উর্দিধারী পুলিশের কঠোর আবরণের আড়ালে যে এক সংবেদনশীল মন লুকিয়ে থাকে, তার প্রমাণ মিলল শুক্রবার। থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত তিন বছরের এক একরত্তি শিশুর জীবন বাঁচাতে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন রাজগঞ্জ থানার আইসি অমিতাভ দাস। দুর্লভ গ্রুপের রক্ত দিয়ে ওই শিশুর পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার এক অনন্য নজির গড়লেন তিনি।

পুলিশ সূত্রে খবর, ধূপগুড়ির বাসিন্দা সুভাষ দাসের তিন বছরের কন্যাসন্তান সুরেনা দীর্ঘ দিন ধরে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনের ওপরই তার জীবন নির্ভরশীল। শুক্রবার আচমকাই শিশুটির জন্য জরুরি ভিত্তিতে রক্তের প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু রক্তদাতার অভাব ও রক্তের গ্রুপ ‘বি নেগেটিভ’ হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়ে পরিবারটি। উল্লেখ্য, এই গ্রুপের রক্ত অত্যন্ত অপ্রতুল।
খবরটি পাওয়ামাত্রই নিজের সমস্ত পেশাগত ব্যস্ততা সরিয়ে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ছুটে যান রাজগঞ্জ থানার আইসি অমিতাভ দাস। ব্লাড ব্যাংকে পৌঁছে তিনি নিজেই এক ইউনিট রক্ত দান করেন। পুলিশ আধিকারিকের এই তৎপরতায় প্রাণ ফিরে পায় শিশুটি। জানা গিয়েছে, গত দু’বছরে এই নিয়ে অন্তত ছয়বার রক্তদান করলেন তিনি। অমিতাভবাবুর নিজের রক্তের গ্রুপও বি নেগেটিভ হওয়ায় এই ধরনের সংকটে তিনি বরাবরই অগ্রণী ভূমিকা নেন।

রক্তদানের পর আইসি অমিতাভ দাস বলেন, “রক্তদান যে একটি মহৎ কাজ, তা সাধারণ মানুষকে বোঝাতেই আমরা নিয়মিত দফতরে শিবিরের আয়োজন করি। কিন্তু আমরা নিজেরা যদি এগিয়ে না আসি, তবে সাধারণ মানুষ উৎসাহিত হবেন কেন? থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুটির সংকটের কথা শুনে স্থির থাকতে পারিনি। একে আমি কেবল মানবিক কর্তব্য বলেই মনে করি।”

জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশের ‘উৎসর্গ’ কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যে নিরন্তর প্রয়াস চলে, অমিতাভবাবুর এই পদক্ষেপ তাকেই আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে দিল বলে মনে করছে জেলা পুলিশ প্রশাসন। পুলিশের এই মানবিকতায় আপ্লুত শিশুটির পরিবার। কর্তব্যের চাপে যখন মানবিকতা অনেক সময় আড়ালে চলে যায়, তখন একজন পুলিশ আধিকারিকের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন চিকিৎসক থেকে সাধারণ নাগরিক— সকলেই।

আরও পড়ুন – ৯ ঘণ্টা পর সিজিও-র বাইরে সুজিত: ‘তদন্তে সহযোগিতা করব, তবে যেন হেনস্থা না হয়’

_

_
_
_
_
