর করে ৩৪ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম বাদ দিয়েও নিশ্চিন্ত নয় নির্বাচন কমিশন। এবার বেছে বেছে শুধুমাত্র তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের, সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) ও তাঁর পরিবারের তল্লাশির নির্দেশ। আবার কোনও প্রথাগত নির্দেশিকা নয়, সেই হোয়াটসঅ্যাপ নির্দেশিকায় জারি হচ্ছে সেই সব নির্দেশ। এই নির্দেশে কীভাবে নির্বাচন কমিশন (Election Commission) ও বিজেপির নির্লজ্জভাবে বাংলা দখলের পর্দা ফাঁস হয়েছে, তা স্পষ্ট করা হল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে। বাংলাকে বদনাম করতে বিজেপি শাসিত রাজ্যে টাকা ঢুকিয়ে বিজেপি ও কমিশনের যৌথ চক্রান্ত ফাঁস করল তৃণমূল।

নির্বাচন কমিশন আরোপিত পুলিশ পর্যবেক্ষকদের (police observer) যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেখানে কীভাবে রাজনৈতিক দ্বিচারিতা স্পষ্ট হয়েছে তা তুলে ধরেন তৃণমূল রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আমরা যদি উল্টে বলি বিজেপির যে কেন্দ্রীয় বাহিনী, কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা যাঁদের আছে তাঁদের যদি এখন চেক করা শুরু হয়? অমিত শাহ (Amit Shah) যে রাজ্যে এসে বসে রয়েছেন তাঁর যাতায়াত সব চেক করা হোক। বিজেপির যাঁরা রাজ্যে আসছেন আগে পিছে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে তাঁরা টাকা বিতরণ করছন কিনা তাঁদেরও তদন্তের আওতায় আনা হোক। শুধুমাত্র তৃণমূলের যাঁরা নিরাপত্তা পান তাঁদের বিশেষত অভিষেকের চেক করার নির্দেশ আবার সেই হোয়াটসঅ্যাপে (Whatsapp)। একটা নির্বাচিত সরকারের পরিকাঠামো ভোটের মুখে বদলে প্রশাসন ও পুলিশে বিজেপির সুপারিশ করা লোকেদের বসানো। তা বাইরে থেকে টাকা ঢোকানোর জন্য, সেই প্রশ্ন তো উঠছে। এটা একটা সার্কুলার? শুধুমাত্র তৃণমূলের নিরাপত্তা প্রাপ্তদের তল্লাশি চলবে। আর বিজেপির নিরাপত্তা প্রাপ্ত যাঁরা আসছেন তাঁদের তল্লাশির প্রয়োজন নেই?

বাস্তবে এই নির্দেশিকায় রাজনৈতিক দ্বিচারিতা ছাড়া তৃণমূলের তরফে ভয়ের কোনও কারণ নেই, তাও স্পষ্ট করে দেওয়া হয় দলের তরফে। সেখানেই প্রশ্ন তোলা হয়, আমাদের লুকোনোর কিছু নেই। আমাদের নেতা নেত্রী বা প্রার্থীদের চেক করলে কিছু বেরোবে না। ওরা যাদের নিয়ে বলছে তাঁরা তো এই রাজ্যের বাসিন্দা। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে দিল্লি ও অন্য রাজ্য থেকে ভোটের সময়ে ঢুকেছে তাঁদের তল্লাশি হবে না কেন? তাঁরা যে বিপুল কনভয় নিয়ে যাতায়াত করছেন, যেখানে এসে উঠছেন, সেখান থেকে কোনও টাকা বিতরণ বা চক্রান্ত হচ্ছে কি না তার তদন্ত কে করবে?

যেভাবে নির্বাচনে কমিশনের দোসর হিসাবে ইডিকেও নির্বাচনের আগে মাঠে নামিয়েছে বিজেপি, তাতে তাদেরই সাংগঠনিক ব্যর্থতা আবারও প্রমাণিত। আদতে যে কমিশনের মতই ইডিও বিজেপির এক নির্লজ্জ অস্ত্র, প্রমাণে তৃণমূলের তরফে তথ্য পেশ মন্ত্রী ব্রাত্য বসুর (Bratya Basu)। তিনি তুলে ধরেন, পশ্চিমবঙ্গ এখন কসাইদের বধ্যভূমি। কসাইরা আসছে গুজরাট, দিল্লি থেকে। বাংলার বুক চিরে দেখছে আর কতটা রক্ত ঝরানো যেতে পারে। যখন ওদের নামে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে নির্বাচন চলাকালীন তখন অসম থেকে পুলিশ পাঠিয়ে বিরোধীদের হেনস্থা করে। বিরোধী মানেই দাগিয়ে দেবেন, হয় আপনার কাছে ইডি (ED) যাবে, নাহয় নির্বাচন কমিশন (ECI) যাবে। যাঁদের বিরুদ্ধে ইডি সমন পাঠিয়েছিল তাঁদের মধ্যে ২৩ জন নেতা ওয়াশিং মেশিনে সাফ হয়ে বিজেপিতে। ইডি এখনও পর্যন্ত ৫,৮৯২টি কেস করেছে। তার মধ্যে ০.১ শতাংশে শাস্তি হয়েছে।


যে নির্বাচন কমিশন বাংলায় টাকা ধরার নির্দেশ দিচ্ছে আদতে তাঁরা যে বাংলাকে বদনাম করার চক্রান্ত এর মধ্যে করেছে, তার প্রমাণ টাকার যোগানে বিজেপি রাজ্যগুলির পিঠ বাঁচানো। তথ্য পেশ করে ব্রাত্যর দাবি, ঝাড়খণ্ড, বিহার থেকে দিনের বেলা নগদ টাকা আসবে। এটাও ওরা জানে। পশ্চিমবঙ্গে ঢোকার পরে কেন? এর মধ্যে অনেকগুলো রাজ্য তো আপনাদের রাজ্য। ওখানেই টাকার ফ্লো আটকান। তার মানে তাঁরা গোটা রুটটা জানেন। ওনারা জানেন দিনের বেলা ঢুকবে। যদি কেউ জানে টাকাটা আসছে, আপনার সোর্স এত মজবুত, আপনি টাকার পরিমাণ, রুট, দিনের বেলা জানেন, সেখানে ইডি (ED) যাচ্ছে না কেন? অপেক্ষা কিসের? উত্তরপ্রদেশে, বিহারে, ঝাড়খণ্ডে আটকাতে পারছেন না। বাংলায় রক্তদান শিবিরে এসে টাকা ধরবেন। তাও ডায়মন্ড হারবার, ফতলা, কাকদ্বীপ, মগরাহাট, ক্যানিংয়ে।

–

–
–
–

