রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় আজ ৮টি নির্বাচনী(Election) জেলার ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ শুরু হল। দ্বিতীয় দফায় অন্তর্ভুক্ত নদীয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান, কলকাতা উত্তর ও কলকাতা দক্ষিণ। কড়া নিরাপত্তায় দ্বিতীয় দফায় ভোট হচ্ছে।সকাল সাতটা থেকে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ(Election)।

নির্বাচন কমিশন(EC) জানিয়েছে, এই দফায় মোট ৪১ হাজার ১টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র খোলা হচ্ছে। এর মধ্যে ৩৯ হাজার ৩০১টি প্রধান এবং ১ হাজার ৭০০টি অক্সিলিয়ারি কেন্দ্র। শহরাঞ্চলে ১৪ হাজার ২১৮টি এবং গ্রামাঞ্চলে ২৫ হাজার ৮৩টি প্রধান কেন্দ্র রয়েছে। মোট কেন্দ্রের মধ্যে ৮ হাজার ৮৪৫টি সম্পূর্ণ মহিলা পরিচালিত। পাশাপাশি ২৫৮টি মডেল কেন্দ্র এবং ১৩টি বিশেষ ভাবে স্বক্ষম কর্মীদের পরিচালিত কেন্দ্র রাখা হয়েছে। গড়ে প্রতি কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ৭৮৫।
দ্বিতীয় দফায় মোট ১ হাজার ৪৪৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে ২২০ জন মহিলা। আয়তনের নিরিখে সবচেয়ে বড় কেন্দ্র কল্যাণী এবং সবচেয়ে ছোট জোড়াসাঁকো। ভোটার সংখ্যার বিচারে সবচেয়ে বড় কেন্দ্র চুঁচুড়া, আর সবচেয়ে ছোট ভাটপাড়া। প্রার্থীর সংখ্যায় ভাঙড়ে সর্বাধিক ১৯ জন এবং গোঘাটে সবচেয়ে কম ৫ জন প্রার্থী রয়েছেন।

ভোটারদের মধ্যে সার্ভিস ভোটার ৩৯ হাজার ৯৬১ জন। বিশেষ ভাবে স্বক্ষম ভোটার রয়েছেন ৫৭ হাজার ৭৮৩ জন। ১৮ থেকে ১৯ বছর বয়সী নতুন ভোটারের সংখ্যা ৪ লক্ষ ১২ হাজার ৬৬৮। ৮৫ বছরের বেশি বয়সী ভোটার ১ লক্ষ ৯৬ হাজার ৮০১ জন এবং ১০০ বছরের ঊর্ধ্বে ভোটার ৩ হাজার ২৪৩ জন।

কলকাতার দুই নির্বাচনী জেলা মিলিয়ে ১১টি আসনে ভোট হবে। কলকাতা উত্তরে মোট ভোটার ১০ লক্ষ ৮৪ হাজার ১৭২। এর মধ্যে পুরুষ ৫ লক্ষ ৫৬ হাজার ৯৯২, মহিলা ৫ লক্ষ ২৭ হাজার ১৪৪ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ৩৬ জন। পিডব্লিউডি ভোটার ৯৪২। অন্যদিকে কলকাতা দক্ষিণে মোট ভোটার ৬ লক্ষ ৭৯ হাজার ১৭৩। পুরুষ ৩ লক্ষ ৪৪ হাজার ৯১১, মহিলা ৩ লক্ষ ৩৪ হাজার ২৩৮ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ২৪ জন। এখানে পিডব্লিউডি ভোটার ৪১১।

মঙ্গলবারই ডিসিআরসি থেকে ইভিএম ও ভিভিপ্যাট-সহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে ভোটকর্মীরা কেন্দ্রে পৌঁছে গিয়েছেন। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় দফায় নজিরবিহীন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ১৪২টি আসনে মোট ২৭৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য পুলিশ ও ভিনরাজ্যের পুলিশও দায়িত্বে রয়েছে।

ভোটকে কেন্দ্র করে কলকাতায় যান চলাচলে একাধিক নিয়ন্ত্রণ জারি করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ও বুধবার ভোর ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এই নিয়ন্ত্রণ বলবৎ থাকবে। গণনার দিন ৪ মে-ও একই ধরনের ব্যবস্থা থাকবে। কসবার অ্যাক্রোপলিস মল সংলগ্ন এলাকা ও গীতাঞ্জলি স্টেডিয়ামের পিছনের রাস্তা একমুখী করা হবে। আলিপুর জজ কোর্ট সংলগ্ন পশ্চিমমুখী রাস্তা বন্ধ রেখে বিকল্প পথে যান চলাচল ঘোরানো হবে। হরিশ মুখার্জি রোড, হাজরা রোড-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় সময়ভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ থাকবে।

কিছু এলাকায় বাস ও অটো রুট পরিবর্তন করা হয়েছে। অকল্যান্ড রোড ও লর্ড সিন্হা রোডে আংশিক বা সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা থাকবে। গণনার দিন ডায়মন্ড হারবার রোড, প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোড-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি বহু এলাকায় পার্কিংয়েও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে, বিশেষ করে গণনাকেন্দ্রের আশেপাশে।
দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানান, প্রথম দফার অভিজ্ঞতাকে ভিত্তি করে আরও সুসংহত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, নির্বাচনকে আলাদা ফেজ হিসেবে নয়, গোটা রাজ্যের সামগ্রিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসন, বাহিনী ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রথম দফা শান্তিপূর্ণ হয়েছে, দ্বিতীয় দফাতেও সেই ধারাই বজায় থাকবে।
তিনি আরও জানান, ১৪২টি আসনে ভোট হওয়ায় এলাকা নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকরভাবে করা সম্ভব হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভোটারদের উদ্দেশে তাঁর স্পষ্ট বার্তা—কোনও ভয়ভীতি নয়, নিজের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করতে নিশ্চিন্তে ভোটকেন্দ্রে আসুন।
সব মিলিয়ে, কড়া নিরাপত্তা ও কড়াকড়ি নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সব প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
–
–
–
–
–
