ভোরের কলকাতায় হুগলি নদীতে ক্যামেরা হাতে নৌকাবিহার প্রধনমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi)। রাজ্যে দ্বিতীয় দফার প্রচারের মাঝে শুক্রবার নৌকাভ্রমণ করলেন তিনি। নদীবক্ষ থেকে ক্যামেরা বন্দি করেন বিভিন্ন দৃশ্য। এরপরেই মোদির নৌকাবিহার নিয়ে মোক্ষম খোঁচা দিলেন তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক তথা বেলেঘাটার প্রার্থী কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। বলেন, “এদিকে ক্যামেরা হাতে ছবি তুলে পোস্ট করছেন। আর মনিপুর জ্বলছে। প্রধানমন্ত্রীর মনিপুর যাওয়ার সময় হচ্ছে না। মনিপুরের সৌন্দর্য দেখতে যান।”

এর পরেই সরস টিপ্পনিতে কুণাল বলেন, “দেখুন উনি ফটোশ্যুট করছেন, কলকাতা এত শান্তির জায়গা, যে নরেন্দ্র মোদি এই ভয়ঙ্কর গরমের মধ্যেও শাল দিয়ে ছবি তুলতে বেড়িয়েছেন। মাথায় সমস্যা হলে এই জিনিস দেখা যায়। মিঠুন চক্রবর্তী গরমকালে জোব্বা,মাথায় টুপি পরেন, এগুলো বিজেপির বৈশিষ্ট। যখন এগুলো দেখবেন বুঝে নেবেন বিষয়টা স্বাভাবিক নেই।“ এর পরেই আক্রমণ করে কুণাল বলেন, “ওইসবের ছবি তুললে কিছুই হবে না। প্রশ্ন উঠবে। মনিপুরে ছবি তোলেননি কেন?“ আরও পড়ুন: ট্রাইব্যুনালের ধীর গতি! নাম নিষ্পত্তিতে হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে যাওয়ার পরামর্শ শীর্ষ আদালতের
কেন্দ্রের বঞ্চনা প্রসঙ্গে কুণাল বলেন, “নমামী গঙ্গের টাকা দেওয়ার নাম নেই। গঙ্গা সংস্কারের ক্ষেত্রে কেন্দ্র দায়িত্ব পালন করছে না। এদিকে ক্যামেরা হাতে ছবি তুলে পোস্ট করছেন।“ মনিপুরে হিংসার ঘটনার পরেও যাওয়ার সময় হচ্ছে না প্রধানমন্ত্রীর। এই নিয়ে মোদিকে নিশানা করে তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক বলেন, “মনিপুর জ্বলছে। প্রধানমন্ত্রীর যাওয়ার সময় হচ্ছে না। মনিপুরের সৌন্দর্য দেখতে যান। সকলেই জানে যে বাংলা শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর। আর শুধু আপনিই নন এই জায়গায় কলকাতাবাসী, বাংলাবাসী, বিদেশ ও ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ দক্ষিণেশ্বর, বেলুড় মঠ, গঙ্গার ধার বেড়াতে আসেন এবং ছবি তোলেন। আপনি মনিপুরে গিয়ে একটা ছবি তুলুন। আপনি মনিপুরে আপনার কর্তব্য পালন করছেন না।“

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে গঙ্গার পাশের সৌন্দর্য্যায়নের কথা উল্লেখ করে মমতা বলেন, “গঙ্গায় যদি নিজের ছবি তোলেন গঙ্গা সংস্কারের যে কেন্দ্রীয় প্রকল্প, সেই টাকা দিচ্ছেন না। সুতরাং এটা সস্তা প্রচারের জন্য সন্দেহ নেই। সাধারণ মানুষ প্রতিদিন সেখানে যান। আগে গঙ্গার ধার অত্যন্ত জঘন্য অবস্থা ছিল। বাম জামানায় এখান দিয়ে কোন সুস্থ লোক যেতে পারত না। সৌন্দর্যায়ন করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন ওটা টেমস নদীর ধার মনে হবে। বিহারের ছেলে বিহারে চাকরি নেই বলে এখানে এসে দোকান দিয়েছে সেটাও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বানিয়ে দিয়েছেন আর উনি এসে সেখানে ছবি তুলে চলে গেলেন। গঙ্গার সংস্কারের টাকা উনি দেবেন না, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করে দেবেন উনি গিয়ে ছবি তুলে আসবেন। উনি ছবি তোলা প্রধানমন্ত্রী।“

প্রথম দফার ভোট প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ বলেন, “বিজেপি যে প্রচারটা করছে মোদির মুখ সামনে রেখে সেটা কী হচ্ছে। তিনি বলছেন তিনি ২৯৪ আসনে প্রার্থী। স্পষ্ট জানাচ্ছি ৪ঠা মে ফলাফলের পর বিকেলে নরেন্দ্র মোদিকে ইস্তফা দিতে হবে। এই প্রথম দেখা গেল কোনও প্রধানমন্ত্রী কোওন মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে হিমশিম খেয়ে নিজের পদটাকে সামনে রেখে ভোট লড়তে এসেছেন। এই পরাজয় মোদির পরাজয়।“

৯৩% ভোট নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত বিশ্লেষণ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিন্তু লাভজনক কিছুই যে হল সেই কথা স্পষ্ট করে কুণাল বলেন, “অমিত শাহ একজন ফ্লপ জ্যোতিষী। বুঝে গিয়েছেন বিজেপির কোমর ভেঙে গিয়েছে। কাল যে ভোট হয়েছে তাতে তৃণমূল কংগ্রেস ১২৫-১৩৫টি আসন পাবে। লোকসভা নির্বাচনের আগে বলেছিলেন ৪০০ পাবেন। ২৪০ পাননি। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বলেছিলেন ‘আবকি বার ২০০ পার’। ৭৭এ আটকে গিয়েছেন। বর্তমানে সংখ্যা ৬০। ফলে উনি যেটা বলেন আনুপাতিক হারে তার থেকে কম করে ধরতে হবে। গতকাল সবাই যেভাবে ভোট দিয়েছেন প্রশংসার যোগ্য। বুথে বিজেপির এজেন্ট পাওয়া যায়নি। বাংলা যেভাবে ফুঁসছে বিজেপির বিরুদ্ধে, এই লড়াইতে একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাশে ছিলেন আছেন, থাকবেন। এই ভোট বিজেপির বিরুদ্ধে। অমিত শাহ ও বিজেপি বুঝে গিয়েছে সবটাই। কর্মীরা যাতে মনবল না হারান দ্বিতীয় দফার জন্য তাই উনি এই ধরণের অলীক সংখ্যা ব্যবহার করছেন যার সাথে বাস্তবের কোন মিল নেই। আমরা শান্তিপূর্ণ ভোট চাই। মানুষ ভোট দিন, শান্তিপূর্ণ ভোট দিন। এখন পর্যন্ত এই গণ্ডগোলটা কে করেছে? সিপিএম করেছে, বিজেপি করেছে, বিরোধী দল করেছে। ২১ এর ভোটের পরেও বিজেপি কোনও সন্ত্রাসের অভিযোগ তোলেনি। এরকমই বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছিল। বাংলায় এমনিতেই শান্তিপূর্ণ ভোট হয়। বলেছিল সংসদ বাড়বে কিন্তু কমে গেল উল্টে। আপনাদের হাজার রকম যুক্তি আসছে রেজাল্টের পর।“

হেমন্ত বিশ্বশর্মার কুকথা নিয়ে কুণাল বলেন,”ওয়াশিং মেশিন শব্দটা হেমন্ত বিশ্বশর্মা ভালো বুঝবেন। ওনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল উনি বিজেপিতে গিয়ে ওয়াশিং পাউডার নির্মার মতো পরিষ্কার হয়ে গেছেন। আপনাদের আদি কর্মীদের বা মানুষের সাথে যে সমস্যা তার সাথে তৃণমূলকে জড়াচ্ছেন কেন? এই যে বাইরে থেকে নেতারা এসে বাজার গরম করে দেন, কর্মীরা যদি তার ওপর নির্ভর করে অশান্তি করে তাহলে জানবেন নিউটনের তৃতীয় সূত্র আছেই। আমরা চাই শান্তি থাকুক। যা করবেন নিজের দায়িত্বে করবেন। পরে তৃণমূলকে দোষ দেবেন না। এখানে সেনা নামিয়ে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করে বাংলাকে ভয় পাওয়ানো যায়না সেই কথা বিজেপির কাছে স্পষ্ট হওয়া দরকার।“

SIR-এর পরে ভোটগ্রহণের নিয়ে তৃণমূলের বেলেঘাটার প্রার্থী বলেন, “বিচারব্যবস্থাকে সম্মান জানিয়েই বলব ২০২১ সালেও ভোট অবাধ শান্তিপূর্ণ হয়েছে। বিজেপি দাবি করেছিল তারা জিতছে। বিজেপি রিপোল দাবি করেনি। কিন্তু যখন গ্যাস বলুন মাটিতে আছড়ে পড়ল তারপর থেকেই অশান্তি শুরু করল। বাংলায় ভোট উৎসবের মেজাজে আগেও হত এবারেও হয়েছে। যত বেশি হারে ভোট পড়েছে তত বেশি জোরালো ভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যাবর্তন হয়েছে।“
–
–
